শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিবে মালয়েশিয়া

সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭ 107 views 0
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিবে মালয়েশিয়া

লাদেন, মালয়েশীয়া প্রতিনিধি : মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর ২৫ অক্টোবর থেকে প্রায় এক লাখ ৬৪ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ আর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সহায়-সম্বল হারানো এসব দেশহীন শরণার্থীর ভাষ্যে।

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর হামলা-নির্যাতন-ধর্ষণের মুখে জীবন বাঁচাতে যদি কোনো রোহিঙ্গা মুসলমান পরিবার বিপদসঙ্কুল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ার উপকূলে পৌঁছায় তাহলে তাদের আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

 

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিতে চেয়েছে মালয়েশিয়া।

 

শুক্রবার দেশটির মেরিটাইম সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, তাদের কোস্ট গার্ড রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেবেনা এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করবে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরু হওয়ার পর মিয়ানমার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এখন অনেকেই সীমান্তে অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরেও অনেক রোহিঙ্গা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

 

তাদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলো। এর মাঝেই মালয়েশিয়া ঘোষণা দিলো তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে আগ্রহী।

 

মালয়েশিয়া মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির মহাপরিচালক জুলকিফলি আবু বাকার শুক্রবার সকালে রয়টার্সকে বলেন, নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে আন্দামান সাগর হয়ে ছোট ছোট নৌকায় করে রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়ায় উপকূলের দিকে আসতে পারে। আগে থেকেই এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মালয়েশিয়ায় আশ্রয়ে রয়েছে।

 

আমরা উপকূলে তাদের আটক করে প্রাথমিক মানবিক সাহায্য দিয়ে পুনরায় তাদের একই সমুদ্র পথে ঠেলে দিতে পারি। কিন্তু দিন শেষে মানবতার কারণে আমরা এটা করতে পারি না। এখনো পর্যন্ত নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখা যাচ্ছে না, যোগ করেন জুলকিফলি আবু বাকার।

 

মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের অনুসিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেনি। শরণার্থীদের এখানে অবৈধ অভিবাসী হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। মুসলিম অধ্যুষিত মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ৫৯ হাজার নিবন্ধিত শরণার্থী রয়েছে। কিন্তু অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যাটা এর দ্বিগুণ বলেও জানান মালয়েশিয়া মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির মহাপরিচালক।

 

মালয়েশিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী থাইল্যান্ডও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বেশ কয়েকটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, মানবপাচারের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যার পর গণকবর দেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক।

 

ওই মিশনের নেতৃত্ব দেবে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী। এক বিবৃতিতে নাজিব রাজ্জাক বলেন, ওই মিশনের মাধ্যম রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে মালয়েশিয়া।

 

শনিবার শরণার্থী শিবিরে যাবে মিশনটি। মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ও মালিন্দো এয়ার এই ত্রাণ সরবরাহে সহায়তা করবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

 

নাজিব বলেন, সীমান্তে একটি সামরিক হাসপাতাল স্থাপনের ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলবে মালয়েশিয়া।

 

গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে।

 

এ ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ