রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

অবশেষে গুমপুর থেকে ফিরলেন মজহার তারপর ?

জুলাই ৬, ২০১৭ 1718 views 0
অবশেষে গুমপুর থেকে ফিরলেন মজহার তারপর ?




সায়েক এম রহমান :

জ নাটকের দেশ বাংলাদেশ। শুধু নাটক আর নাটক। যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই নাটক। গুমে নাটক, ব্যাংক ডাকাতিতে নাটক, ক্রসফায়ারে নাটক, জঙ্গি হামলায় নাটক। সর্বত্রই নাটকের খেলা আর মেলা। একটির শেষ হতে না হতেই, আরেকটির শুরু। সাধারন মানুষ এ সরকারের নাটক দেখতে দেখতে এতো দক্ষ হয়েছে যে, নাটকের পরবর্তী স্কীপ্ট বা ডায়লগ কি হবে, অনায়াসে বলে দিতে পারে।

 

ভারতের গো রক্ষকদের বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলনের ২৪ ঘন্টা যেথে না যেথেই ফরহাদ মজহারের বাসভবন হক গার্ডেন থেকে আরেকটি নাটক অনুষ্ঠিত হলো ৩রা জুলাই সোমবার ভোর ৫ ঘটিকায়, বিশিষ্ট লেখক, কবি, দার্শনিক ও কলামিষ্ট জনাব ফরহাদ মজহারকে অপহরনের মাধ্যমে।

 

সত্তর বছর বয়স্ক এই লেখক ও দার্শনিক দেশের অবস্হা তুলে ধরতে তার এক লিখনীতে বলেছিলেন, আমি মরতে ভয় পাই না কিন্তু গুম হয়ে যেথে খুব ভয় লাগে। দেশীয় একটা প্রবাদ আছে, যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই রাত হয়। ভাগ্যের কি পরিহাস, শেষ পর্যন্ত তাহার রাত সেখানেই হলো! ভোর ৫ টা ২৯ মিনিট স্ত্রী ফরিদা আখতারের ফোন! জনাব মাজহার ভয়ার্ত কন্ঠে বললেন, ফরিদা ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে। এই কথাটি বলার পরই লাইন অফ। অতঃপর বুঝতেই পারছেন। মিসেস ফরিদা আখতার ভয়ে কম্পমান হয়ে পড়লেন।

 

এভাবে ১৮/১৯ ঘন্টার মধ্যে পাঁচ বার ফোন আসে মুক্তিপণ দাবী করে, প্রথমে ৩৫ লক্ষ শেষ পর্যন্ত ২০ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক বলছেন, এ সবই আসলে একটা বাহানা মাত্র। জনাব মজহারের এই ঘটনায় বিশ্ব মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরিশেষে টানা ১৮ ঘন্টা পর বিনা মুক্তিপণে, শুধু আদালতে দশ হাজার টাকা জামানতের মাধ্যমে মুক্ত হলেন জনাব ফরহাদ মজহার।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এখন নিম্ন লিখিত প্রশ্ন করছেন…….

১। ভারত গো রক্ষকদের নিয়ে প্রতিবাদ করার পরপরই কেন ফরহাদ মজহারকে অপহরন?

২। তিনি সাধারনত সকাল ৭/৮ টা ছাড়া বাহির হন না।কোন গুরুত্বপূর্ন মানুষ বা বন্ধুর ফোন দিয়ে এতো সকাল বাহির করা হলো?

৩। তাঁহার চোঁখ বাধাঁ ছিল কেন? কারা ই বা বেধেঁ ছিল?

৪। সিসিটিভি ক্যামেরায় লুংগি ও পান্জাবী পরা অবস্তায় এক বস্ত্রে বাহির হওয়া মানুষকে কাপড় টুথব্রাশ চার্জার সহ এই ব্যাগকে ধরিয়ে দিল? কোথা থেকে দিল? এবং এই সওদা টাই বা কে করল?

৫। অবৈধ ভাবে লক্ষ কোটি টাকার মালিকদের অপহরন না করে, একজন কবি ও লেখককে অপহরন করে মুক্তি পণ দাবী করা হয় কেন?

৬। খুলনার গ্রীন হাউজে কি ভাত ডাল সবজি বিক্রি হয়?

৭। যিনি রাত ৮ টায় গ্রীন হাউজে ডাল ভাত খেলেন, উনি কি ভাবে এতো নজরদারীর মধ্যে গফুর নামে টিকেট করে হানিফের বাসে উঠলেন? বাস কাউন্টারে ও কি এমন নাগরিক কে কেউ চিনতে পারল না?

৮। আদালতে তাঁকে দেখাচ্ছিল অসুস্হ,অচেতন ও ক্লান্ত। কিন্তু খুলনার ডি আই জি দিদার আহমেদ সাংবাদিক সন্মেলনে বললেন তিনি সেচ্ছায় ডাকা থেকে এসে খুলনায় বেড়াচ্ছেন এবং তিনি খুব স্বাভাবিক ভাবে আছেন। এতো সব কভারিং কেন?

৯। যাঁরা ই গুমপুর থেকে ফিরেন তাদের কে বোবা বানিয়ে রাখা হয় কেন? মজহার সাহেবের ক্ষেত্রে ও তা দেখা গেল।

১০। তাঁকে বহনকারী বিলাস বহুল বাসটি ছবিতে দেখা গেছে যাত্রী বিহীন। শুধু সামনের আসনে বসা দুইজন, আর পিছনে সাদা পোষাকদারী ২/৩ জন মজহার সাহেব কে ঘিরে বসে আছেন। যেখানে ঈদের ছুটি থেকে মানুষ ডাকায় আসার সিট পাচ্ছে না সেখানে বাসটি যাত্রী বিহীন কেন?

 

হায়রে নাটক! জানি না, আরও কত স্কীপ্ট, কত নাটক হবে। কার ভাগ্যেই অপেক্ষা করছে। বিশিষ্ট লেখক কবি ও কলামিষ্ট ফরহাদ মজহারকে নিয়ে সরকারের দীর্ঘ ১৮ ঘন্টার নাটকটিতে বহুবারই স্কীপ্ট ও ডায়লগ পরিবর্তন করে নির্লজ্জতার মাধ্যমে নাটকটি আপাদত সমাপ্ত করল। ভ্যাগিস মহান আল্লাহ সহায় এই অকোতভয় কবি লেখক ও কলামিষ্ট জনাব ফরহাদ মাজহারকে এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, নুরুল আলম নুরু বা সালাউদ্দিন আহমেদ বা সুখরন্জন বাবুর মত ভাগ্য বরন করতে হয়নি।

 

পাঠক, দিন দুপুরের খুনী, ডাকাত ফ্যাসিষ্ট যখন একটি জাতিকে স্তন্বিত করে, উচ্চ স্বরে আওয়াজ তুলে বলে, “আমিই সভ্যতার একমাত্র বাহক! আমিই সত্যের মডেল! আমিই দিতে পারি মানষের সুখ ও শান্তি! তখনই বুঝতে হবে এ জাতির পচন শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে সে আওয়াজ যদি হয় দেশ ও জাতির শীর্ষস্থান থেকে। এখানে মাও সেতুং এর বিখ্যাত একটি উক্তি যোগ করতেই হয়। তাহার উক্তিটি হলো, “মাছের পচনটা যদি হয় মাথায়, সে মাছ কখনও খাদ্য যোগ্য নয়”। তথা কোন দেশ বা জাতির পচনটা যদি উপর থেকে শুরু হয়, সে জাতির ধ্বংস রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

তাই আজ আর অপেক্ষা নয়। ভারতের আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ এর বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে রুখে দাঁড়াতে হবে। এ সরকার নির্বিচারে হত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতন, খুন-গুম, হামলা, মামলা ও লুটপাট এক চরম ফ্যাসিবাদী বিভীষিকা সৃস্টি করেছে। তারা সবই আজ ভারতের কাছে তুলে দিয়েছে শুধু মাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। ওরা জাতীয় সব স্বার্থ বঙ্গপোসাগরে ফেলে দিয়ে, নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য উন্মাদ হয়ে পড়েছে। অতএব এখনও সময় আছে, দলমত নির্বিশেষে নিজে বাঁচুন, দেশ  ও জাতিকে বাঁচান।


 

 

sayak-m-rahman লেখক

 সায়েক এম রহমান

লেখক, কলামিস্ট ও গবেষক

sayakurrahman@hotmail.com

 

.

.

 

***এখানে প্রকাশিত সকল মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব, প্রথম নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।***

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ