রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

জঙ্গিবাদ, খুন ও গুম আওয়ামী লীগ ও ভারতের সর্বশেষ সংযোজন

জুলাই ৩১, ২০১৭ 2188 views 0
জঙ্গিবাদ, খুন ও গুম আওয়ামী লীগ ও ভারতের সর্বশেষ সংযোজন

সায়েক এম রহমান :
গ্রাসন, সন্ত্রাস ও দূর্বৃত্তায়ন কখনও থেমে নেই। সেই পুরাতন কাল থেকেই। একটি রাষ্ট্রের প্রতি আরেকটি রাষ্ট্রের সন্ত্রাস বা দূর্বৃত্তায়ন এটা আসলে নতুন নয়। শুধু ধরন পাল্টেছে।

 

ইতিহাস বলে, বেশীরভাগ দুর্বৃত্তায়ন বা সন্ত্রাস হয়েছে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে হরেক রকম মুখোশ পড়ে। বৃটিশ বলেন, ফরাসী বলেন,ডাচ,পূর্তগীজ ও স্পেনিশ বলেন তথা ইউরোপীয় দখলদারিত্ব গড়ে উঠে কোটি কোটি মানুষদের হত্যা করে। উত্তর আমেরিকাতে দশ কোটি এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে পাঁচ কোটি মানুষ হত্যা করে সভ্য জাতির মূখোশ পড়া দেশগুলি।

 

ইতিহাস সাক্ষী, প্রায় সাত কোটি মানুষ হত্যা করে, ইতিহাসের খল নায়ক লেলিন স্টালিন গড়ে তুলে সোভিয়েত ইউনিয়ন। সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল পৃথিবীর বুকে যার কোন অস্তিত্বই ছিল না,সেই ইসরাইল দখল করে নেয় ফিলিস্তিন। স্থানীয় ও জাতিগত একটি দেশকে তছনছ করে দেয়। লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘর ছাড়া করে ফেলে। ফিলিস্তিন আজ নির্যাতিত নিষ্পেশিত হচ্ছে বিশ্ব বিবেকের সামনে।

 

এ সন্ত্রাস, এ আগ্রাসন থামছে না। আগ্রাসন ও সন্ত্রাস বারেবারেই আসে ভিন্ন মূখোশে। যেমনে এসেছে ইরাক,লিবিয়া ও সিরিয়ায়। সদ্য লাইন আপ হয়েছে কাতারও।

 

পাশাপাশি এই সন্ত্রাস আগ্রাসন ও দূর্বৃত্তায়নে ভারত ও কোন ভাবে পিছিয়ে নেই, থেমেও নেই।

 

তারা দখল করে নেয় হায়দারাবাদ, দখল করে নেয় সিকিম। উল্লেখ্য সিকিম দখল করার পূর্বে ভারতের ‘র‘ এজেন্টদের মাধ্যমে সিকিমকে হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজ্যে পরিণত করে অতঃপর নাটকীয় ভাবে ৭৫ সালে লেন্দুপ দর্জির মাধ্যমে সিকিম দখল করে নেয় ভারত।

 

এদিকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব থেকেই ভারতের আলাদা একটি নজর ছিল বাংলাদেশের উপর। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে শকুনের মত নজর পড়ে বাংলাদেশর প্রতি।

 

চলে একের পর এক ষড়যন্ত্র-সেনাবহিনী,গার্মেন্টস শিল্প,অর্থনীতি,চিকিৎসা ও শিক্ষা ধ্বংসের জন্য লেগেই থাকে। হিন্দু সন্ত্রাসী মৌলবাদী বিশ্বাসী ভারত। যেখানে ধর্মের কারনে প্রতিদিনই সংখ্যা লঘুরা খুন হচ্ছে, ধর্মের কারনে মানুষে খাবারের অধিকার কেড়ে নিয়ে গরু জবাই এবং গরুর মাংশ নিষিদ্ধ করছে। সেখানে আবার বাংলাদেশের সংখ্যা লঘু নির্যাতনের গল্প দিয়ে মিডিয়ায় ঝড় তুলে বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপি এক নিন্দনীয় স্থানে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত করে যাচ্ছে।

 

আর এসব চক্রান্তের মূলে ৫ই জানুয়ারীর বিনা ভোটের সরকার। তা আজ ওপেন সিক্রেট। শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য। একটি ৫ই জানুয়ারী বাংলাদেশকে লন্ড ভন্ড করে দিয়ে গেছে। দেশের স্বাধীনতাকে হরন করে ফেলেছে, গণতন্ত্র নস্যাৎ করেছে, সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে, মানুষের বাক স্বাধীনতা হারিয়েছে, মানবতা বিপন্ন হয়েছে।

 

আজ বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলছেন, বাংলাদেশের শিল্প অর্থনৈতিক চিকিৎসা ও শিক্ষা ধবংস করার জন্য আওয়ামী লীগের সাহায্যে ভারতের সর্বশেষ সংযোজন জঙ্গীবাদ, খুন ও গুম।

 

ভারতে প্রশিক্ষন দিয়ে বাংলাদেশের হত্যাকান্ডের বিভিন্ন নাটক চলে জঙ্গীবাদের নামে, গুমের নামে। জঙ্গী নাটকের হত্যা কান্ড গুলি প্রথমে প্রচার করে তাদেরই ভাড়াটে গণমাধ্যম গুলি। বাংলাদেশে আসলে কোন আইএস বা জঙ্গী নাই, যা আছে ভারতের এজেন্ট আর এজেন্টরা কারা তা ইতি মধ্যে জঙ্গী হামলা বিভিন্ন নাটকে দেশবাসী উপলব্ধি করতে পেরেছে।

 

ভারতের নাশকতা বাংলাদেশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে যেন বাংলাদেশ একটি ব্যার্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বাংলাদেশের গর্বিত সেনাবাহিনী নিয়েও অনেক খেলা চলছে জানিনা বিনা ভোটের সরকার কতদুর এগুচ্ছে।

 

তবে “বিডিআর’কে তো আগেই ধ্বংস করে “বিজিবি” নামক ব্যান্ড পার্টিতে রুপান্তর করা হয়েছে। আগে দেখা যেত সীমান্তে ‘বিএসএফ’ কোন বাংলাদেশীকে হত্যা করলে “বিডিআর” লাশ গ্রহন করত শোকের মাধ্যমে। আর এখন ‘বিজিবি’ লাশ গ্রহন করে খেলার ট্রফি গ্রহন করার মতন। আরও দেখা যায়, ‘বিএসএফ’ এর হত্যাকান্ডের পক্ষে প্রতি নিয়ত সাফাই গায় বিনা ভোটের সরকারের বিজিবি প্রধান, আওয়ামীলীগ নেতা, মন্ত্রী ও এমপিরা।

 

অপরদিকে নেপাল, যার ক্ষমতা অর্থনৈতিক বলেন আর সামরিক বলেন কোন দিকেই বাংলাদেশের সাথে তুলনা করলে ৫% ক্ষমতা রাখে কি সন্দেহ। সেই নেপাল ভারতকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছে, সীমান্তে তাদের নাগরিক গৌতমকে ‘বিএসএফ’ হত্যা করার কারনে। তাদের দেশ ছোট ক্ষমতা ছোট কিন্তু তাদের নাগরিকের মর্যদা অনেক বড় কারন (গুড গভর্ণেন্স) সঠিক সরকার।

 

এখানে উল্লেখ্য ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক কূল নায়ারের কলকাতার আনন্দ রাজার পত্রিকায় কিছুদিন আগে একটি শিরোনাম হয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ভোগ করছে ভারত তা অবশ্য অনেকেই অবগত আছেন।

 

তাই বলছি ভারত আজ বাংলাদেশর অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্য তাদেরই তৈয়ারী বিনা ভোটের সরকারের মাধ্যমে সরকারী বেসরকারী সকল ব্যাংক থেকে টাকা লুট করে নিচ্ছে।

 

এই লুটের ছোট অংকগুলি হাজার হাজার কোটি টাকা আর বড় অংকগুলি কোথায় শেষ হয়েছে তা জানার বাহিরে। ভাগ্যিস ফিলিপাইনের সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের দরুন আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংক থেকে টাকা লুটের ঘটনাটা ধামা চাপা দিতে পারেনি।

 

তা নাহলে, ঐ লুটের ঘটনা আজও জাতি জানতে পারত না। এমন অনেক লুটের ঘটনা হয়ত আমাদের জানার বাহিরে রয়ে গেছে, হয়তো আর কোন দিনই জানা হবে না।

 

এদিকে আজ মিডিয়ার মুখ তালাবদ্ধ রাখার জন্য মাহমুদুর রহমানকে উদাহরন দিয়ে রাখছে ভারত ও আওয়ামীলীগ। অপর দিকে বুদ্ধিজীবিরা মুখ খুললে কি হবে? তা ফরহাদ মাজহারকে মডেল বানিয়ে দেখানো হল। অর্থাৎ যদি বিনা ভোটের সরকার ও ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে তাহলে অপহরন হবে, নির্যাতন হবে, সামাজিক ভাবে হেয় করতে নারী সংঘটিত বিষয় যোগ করতেও দ্বিধা করবে না। এমনকি ছাত্রদের রুটিন সহ পরীক্ষার দাবী জানাতে গিয়ে ছাত্র সিদ্দিকুরের দুটি চোখ তুলে নিয়ে বুঝানো হল, তোমরা সমবেত হলে এমন হবে।

 

এখানে প্রতীয়মান নিজে চোর হলে চতুর্দিকে পুলিশ পুলিশ দেখা যায়। সরকার এতটাই ভীতু হয়ে পড়েছে যে, ৩০/৪০ জন মানুষের জটলা দেখলেই তাদের বুকে কাঁপন উঠে যায়। না জানি কোন ইস্যুতে পতন হয়ে যায় । কারন চতুর্দিকে শুধু ইস্যু আর ইস্যু। অলি গণদের বাণীতে আছে- ‘দুর্নীতিবাজ সরকাররা তাদের পতনের ১০০টি ছিদ্র বন্ধ করে রাখলেও কাজ হবে না। কারন যেদিন পতন হবার সেই দিন তার ভুলেই একটি ছিদ্র খোলা থাকবে। আর সেই পথেই তার পতন হবে’।

 

পাশাপাশি ভারতকে স্মরন করিয়ে দিতে চাই। পৃথিবীর একমাত্র দেশ বাংলাদেশ। যে দেশটি রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষা বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ বাংলাদেশ। যে দেশটির মানুষ নয় মাস যুদ্ধ করে এক সাগর রক্তের বিনিময় অর্জন করেছে স্বাধীন সার্বভৌম লাল পতাকা খচিত একটি দেশ। যার নাম “বাংলাদেশ”। সেই দেশকে ভূটান সিকিমের চোঁখে দেখলে ভূল করবে। এদেশে আঠার কোটি মানুষের একবিন্দু রক্ত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশকে ভূটান সিকিম বানাতে দেবে না। কারণ বাংলাদেশ আর ভূটান সিকিম এক নয়।

 

লেখক
সায়েক এম রহমান
লেখক ও কলামিস্ট

sayakurrahman@hotmail.com

 

.

.

 

***এখানে প্রকাশিত সকল মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব, প্রথম নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।***

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ