বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সিটি নির্বাচনে
জাপার ফল বিপর্যয় ও নির্বাচন বর্জন না করায় বাবলুর ওপর ক্ষোভ

এপ্রিল ৩০, ২০১৫ 88 views 0
<span style='color:red;font-size:25px;'>সিটি নির্বাচনে</span><br> জাপার ফল বিপর্যয় ও নির্বাচন বর্জন না করায় বাবলুর ওপর ক্ষোভ

প্রথম নিউজ প্রতিবেদক : তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি ও প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তের ঘটনায় দলটিতে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সিটি নির্বাচনে ফল বিপর্যয় ও নির্বাচন বর্জন না করায় খোদ দলের মহাসচিবকেই দায়ী করছেন জাপার শীর্ষ নেতারা।

সূত্রমতে, সরকারের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ এরশাদের সমঝোতা অনুযায়ী মেয়র পদে সরকারি দলের প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার বদৌলতে জাপা সমর্থিত ৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের নির্বাচনে সকাল থেকেই সেই আলামত না দেখা যাওয়ায় এরশাদ খুবই ক্ষুব্ধ হন। ক্ষুব্ধ হয়েছেন নেতাকর্মীরাও।

প্রত্যক্ষদর্শী জাপা নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর বুধবার থেকেই জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরশাদের কর্মচারী ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায়নি। দলের অফিসেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে। নেই নেতাকর্মীদের আনাগোনাও।

জাতীয় যুব সংহতির এক নেতা বলেন, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা যাতে কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালাতে না পারেন এ জন্যই কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত তিনজন মেয়র প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন।

জাপার যুগ্ম-মহাসচিব বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন মাত্র ২৯৫০ ভোট, যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক পেয়েছেন ৪৬০১১৭ ভোট। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে নির্বাচন করে পেয়েছেন মাত্র ৪৫১৯ ভোট, যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন পেয়েছেন ৫৩৫২৯৬ ভোট ।

চট্টগ্রাম সিটিতে আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ মেয়র পদে নির্বাচন করে পেয়েছেন মাত্র ৬১৩১ ভোট। সেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী পেয়েছেন ৪৭৫৩৬১ ভোট। জাতীয় পার্টি ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সংসদের প্রধান বিরোধী দল।

জাতীয় পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে যখন প্রতিটি কেন্দ্র দখল করে সরকারদলীয় লোকজন জাল ভোট দিচ্ছিলেন তখনই নির্বাচন বর্জন করতে চেয়েছিলেন এরশাদসহ জাপার প্রার্থীরা।

সূত্রমতে, নির্বাচনের আগে সোমবার রাতে এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কেও এমন সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই রাতে এরশাদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও এস এম ফয়সল চিশতী।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক নেতা জানান, মঙ্গলবার নির্বাচনে ঝামেলা হলে ও কাউন্সিলর পদ না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে দলের অবস্থান ঠিক রাখতে জাপা নির্বাচন বর্জন করবে। এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন পার্টির চেয়ারম্যান। সঙ্গে কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিতে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা অব্যাহত রাখতে বাবলুকে নির্দেশ দেন এরশাদ।

সূত্রমতে, মঙ্গলবার নির্বাচনে জাপা সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিতে থাকলে এরশাদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত জানাতে ঢাকার সকল মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের তার বারিধারার বাসায় ডাকেন। সেখানে উপস্থিত হন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এস এম ফয়সল চিশতী, যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম নুরু প্রমুখ।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলে এরশাদ তখনই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। দুপুর ১টার দিকে এরশাদের কক্ষে মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু প্রবেশ করে আলাভাবে কথা বলেন। এরপর বাবলু সবাইকে বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা নির্বাচন বর্জন করছি না।’

সেদিন এরশাদের বাসায় থাকা জাপার একজন দায়িত্বশীল নেতা বুধবার এ কথা জানান। এরপরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। জাপার প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সদ্য অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সোলায়মান আলম শেঠ দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘জাপার মহাসচিব বাবলুর ন্যক্কারজনক ভূমিকার কারণে আমাদের দলের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। তিনি বিরোধীদলের মহাসচিব হয়ে সরকারি দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তার কারণেই আমাদের এই ফল বিপর্যয় হয়েছে। আমরা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবো।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাপার দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী মহাসচিবের দিকে অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘সব ভোট কেন্দ্র সকালেই দখল হয়ে গিয়েছিল। আমি তো সকালেই ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন বর্জন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পার্টির মহাসচিব তো আমায় করতে দেননি। পার্টি করলে তো পার্টির সিদ্ধান্ত মানতেই হবে।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ