শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জ্বলন্ত আরাকানের চলন্ত গনহত্যার সমাধান নেই জাতিসংঘের বৈঠকে

আগস্ট ৩১, ২০১৭ 42 views 0
জ্বলন্ত আরাকানের চলন্ত গনহত্যার সমাধান নেই জাতিসংঘের বৈঠকে

প্রথম নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আরাকান ও রোহিঙ্গার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে । নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা বার্মার সরকারি বাহিনী ও রোহিঙ্গা উভয় পক্ষের সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা ও কোফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত আরাকান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। কিন্তু বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকের উদ্বেগ প্রকাশই কি জ্বলন্ত আরাকানের চলন্ত গণহত্যার দ্রুত সমাধান বয়ে আনতে পারবে? এমন প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক ।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, যেখানে ইতোপূর্বে জাতিসংঘ বার্মার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের অপরাধ তদন্তে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে গ্রহণ করেনি, সেখানে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় সাড়া দিবেনা বার্মা । উপরন্তু কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে খুঁজতে আরাকানের ২৩ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান ও ৫০ হাজার সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্বই থাকবেনা ।

 

আনান কমিশনের সুপারিশগুলো রোহিঙ্গাদের পক্ষে থাকায় তা বাস্তবায়ন করবে না গণতন্ত্রের লেবাস পরিধানকারী জান্তা সরকার । কমিশনটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার পরদিনই সরকারের তরফ থেকে এমন আভাস পাওয়া গেছে । ২৪ আগস্ট স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তর থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রতিক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ।

 

এদিকে আরাকান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাজ্য গত মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) আগ্রহ প্রকাশ করে এবং বুধবার (৩০ আগস্ট) আলোচনার দিন ধার্য হয়। কূটনীতিক সূত্র জানায় নিরাপত্তা পরিষদের ১২ থেকে ১৩ সদস্য আরাকান ও রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাহায্য অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশা প্রকাশ করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ আলোচনা চলে। সূত্র আরও জানায়, বৈঠকের শুরুতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ ইয়াংকা আরাকান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বক্তব্য দেন।

জানাগেছে, আরাকানে জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে অত্যন্ত সীমিত আকারে কাজ করতে হচ্ছে এবং এর ফলে তাদের কাছে গোটা পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র নেই। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আরাকান পরিস্থিতি দেখার জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বার্মা সরকারের বিরোধীতার কারণে তারা আরাকানে যেতে পারেনি। এ বিষয়টি নিয়েও নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হয়।

 

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন রোহিঙ্গা গণহত্যা থামাতে হলে, এই মূহুর্তে আরাকানে জাতিসংঘ শান্তি মিশন পাঠানো জরুরী । নয়তো আরাকানে রোহিঙ্গা জাতির অস্তিত্ব বিলিন করে দিবে সামরিক জান্তা । উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট বার্মার আরাকান রাজ্যে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা বিরোধী কিলিং অপারেশন শুরু করে যা এখনো চলমান রয়েছে ।

 

রোহিঙ্গাদের উপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ, গণধর্ষন ও গ্রামের পর গ্রাম অগ্নিসংযোগ করার কারনে প্রাণ বাঁচাতে দলে দলে রোহিঙ্গারা প্রতিবেশী মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছে ।

 

এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার বড় অংশই অপ্রকাশিত । সময়ের সাথে আরাকান পরিস্থিতি ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর হয়ে ওঠছে ।

 

সূএ : আরাকান নিউজ nnn

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ