রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

সভ্য সমাজ আজ বরবাদ

জুলাই ২১, ২০১৭ 649 views 0
সভ্য সমাজ আজ বরবাদ

পাঠান আজহার উদ্দিন প্রিন্স :

সাধারণত স্টাইল, ফ্যাশন ও ফ্যাডের মধ্যে খুব একটা মৌলিক তফাৎ লক্ষ্যণীয় নয়। এ তিনটি শব্দ যেন একই সূত্রে গাঁথা। তবু সময়ের ভিত্তিতে এ তিনটির মধ্যে কিছুটা তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। স্টাইল হচ্ছে অভিব্যক্তির মৌলিক ও স্বতন্ত্র প্রকাশ বা কেবল স্বতন্ত্র ভাবের প্রকাশ।

 

স্টাইল এক জেনারেশন থেকে শুরু হয়ে বহু জেনারেশন ধরে চলতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে বিশেষ বিশেষ স্টাইলের জনপ্রিয়তা বাড়ে বা কমে। ফ্যাশন হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জনপ্রিয় স্টাইল অর্থাৎ বর্তমানে জনপ্রিয় স্টাইলটি হলো ফ্যাশন। ফ্যাশনের সময়কাল স্টাইলের সময়কালের তুলনায় কম।

 

ফ্যাড হচ্ছে সেসব ফ্যাশন যা ক্রেতাদের দ্বারা খুব দ্রুত গৃহীত হয়, জনপ্রিয়তা পায় আবার দ্রুত জনপ্রিয়তা হারায়। ফ্যাডের সময়কাল অত্যন্ত কম। যুগ বা শতাব্দী ধরে চলামন ক্রমান্নোয়ন স্টাইলের একেকটি অংশকে ফ্যাশন বলে।ফ্যাশন চক্রাকারে আবর্তিত হয়। যেহেতু ফ্যাশন চক্রাকারে আবর্তিত হয় সেহেতু পূর্বের ফ্যাশন পুনরায় বর্তমানে ফিরে আসবে এটাই স্বাভাবিক।

 

বর্তমান ফ্যাশন আর পূর্বের ফ্যাশনের মধ্যে একটা তফাৎ লক্ষ্য করা যায় যা নিম্নে দু’টি উদাহরণের মাধ্যমে দেখানো হলো। যেমন: প্রাচীনকালের মানুষ মাংসকে আগুনে পুড়ে খেতো, এখনকার যুগের মানুষও মাংসকে আগুনে পুড়ে খায়। তারা মাংস পুড়িয়ে খেতো জীবন বাঁচানোর তাগিদে আর আমরা এখন খাই পুড়া মাংসের স্বাদ পেতে। প্রাচীনকালের মানুষ ছোটখাটো বস্ত্র পরিধান করতো কাপড় না থাকার কারণে আর এখনকার মানুষ ছোটখাটো বস্ত্র পরিধান করে আধুনিকতার কারণে।

 

এই পূর্বের মাংসের ব্যবহার আর বর্তমান মাংসের ব্যবহার এবং পূর্বের বস্ত্রের ব্যবহার আর বর্তমান বস্ত্রের ব্যবহারের ফ্যাশনের মধ্যে বাহ্যিক কোনো তফাৎ নেই। কেবল মনমানসিকতার অবস্থানের তফাৎ লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীনকালের মানুষ অনিচ্ছাকৃতভাবে মাংসকে আগুনে পুড়ে খেতো এবং ছোট বস্ত্র পরিধান করতো আর আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে খাই এবং পরিধান করি অর্থাৎ তাদের ফ্যাশন অনিচ্ছা আর আমাদের ফ্যাশন ইচ্ছা।

 

এই ফ্যাশনের ইচ্ছামতো ব্যবহার আজকাল আমাদের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে। শুধু ব্যক্তিক বিপদজনক নয়, সমাজ-রাষ্ট্র-পৃথিবীর জন্য বিপদজনক।

 

আগেকার নারীরা ছোট বস্ত্র পড়তো লজ্জাস্থান ঢেকে রাখতে আর এখনকার নারীরা ছোটবস্ত্র পড়ে নিজেদের অস্তিত্ব জনসাধারণকে দেখাতে। তাদের বস্ত্র পড়ার ফ্যাশনটা ছিল শালীনতা অক্ষুন্ন রাখতে আর এ যুগের বস্ত্র পড়ার ফ্যাশনটা হচ্ছে শালীনতা ক্ষুণ্ন করতে।

 

আগেকার নারীরা প্রেম করতো পুরুষের জীবন সংগ্রামে সঙ্গী হওয়ার জন্যে আর এখনকার নারীরা প্রেম করে পুরুষের জীবন সংগ্রামে শত্রু হয়ে দাঁড়াতে। তাদের প্রেমের ফ্যাশনটা ছিল সাহায্য করা আর এ যুগের প্রেমের ফ্যাশনটা হলো ক্ষতি করা।

 

কবি নজরুল তার দুই আঙুলের চিপায় কলম ধরেছিল আর কবি নজরুলের উত্তরসূরিরা দুই আঙুলের চিপায় সিগারেট ধরে। কবি নজরুলের আঙুলের চিপার ফ্যাশনটা ছিলো শত্রুদের জন্য হুমকিস্বরূপ আর উত্তরসূরিদের আঙুলের চিপার ফ্যাশনটা সভ্য সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।

 

কবি নজরুলের হাতের মুষ্টিতে ছিলো মাইক আর উত্তরসূরিদের হাতের মুষ্টিতে থাকে মদের বোতল। কবি নজরুলের হাতের মুষ্টির ফ্যাশনটা তরুণের তারুণ্যকে জাগ্রত করতো আর উত্তরসূরিদের হাতের মুষ্টির ফ্যাশনটা তরুণ সমাজের অকাল মৃত্যুকে জাগ্রত করে।

 

৭১ এর তরুণরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো দেশ ও মা-বোনের ইজ্জ্বত রক্ষার্থে আর বর্তমান সমাজের তরুণরা ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে রসাতলে পাঠাতে এবং মা-বোনের মতো নারীদের সম্ভ্রম কেড়ে নিতে। ৭১ এর ঝাঁপিয়ে পড়ার ফ্যাশনটা ছিল রক্ষকের ফ্যাশন ১৭ এর ঝাঁপিয়ে পড়ার ফ্যাশনটা হলো ভক্ষকের ফ্যাশন।

 

ব্রিটিশ বিরুধী আন্দোলন থেকে ধরে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত রাজনৈতিকগণ আন্দোলন করেছেন ন্যায্য অধিকার আদায় ও সুষ্ঠুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্যে আর এখনকার রাজনৈতিকগণ আন্দোলন করেন ন্যায্য অধিকার ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা ধূলিসাৎ করার জন্যে। তাদের আন্দোলনের ফ্যাশনটা ছিলো শান্তি প্রতিষ্ঠা করা আর একালের আন্দোলনের ফ্যাশনটা হচ্ছে অশান্তি সৃষ্টি করা।

 

সর্বোপরি বলা যায়, দিন-দিন আধুনিকতার ছোঁয়ায় উন্নত জীবন-যাপন করতে গিয়ে পূর্বেকার ফ্যাশন গুলোকেও আমরা দিনদিন নেতিবাচকভাবে নবায়ন/হালনাগাদ করে নিচ্ছি। ফ্যাশনের এমন নেতিবাচক পরিবর্তনের ফলে আজ স্বরাষ্ট্রের সংস্কৃতি-সভ্যতা সমস্যার সম্মুখীন; নিঃশ্বাসেই হচ্ছে দূষণ।

 

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে তরুণ সমাজের সতর্কতা অবলম্বন। তরুণ সমাজ যদি সতর্ক/সচেতন না হয় এবং অন্যদেরকে সতর্ক/সচেতন না করে তাহলে ধীরে ধীরে এ পৃথিবী এক অঘোর অন্ধকারের দিকে পা বাড়াবে…… . “তরুণ-তরুণীর তারুণ্যে তাপের তীব্রতা সমস্যার সম্মুখীন স্বরাষ্ট্রের সংস্কৃতি-সভ্যতা।

 

 

লেখক :

পাঠান আজহার উদ্দিন প্রিন্স

আলোচক ও লেখক

.

.

***এখানে প্রকাশিত সকল মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব, প্রথম নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।***

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ