Wednesday, ১৬ আগষ্ট, ২০১৭

রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বনাম শিষ্টাচারের অধঃপতন

জুন ২৮, ২০১৭ 940 views 0
রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বনাম শিষ্টাচারের অধঃপতন

সায়েক এম রহমান :

ত লিখাটি লিখছিলাম ৩০শে মে, অতঃপর চলে আসলো মাহে রমজান।পবিত্র মাহে রমজানে ঘটে গেলো অনেক ঘটনা রটনা। (১) ডিজিএফআই এর রিপোর্ট ফাঁস তাতে আগামী নির্বাচনে ৩০ আসনের উপরে আসন পাবেনা আওয়ামী লীগ। (২) রাতের আঁধারে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য স্থানান্তর। (৩) ভাস্কর্য না থাকলে মসজিদও থাকার দরকার নাই। (৪) ২৪ ঘন্টার মধ্যে সুলতানা কামালকে গ্রেফতারের জন্য হেফাজতের গরম পরক্ষনে নরম। (৫) ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া। (৬) অর্থ মন্ত্রীর বাজেট ঘোষণায় এক লক্ষ টাকার উপরে ব্যাংকে সঞ্চিত আমানতের উপর কর আরোপ। (৭) আওয়ামী লীগ ও পুলিশ এর আক্রমণে বিএনপির ইফতার মাহফিল পন্ড। (৮) পার্বত্য অঞ্চলে দুর্গত মানুষদেরকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আহত ত্রাণ সামগ্রী লুন্ঠন ইত্যাদি।

 

পবিত্র মাহে রমজানে এতসব ঘটনা রটনা, প্রতিদিনই মনস্থ করি আজ লিখবো কাল লিখবো কিন্তু লিখা আর হয়না। কারণ রমজান মাস সময় স্বল্প।এমনি দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে লেখালেখি করি, আজ শেষ রমজান। সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখাটি শুরু করলাম, কোনটি লিখবো কোনটি না ভাবতে পারছিনা, দেখি কোনদিকে যাওয়া যায়।

 

পাঠক সিয়াম ও সাধনার মাস রমজান মাস। যার গুরুত্ব আধ্যান্তিক সামাজিক ও নৈতিক সর্বদিক দিয়ে বিস্ত্রিত। এ রমজানের মধ্যে নিহিত আছে মহান সৃষ্টিকর্তার অকুন্ঠ ভালোবাসা ও বিপুল প্রেমের নিদর্শন তাই এই তাৎপর্যপূর্ণ মাসে মানুষ বেশি করে আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশী ও বন্ধু বান্ধবদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, ইফতার ও খানা পিনা থেকে শুরু করে দান খয়রাত ও উপহার সামগ্রী ইত্যাদিতে। তারই ধারাবাহিকতায় এই পবিত্র মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারাদেশে স্বচ্ছল নেতা কর্মী ও গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষকে আন্দোলন সংগ্রামে নির্যাতিত ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান। তাৎক্ষণিক সাড়া দেয় যুক্তরাজ্য বিএনপি, যুক্তরাজ্য বিএনপির সার্বিক সহযোগিতায় উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে জায়নামাজ, তসবিহ, আতর, শাড়ি, লুঙ্গি, খেজুর, পোলাওয়ের চাল, দুধ, চিনি, লাচ্ছা সেমাই, ইত্যাদি। সাথে রয়েছে দেশনায়ক তারেক রহমানের ঈদ কার্ড এছাড়া আওয়ামী সরকারি বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে বিচার বহির্ভুত হত্যার শিকার ছাত্রদল নেতা শহীদ নুরুল আলম নুরুর পরিবারের হাতে দেশনায়ক তারেক রাহমানের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পৌঁছে দেয়া হয়। এই নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো সারাদেশে চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে হত্যা খুন গুম ও পঙ্গুত্বের শিকার নির্যাতিত পরিবারগুলির মধ্যে ঈদ উপহার বন্টন করলেন তারেক রহমান।

 

ঈদ সামগ্রী প্রেরণের জন্য সারাদেশকে দশটি অঞ্চলে ভাগ করে প্রায় এক হাজার পরিবারের কাছে পৌঁছানো হয়। উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসিত। সারা দেশের নেতা কর্মীদের কাছে প্রশংসা অর্জন করে এবং দলের নির্যাতিত নেতা কর্মী ও নেতা কর্মীর পরিবার বর্গ আনন্দে আন্দোলিত হোন ।এটা নেতা কর্মীদের ও তাদের পরিবারের কাছে হারানো মনোবল ও আস্থা স্বস্তি ফিরিয়ে আনে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

 

PPP copy

 

পাঠক এদিকে সমগ্র বাংলাদেশ যখন পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধ্বসে সেনা সদস্য ও শিশু কন্যা সহ শত শত মানুষ মৃত্যু শোকে কাঁদছে, মানুষের স্বজন হারানোর আর্তচিৎকারে বাংলার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে তখনি প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতিকে হতবাক করে। দেশের বাহিরে যাওয়ার তার পরিকল্পনা বাতিল না করে এমনকি কোনো প্রকার শোক প্রকাশ না করেই প্রধানমন্ত্রী বিশাল বহর নিয়ে লন্ডনের উদ্দ্যশ্যে উড়াল দিলেন তার বোনের মেয়েকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য। মানুষজন ধিক্কার জানালো বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী বলে। এ নিয়ে অনলাইন মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করে।

 

pahar_lass

 

অপরদিকে যখন ১৮ই জুন ওই পাহাড় ধ্বসে নিহত আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মধ্যে ত্রান  বিতরণের জন্য পার্বত্য অঞ্চলে ছুটে যাচ্ছিলেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন রাঙ্গুনিয়ার ঈসাখালীতে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা এক ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হোন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

 

ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই বললেন, হটাৎ ৩০-৪০ জন যুবক লাঠি সোটা হকি স্টিক রামদা ও বড় বড় পাথর নিয়ে আমাদের গাড়ি আক্রমণ করলো। কিছু বুঝার আগেই প্রথমে তারা গাড়ির সামনের কাঁচে পাথর ছুড়ে মারে। এরপর অনবরত হকিস্টিক লাঠিসোটা দিয়ে ভাঙচুর করে এবং সব ত্রাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে স্থানীয় মসজিদে গিয়ে তিনি প্রাণ বাঁচান।

 

তিনি ও আমির খসরু মাহমুদ সহ পাঁচ শীর্ষ নেতা আহত ও রক্তাক্ত হন।এই পবিত্র রমজান মাসেও এতো নির্মম নির্লজ্জ পাষন্ড কান্ড ঘটালো। জাতি স্থম্বিত হলো। ওরা যেন কিছুই মানেনা, কিছুই বুঝেনা। হায়রে আমার দেশ, হায়রে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, রাজনীতি আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? আজ জানতে বড়ো ইচ্ছে করে নষ্টা রাজনীতির শেষ পেরেক কোথায়??

 

একজন পরিছন্ন রাজনীতিবিদ পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় ত্রাণ পৌঁছাতে গিয়ে এভাবে আহত হতে হলো। কি আজব কারবার প্রধানমন্ত্রী তার দেশের শত শত মানুষকে মৃত্যু শোকের মিছিলে রেখে উড়াল দিলেন লন্ডনে বোনের মেয়েকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে।

 

আর রাজপথে বিরোধী দলের মহাসচিব যখন মৃত্যু শোকের মিছিলে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়াতে যান তার ত্রাণ লুট করে আহত করা হয়, বাহ্ ভাবতেই অবাক লাগে। বিবেকবান মানুষরা আজ ঘৃণার ভাষা খোঁজে পাচ্ছেননা।

 

আজ ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদরা রক্তাক্ত হননি। রক্তাক্ত হয়েছে রাজনীতির সংস্কৃতি, কলুষিত হয়েছে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, কলঙ্কিত হয়েছে দেশ ও জাতি। আওয়ামী লীগের নির্মমতা বর্বরতা ও স্বৈরমনতা প্রতিনিয়ত হার মানাচ্ছে আইয়্যামে জাহেলিয়াত কেউ। দিন দিন যেন ভদ্র রাজনীতিবিদদের স্থান সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, রাজনৈতিক বেয়াদবির মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ।

 

Hasan Mahmud copy

 

পাঠক সত্য কখনো চেপে রাখা যায়না সত্য কোনো না কোনোভাবে বের হয়ে আসে মূল কথা হলো রাঙ্গুনিয়া সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদের নির্বাচনী এলাকা। উক্ত এলাকায় বিএনপি মহাসচিব তার আগে ত্রাণ নিয়ে যাওয়ায় তিনি ভালো চোখে দেখেননি এবং মেনে নিতে পারেননি। যার জন্য বা যার কারণে তারই পোষা মাস্তানদের মাধ্যমে এই ন্যক্কারজনক হামলা। হামলার পরের দিন ১৫/২০ জন লোক সাবেক এই মন্ত্রীর মাথায় মাটির ঝাঁক তোলে দিয়ে নাটকের শুটিং করে হামলার মূল কারণ প্রমান করে দিলেন। মানুষের বোঝার আর কিছুই অবশিষ্ট রইলোনা এবং মানুষজন তাকে নিয়ে দেশব্যাপী হাস্য রসের সৃষ্টি করলেন।

 

এখানেই শেষ নয়, সাবেক মন্ত্রী আরো হাস্য রসের সৃষ্টি করলেন যখন মহাসচিবের উপর হামলার ঘটনাকে উল্টো গাড়ি চাপার মিথ্যা নাটক সৃষ্টির চেষ্টা করলেন। তার বুঝা উচিত দেশের মানুষদেরকে এতো বোকা ভাবা উচিত নয় আপনার নামের পূর্বে ডক্টরেট ডিগ্রি থাকতে পারে কিন্তু দেশের প্রতিটা মানুষই মনের বিবেকের দিক দিয়ে ডক্টরেট। আর ডক্টর হাসান মাহমুদ আর শিক্ষক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানুষের বিবেকের বিচারে অনেক ব্যবধান।

 

mf-ak

 

সাধারণ মানুষ এখন বলছে স্বঘোষিত সরকারি দল জনপ্রিয়তার দিকে কত শূন্য হলে এমন উন্মাদ, এমন দেউলিয়া হয়ে পুলিশের ছত্রছায়ায় তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা ত্রাণ কাজে বাধা দিয়ে আহত রক্তাক্ত করে। অসহায় মানুষের হোক লুন্টন করে নিয়ে যেতে পারে? শুধু তাই নয় এই পবিত্র রমজান মাসে দেশবাসী দেখেছে বিএনপির ইফতার মাহফিলে বাধা। বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কাজে বাধা। পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে ইফতার মাহফিল তাও শেষ পর্যন্ত পন্ড করে দেয়া।

 

এই ভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজপথের বিরোধী দলকে জনস্বার্থ মূলক কাজে বাধা দেয়া। এছাড়া পাঠকদের নিশ্চয় মনে আছে এক মন্ত্রী বলছিলেন “বিএনপির নেতা কর্মীরা রানা প্লাজার পিলার ধাক্কা দিয়ে ভেঙে দিয়েছে। এবার এক অর্বাচীন বিশাল মন্ত্রী বললেন বিএনপির কারণে পাহাড় ধ্বসে পড়েছে। আরেক গবেট মন্ত্রী বললেন দ্রব্যমূল্য বিএনপি বাড়িয়ে দিয়েছে ”। এভাবে এই অবৈধ সরকারের মন্ত্রীরা নির্লজ্জ্যের মতো, অযৌক্তিক, বেফাঁস কথাবার্তা বলেই যাচ্ছেন তাইতো সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছে- “মাননীয় পাগলা গারোদের বড় মিয়া, বাংলাদেশে পাগলের সংখ্যা বেড়ে গেছে তাই আরো কয়েকটি পাগলা গারদের ব্যবস্থা করুন নতুবা দেশ দুর্ঘটনায় পতিত হবে।“ সাধারণ মানুষের কাছে এই হলো দেশের প্রকৃত চিত্র।

 

আজ অনির্বাচিত সরকারের দরুন দেশের রাজনৌতিক শিষ্টাচার, দ্বায়িত্বশীলতা, সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এসব যেন হারিয়ে গেছে। নষ্ট রাজনীতি, বেফাঁস কথা বার্তা ও কুরুচিপূর্ণ বাক্য, সন্ত্রাস ও পুলিশ বাহিনী হয়েছে রাজনৈতিক হাতিয়ার, আমরা কি এই নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বাহির হবোনা? আর কত রাজনীতি এবং রাজনৈতিক অধঃপতন? আর কত শিষ্টাচারের অধঃপতন জাতিকে দেখতে হবে???

 

 

লেখক :Sayek M Rahman new

সায়েক এম রহমান

লেখক, কলামিস্ট ও গবেষক

sayakurrahman@hotmail.com

 

 

 

.

***এখানে প্রকাশিত সকল মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব, প্রথম নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।***

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ