বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

স্বাস্থ্য প্রশাসনে পরিবর্তন হলেও খুলনায় অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক ব্যবসা বহাল

মে ২৯, ২০১৫ 111 views 0
স্বাস্থ্য প্রশাসনে পরিবর্তন হলেও খুলনায় অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক  ব্যবসা বহাল

প্রথম নিউজ ডেক্স :  স্বাস্থ্য প্রশাসনে কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। কিন্তু পরিবর্তন হয়না খুলনার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার। বরং পাল্লা দিয়ে চলছে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ম্যানেজ করে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে।কোন কোন ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার অগোচরে নতুন লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, শয্যা বৃদ্ধির আবেদন সংক্রান্ত পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয় এমন নজিরও রয়েছে। আর এজন্য ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অংকের অর্থ।স্বাস্থ্য বিভাগকে ম্যানেজ করে ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার পরিচালিত হওয়ায় রোগীদের কাছ থেকে এসব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আদায় করেন বাড়তি অর্থ। অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে রোগীদের করা হয় সর্বস্বান্ত। যা’ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার সরকারী লক্ষ্যের পরিপন্থী বলেও অনেকে মনে করেন।

 
স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিদায়ী স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ অনিল চন্দ্র দত্তের বিদায়ের আগে সাউথ সেন্ট্রাল রোডের শেফা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, বি.কে. রায় রোডের শিবসা নার্সিং হোম, শামসুর রহমান রোডের কেয়ার ডায়াগনষ্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, কেডিএ এভিনিউর খানজাহান আলী হসপিটালসহ বেশ কিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার পরিদর্শন প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। এর কোনটি নতুন লাইসেন্স প্রদান, কোনটি নবায়ন আবার কোনটির শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে। এসব প্রতিবেদন দেয়ার নামে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমপক্ষে অর্ধলক্ষ টাকা করে আদায় করা হয় বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। আর এ অর্থ আদায়ের মূল দায়িত্ব পালন করেন স্বাস্থ্য বিভাগে পেইন্টার থেকে উচ্চমান সহকারী হওয়া এক ব্যক্তি। যিনি পেইন্টার হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগে যোগদান করে এখন খুলনার উচ্চমান সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খুলনা বিএমএ’র একজন শীর্ষ নেতার আস্থাভাজন হওয়ায় যে কোন পরিচালককেই তিনি বস করেন এমনটিও আলোচিত হয় স্বাস্থ্য দপ্তরে।

 
স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রটি জানায়, খুলনা মহানগরীতে ৭৩টি ক্লিনিক ও ৫৮টি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থাকলেও এর মধ্যে ২৬টিরই লাইসেন্স নেই। এছাড়া যেসব ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের লাইসেন্স রয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করে না। অধিকাংশ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টার পরিচালিত হয় সরকারী হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের মালিকানায়। এর ফলে সরকারী হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নেয়া হয় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের প্রতিষ্ঠানে। কখনও আবার রোগী নেয়া সম্ভব না হলে কৌশলে সরকারী হাসপাতালের যন্ত্রপাতি অচল দেখিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয় ওই ডাক্তারের প্রতিষ্ঠানে। যন্ত্রপাতি সংস্কারের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দায়সারাগোছের পত্র দিয়েই ওইসব চিকিৎসক নিরব থাকেন।

 

সম্প্রতি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাসট্রো এন্টারোলজী বিভাগের এন্ডোস্কপি মেশিন অকেজো হওয়া এমনই একটি উদাহরণ বলেও কয়েকজন রোগী জানান। এমনকি ওই মেশিনটি গত ২২ মে অকেজো হলেও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে পত্র লেখা হয় ২৩ মে। যেটি তত্ত্বাবধায়কের হস্তগত হয় ২৪ মে। ওইদিন তিনি স্বাক্ষর করে পাঠান হিসাব বিভাগে। হিসাব বিভাগে ওই পত্রটি পৌঁছে ২৫ মে। এর পরদিন হিসাব বিভাগ থেকে পত্রটি পাঠানো হয় ঢাকাস্থ জাতীয় ইলেক্ট্রো চিকিৎসাবিদ্যা : যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মশালা, ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে(নিমিও)। সেখান থেকে অনাপত্তি দেয়া হলে স্থানীয়ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া যাবে। অন্যথায় মেশিনটি অকেজোই পড়ে থাকবে। আর নিমিও’র অনাপত্তি আসতে আসতেই পেরিয়ে যাবে মাস। তার পর আবার স্থানীয়ভাবে টেন্ডার বা কোটেশনের প্রশ্ন।

 

ইতোমধ্যে সরকারী হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরও সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকের নিজস্ব মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে করা হবে কয়েকশ’ এন্ডোস্কপি। সরকারী হাসপাতালে একটি এন্ডোস্কপি করতে যেখানে মাত্র ৬শ’ টাকা লাগে সেখানে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে করাতে প্রয়োজন ১২শ’ টাকা। এভাবে প্রতিটি পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্যই রোগীদের কাছ থেকে নিরবেই হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। যার সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চিকিৎসক এসোসিয়েশনগুলো, সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানাভাবে জড়িত।

 

অপরদিকে, সরকারী হাসপাতালের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে যেসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে সেগুলোও পরিচালিত হয় সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দিয়ে। এসব রোগীদের কৌশলে ওইসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে এবং কোয়াক ডাক্তারদের বিশেষজ্ঞ সাজিয়ে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় এসব অর্থ। রোগী ধরতে হাসপাতালের বহির্বিভাগে নিয়োজিত থাকে ডজন ডজন দালাল চক্র। অনেক সময় ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিকরাও হাসপাতালে এমনভাবে বিচরণ করেন রোগীদের কাছে মনে হয় তারা হাসপাতালের কর্মকর্তা বা কর্মচারী।

 
স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রটি জানায়, মহানগরীর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো দেখভালের জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বাস্থ্য পরিচালক আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিভিল সার্জন। পক্ষান্তরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর তদারকির মূল দায়িত্বটি পালন করে থাকেন সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনবৃন্দ। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর পর এখান থেকে নবায়ন করা হয়। কিন্তু নতুন লাইসেন্স দেয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে।

 

খুলনার স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের সূত্রটি জানায়, বর্তমানে শুধুমাত্র খুলনা মহানগরীতেই ২৬টি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে লাইসেন্সবিহীন। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সবিহীন থাকলেও জনবল সংকটের কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। খুলনার স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ মাসুম আলী বলেন, তিনি যেহেতু সদ্য যোগদান করেছেন সেহেতু অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টার কতগুলো আছে সে সম্পর্কে এখনও অবহিত হতে পারেননি। আগে অবৈধ ক্লিনিকের তালিকা করে তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ