Wednesday, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

প্রিয়ঙ্কার নাম টেনে রাহুলকে রোখার চেষ্টা

মার্চ ৩, ২০১৫ 9 views 0
প্রিয়ঙ্কার নাম টেনে রাহুলকে রোখার চেষ্টা

 

প্রথম নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভারতে ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেসের সভানেত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আত্মমন্থনের জন্য তিনি কয়েক সপ্তাহের ছুটি নিয়েছেন। দিল্লিতে নেই। কিন্তু পাঁচ রাজ্যে প্রদেশ সভাপতি বদল করে রাহুল গান্ধী আজ বুঝিয়ে দিলেন, তিনি না থেকেও রয়েছেন, এবং অবিলম্বে কংগ্রেস সভাপতির পদের দায়িত্ব নিতে চলেছেন। যদিও এটাই পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়! বরং রাহুল যখন এ ভাবেই পরিকল্পনা মাফিক কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের রাশ হাতে তুলে নিতে চলেছেন, তখন তাঁকে ‘বিভ্রান্ত’ করার সমান্তরাল প্রয়াসও চলছে দলের মধ্যে। সে জন্য ফের উস্কে দেয়া হচ্ছে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার নাম ও তাঁকে কংগ্রেস সংগঠনে সাধারণ সম্পাদক করার দাবি। রাহুল ছুটিতে যাওয়ার পর থেকেই কংগ্রেস সূত্র জানাচ্ছিল, তিনি দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে আগ্রহী। কিন্তু রাহুলের দাবি, তাঁকে পছন্দ মতো টিম তৈরি করতে দিতে হবে। অকেজো ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতাদের সংগঠন থেকে সরিয়ে তিনি স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কিছু নবীন ও কিছু প্রবীণ নেতাকে নিয়ে টিম গড়তে আগ্রহী। এ ব্যাপারেই কোথাও কোথাও কংগ্রেস সভানেত্রীর সঙ্গেও তাঁর মতের অমিল হচ্ছে। রাহুলের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এই অবস্থায় বর্ষীয়ান নেতাদের কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই ‘বিভ্রান্তি’ তৈরির চেষ্টা করছেন। ইঙ্গিত আহমেদ পটেল, জনার্দন দ্বিবেদী ও তাঁদের অনুগামী কিছু বর্ষীয়ান নেতার দিকে। কারণ, তাঁরা জানেন, রাহুল সভাপতি হলে হয়তো প্রথমেই পদ খোয়াবেন আহমেদ পটেল নিজে। তিনি সনিয়ার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে গত দশ বছরে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে ছিলেন। রাহুল অনুগামীদের বক্তব্য, দলের এই অংশই ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। প্রথমে তাঁরা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে সনিয়া গান্ধীই এক মাত্র গ্রহণযোগ্য নেত্রী। কিন্তু এখন যখন সনিয়া নিজেই রাহুলকে কংগ্রেস সভাপতির পদে নিয়ে আসতে আগ্রহী, তখন প্রিয়ঙ্কার নাম উস্কে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, প্রিয়ঙ্কা সংগঠনে এলে কংগ্রেসের কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন। তিনি রাহুলের থেকে ভাল সংগঠক। আজ কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, “প্রিয়ঙ্কার নাম নিয়ে যে সব কথা বলা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। এগুলি জল্পনা মাত্র।” অন্য দিকে দিগ্বিজয় সিংহ বলেন, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী সংগঠনে এলে ভালই হবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত উনিই নেবেন। প্রিয়ঙ্কাকে নিয়ে লোকসভা ভোটের সময় থেকেই জল্পনায় অক্সিজেন জোগান জনার্দন দ্বিবেদী। তাঁর দাবি, রাজীব গাঁধী তাঁকে বলেছিলেন, মেয়ের মধ্যে তিনি রাজনীতি করার আগ্রহ ও মেধা দেখেছেন। তবে মাস তিনেক আগে প্রিয়ঙ্কা বিবৃতি দিয়েছেন যে তাঁকে নিয়ে বৃথা জল্পনা বাড়ানো হচ্ছে। তিনি কংগ্রেস সংগঠনে এখনই যোগ দিচ্ছেন না। তার পরেও কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, তিন মাসে অনেক কিছু বদলায়। কে বলতে পারে প্রিয়ঙ্কার মত বদল হয়নি! তবে এই জল ঘোলার মধ্যেও আজ পাঁচ রাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পরিবর্তন করে দিয়েছেন রাহুল। মহারাষ্ট্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চহ্বাণ, মুম্বইয়ে সঞ্জয় নিরুপম ও দিল্লিতে অজয় মাকেনকে প্রদেশ সভাপতি করা হয়েছে। মিডিয়ার দায়িত্ব থেকে মাকেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাহুল ঘনিষ্ঠ আনন্দ শর্মাকে ওই পদে নিয়ে আসা হতে পারে। প্রদেশ সভাপতি বদল নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যে সমালোচনাও চলছে। দলের এক নেতা বলেন, অশোক চহ্বাণের বিরুদ্ধে আদর্শ কেলেঙ্কারিতে অভিযোগ রয়েছে, সঞ্জয় নিরুপম শিবসেনার নেতা ছিলেন আর অজয় মাকেনের নেতৃত্বে দিল্লিতে কংগ্রেস একটি আসনও জিততে পারেনি। রাহুল রাজনৈতিক ভাবে কতটা অপরিপক্ক, এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে! দলের অন্য একটি অংশ রাহুলের ছুটি কাটানো এবং তিনি কোথায় গিয়েছেন, তা নিয়ে আজও তলে তলে বিতর্কে হাওয়া দিয়েছেন। ঘরোয়া আলোচনায় তাঁদের দাবি, রাহুল ব্যাঙ্ককে রয়েছেন। যদিও এই সব অভিযোগ ও জল্পনা খারিজ করেছে কংগ্রেস। দলের তরফে বলা হয়, “অশোক চহ্বাণ দোষী সাব্যস্ত হননি। সিবিআই মামলায় জামিন পেয়ে অমিত শাহও তো বিজেপি সভাপতি হয়েছেন।” ব্যাঙ্কক প্রসঙ্গে কংগ্রেস মুখপাত্রের বক্তব্য, “রাহুল কোথায় গিয়েছেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন।”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ