প্রকাশ : সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একই দিনে ২ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একই দিনে ২ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রথম নিউজ প্রতিবেদক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর এবার একই দিনে দুই মামলায় তাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার দু’টি পৃথক আদালত।

 

বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিক স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর একটি মানহানির মামলা করেন। সে মামলায় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম নূর নবী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের আদেশ দেন।

 

অপরদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিতে হাজির না হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো: আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

 

মানহানী মামলাটি দায়েরের দিনই ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তার স্বামী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আসামি করা হয়।

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আজ বৃহস্পতিবার মামলাটি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তিনি দেশে না থাকায় তার পক্ষে আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করেন।

 

রাজধানীর পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো: আকতারুজ্জামান সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

একই সঙ্গে বিচারক বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ শুনানির কার্যক্রম শেষ করে আগামী ১৯ অক্টোবর আসামিদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

 

মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকার পরও তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা, সিএমএম কোর্ট এবং জিয়া অরফানেজ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো।

 

এগুলোর মধ্যে একটি অশুভ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরকার নিম্ন আদালত নিয়ন্ত্রণের যে চেষ্টা করছিল সেক্ষেত্রে কামিয়াব হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

 

আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ছিলেন, জমির উদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, রেজাক খান, জয়নুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আবদুল খালেক মিলন প্রমুখ।

 

এছাড়া এ মামলায় অপর দুই আসামি প্রাক্তন এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিনে ছিলেন।

 

এদিন তারা জামিন বর্ধিত করার আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

এর আগে গত ৯ অক্টোর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নোয়াবাজার এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারিক জেসমিন বেগম এ পরোয়ানা জারি করেন।

 

ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চৌদ্দগ্রামের নোয়াবাজার এলাকায় ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলায় আটজন নিহত হন। আহত হন আরো ২০ জন।

 

এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ওই থানায় মামলা করে পুলিশ। সেই মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়।

 

চলতি বছরের ৬ মার্চ বেগম খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: ইব্রাহিম।