রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ম্যারিল্যাল্যান্ডে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যতে বিক্ষোভ

এপ্রিল ২৪, ২০১৫ 33 views 0
ম্যারিল্যাল্যান্ডে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যতে  বিক্ষোভ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি ঃআমেরিকার ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরে পুলিশের নির্যাতনে এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ঘটনা সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গদের দাঙ্গা হয়।

গত সপ্তাহে মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর নগরে টহল পুলিশের হাতে গ্রেফতারের সময় কৃষ্ণাঙ্গ যুবক ফ্রেডি গ্রে আহত হন। গত রোববার হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নাগরিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, কোনো অপরাধ না করেই ফ্রেডি পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধাওয়া করে গ্রেপ্তারের সময় ফ্রেডির ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ড মচকে গিয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকদের পক্ষ থেকে পুলিশি বর্বরতা বন্ধ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করা হয়।

পশ্চিম বাল্টিমোর এলাকাটি প্রধানত কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকা।

অপরাধময় এলাকা হিসাবেও পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এ নগরে পুলিশের সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। নগরের বর্তমান মেয়র কৃষ্ণাঙ্গ হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি ঘটেনি। ফ্রেডি গ্রে মারা যাওয়ার পর পুরোনো সন্দেহ ও অবিশ্বাস আবার দানা বেঁধে উঠেছে।

এর আগে নিউইয়র্কসহ বড় বড় নগরে পুলিশের বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিসৌরি, নিউইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গরা পুলিশের হামলার শিকার হলে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

জনরোষ সামাল দিতে খোদ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও অ্যাটর্নি জেনারেল এরিখ হোল্ডার বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে গত স্টেটস অব ইউনিয়নে বক্তব্যও দিয়েছিলেন।

গত বুধবার বাল্টিমোর নগরে হাজারো জনতা পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সড়ক পথে অবস্থান নেন। তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বলা হয়েছে, নগর পিতা বা পুলিশ প্রধান কৃষ্ণাঙ্গ হলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বৈষম্য ও নিপীড়নের কারণ আরো গভীরে। সমাবেশ থেকে ফ্রেডি গ্রের নিহত হওয়ার জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক সবেতনে ছুটি দেয়া হয়েছে। পুলিশ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফ্রেডিকে গ্রেপ্তারের সময় স্বাভাবিক নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছে। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তল্লাশির সময় ফ্রেডি গ্রে পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে দৌড় দেন। ধাওয়া করে তাকে আটক করতে গিয়ে বল প্রয়োগ করতে হয়েছে।

কৃষ্ণাঙ্গদের অভিযোগের মুখে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুলিশ অসন্তোষের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে নগরপিতাদের। নিউইয়র্কের মেয়র ডি ব্লাজিও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পুলিশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এতে নগরীর আইন শৃঙ্খলা সামাল দেয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। ছবি: দ্য বাল্টিমোর সান-এর সৌজন্যে।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ