প্রকাশ : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
আইনের মধুচন্দ্রিমা
আইনের মধুচন্দ্রিমা

পাঠান আজহার উদ্দিন প্রিন্স :

৯৫২ পাকিস্তান যুগ। ঐ যুগে তবু ১৪৪ ধারার মধ্যেও বাংলায়, কিংবা, উর্দূতে, কিংবা, ইংরেজিতে কথা বলা গেছে নির্দ্বিধায়। জিরো পয়েন্টে দাড়িয়ে বুক ফুলিয়ে ভাষণ দেয়া গেছে, দাবী আদায়ের জন্য রাস্তায় নামা গেছে, গলা চেপে ধরেনি তৎকালীণ “তথাকথিত জান্তা” অখন্ড পাকিস্তান সরকারের কোনো আইন কিংবা অখন্ড পাকিস্তান সরকার। আর এখন? এখনকার ঘোষণাকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশে আইনের চাপে বেশীরভাগ জনতা ভীত সন্ত্রস্ত হরিণী হয়ে আইনের মধুচন্দ্রিমা উপভোগে ব্যাস্ত এখন। তেমনি এক বর্তমান আইন ৫৭ ধারা, সেই পাকিস্তান জান্তার চাইতেও বড্ড ভয়ঙ্কর হয়ে ঘিরে রেখেছে কন্ঠনালীর চারোপাশ।

 

এমনও হতে পারে সেই গান “মাগো ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়..” যদি কেউ গেয়ে ফেলে ভুলক্রমে তবে তার কপালেও ৫৭’র ভোগ নেমে আসতে পারে। ১৯৯৬-২০০১ ছিলো “জন নিরাপত্তা আইন” নামক এক পেষণ যন্ত্র। ঐ আইনের নিষ্পেষণে ধর্ষিত হয়েছিলো বহু মানুষ যার দীর্ঘশ্বাস আজো ভেসে বেড়ায় ইথারে।

 

যেই স্বাধীনতা যুদ্ধকে ইস্যূ করে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তীত সেই যুদ্ধে যতো না মানুষ নিষ্পেষিত হয়েছিলো তার চাইতেও বেশী মানুষ নিষ্পেষিত হচ্ছে শুধু এইসব আইনের গ্যাঁড়াকলে পরে। সঠিক আইনও বন্ধী হয়ে যায় এইসব নব্য আইনের ধারায় পরে। এই ভূখন্ডে আমাদের কিচ্ছু নেই, আমাদের পিঠ পাতা আছে রক্তাক্ত হয়ে হাতে কাঁটাতারের কাঁটা বেঁধা। আমরা পরে আছি বন্ধী হয়ে কাঁটাতারের বন্ধীশালায় বাকরুদ্ধ হয়ে।

.

.

লেখক :

পাঠান আজহার উদ্দিন প্রিন্স

আলোচক ও লেখক