প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ আগষ্ট, ২০১৭
সুখী অর্থনীতির দেশ
সুখী অর্থনীতির দেশ

 

প্রথম নিউজ ডেক্স : বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম সুখী অর্থনীতির দেশ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা মিডিয়ার ব্যবসা-অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম কোয়ার্টজের ভারতীয় সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

 

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.১ শতাংশ, যা ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। টানা ছয় বছর বাংলাদেশের জিডিপি বেড়েছে ৬ শতাংশেরও বেশি হারে। দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতির এ গতি অব্যাহত থাকবে।

 

ঋণমান সংস্থা মুডিসও বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এমন শক্তিশালীই থাকবে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলা হয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে দেশের সার্বিক আয়ের তুলনায় দরিদ্রতম ৪০ শতাংশ পরিবারের গড় আয় বেড়েছে ০.৫ শতাংশ বেশি হারে।

 

অথচ একই সময়ে ভারতের ৪০ শতাংশ দরিদ্র পরিবারের আয়ের প্রবৃদ্ধি জাতীয় গড় আয়ের প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম হয়েছে। ‘বাংলা বুম : ওয়ান অব দ্য ওয়ার্ল্ডস হ্যাপিয়েস্ট ইকোনমিক স্টোরিজ কামস ফ্রম সাউথ এশিয়া, নাট নট ইন্ডিয়া’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনের মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে। ১৯৯১ সালে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ ছিল চরম দারিদ্র্যে।

 

যা এখন ১৪ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশে চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে পাঁচ কোটি। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে তৈরি পোশাক খাত ও এনজিওগুলোকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে তৈরি পোশাক খাত অবদান রাখলেও সামগ্রিকভাবে কৃতিত্ব বাংলাদেশের পরিশ্রমী মানুষের। বিশেষত কৃষকের।

 

যারা ক্ষুদ্র আয়তনের এই দেশের সীমিত জমিতে ফসল ফলিয়ে দেশকে খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে নিয়ে গেছেন। গ্রামের মানুষের বসতঘরের পাশের সামান্য খোলা জায়গায়ও উৎপাদন হচ্ছে তরিতরকারি। লাখ লাখ মুরগির খামার গড়ে তুলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা দেশকে আমিষ চাহিদার ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছেন।

 

বিদেশে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ কর্মরত। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যেমন সমৃদ্ধি করছে তেমন কোটি কোটি মানুষের জীবনে দিয়েছে নিশ্চয়তার ছোঁয়া