শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ভারতে কিশোরী বউয়ের খোঁজে আসা ৮ বৃদ্ধ ‘আরব শেখ’ গ্রেপ্তার

সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ 138 views 0
ভারতে কিশোরী বউয়ের খোঁজে আসা ৮ বৃদ্ধ ‘আরব শেখ’ গ্রেপ্তার

প্রথম নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চুক্তিতে বিয়ে করতে আসা আরবের ৮ শেখকে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে তাদের আটক করা হয়। এদের মধ্যে কারো বয়স ৭০ থেকে ৮০, কারো বা তার কাছাকাছি।

 

তারা  কিশোরীদের চুক্তিতে বিয়ে করতে ভারতে আসেন বলে পুলিশ জানায়। এদের মধ্যে একজন অন্ধও রয়েছেন।

 

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, গেস্টহাউজ ও বাসায় অভিযান চালিয়ে ৫ জন ওমান এবং ৩ জন কাতার নাগরিককে গ্রেপ্তার করে হায়দ্রাবাদ পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুইজনের বয়স ৮০’র ঘরে, হাটেন লাঠির সহায়তায়। এদের সঙ্গে আটক করা হয়েছে মুম্বাইয়ের প্রধান কাজী ফরিদ আহমেদ খানকেও। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

 

এই কাজী হায়দ্রাবাদে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করান, ৫০ হাজার রুপির বিনিময়ে সার্টিফিকেট দেন। গ্রেপ্তারকৃত ওমানের নাগরিকরা হলেন আল মায়াহ আলি ইসা, আল সালেহি তালিব হুমেইদ আলি, আল ওবাইদানি জুমা শিনুন সুলাইমান, আল সালেহি নাসের খালিফ হামেদ, আল কাশিমি হাসান মাজুল মোহাম্মদ এবং কাতারের নাগরিকরা হলেন ওমার মোহাম্মদ সিরাজ আব্দাল রহমান, হামাদ জাবির ও আল-কুয়ারি ও সাফেলদিন মোহাম্মাদ সালিহ।

এছাড়াও ভুয়া বিয়ে পড়ানোর জন্য সম্প্রতি দুইজন স্থানীয় কাজীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফালাকনুমা ও চান্দ্রায়ানগুত্তা এলাকায় বাসা কাম গেস্টহাউজ সিল করে দিয়েছে পুলিশ।

 

১৭ আগস্ট অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাকে বিয়ে করা এক ওমান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পরেই বড় আকারে এই অভিযান শুরু করে পুলিশ।

সম্প্রতি হায়দ্রাবাদ বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা শেখদের পর্যবেক্ষণ করে ভারতীয় পুলিশ। এমনই আটজন বিভিন্ন বাসা বা গেস্টহাউজে উঠলে তাদের অনুসরণ করে পুলিশ। তখন পুলিশ দেখে, নারীসহ বেশ কয়েকজন দালাল তাদের কাছে মেয়েদের নিয়ে আসে।

 

পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরেই গত রাতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। বেশ কয়েকটি গেস্ট হাউজে অভিযান চালানোর সময় তারা ২০ জনেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ‘সাক্ষাৎকার’ নিচ্ছিলো বলে জানায় পুলিশ কমিশনার মাহেন্দার রেডি।

সাউথ জোন পুলিশ চান্দ্রায়ানগুত্তা’র প্রাইভেট গেস্টহাউজে অভিযান চালিয়ে একেবারে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে ওমানের নাগরিক আল মায়াহি আলি ইসাকে। তার কাছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ে দেয়া হচ্ছিলো।

ফালাকনুমা বিভাগের এ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ মোহাম্মদ তাজুদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা কিশোরীদের বাছাই করছিলো। দালালরা তাদের দেখানোর জন্য গেস্টহাউজে মেয়েদের নিয়ে আসে।

 

তিনজন দালাল ও তিন কাজীসহ তাদের (৮ জন শেখ) গ্রেপ্তার করা হয়। শেখরা কোন মেয়েকে বিয়ের জন্য বাছাই করলে তাদের অভিভাবকদের ১ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় দালালরা, নিজেরা রাখে ২ থেকে ৩ লাখ রুপি।

উল্লেখ্য, ভারতের হায়দ্রাবাদ ও এর আশপাশ এলাকায় বিদেশি পর্যটকদের স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তিতে কিশোরী বা অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেয়ার একটি সংস্কৃতি চালু রয়েছে। আর এই বিয়ের পাত্র হলো আরব, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পয়সাওয়ালা শেখ’রা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অপরাধের পিছনে সহায়তা করছে স্থানীয় কাজীরা। বিদেশিদের চাহিদা মেটাতে তারাই মেয়েদের টাকার বিনিময়ে বিয়ে দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে টাকার লোভ দেখিয়ে বহু নাবালিকার অভিভাবককে প্রলুব্ধ করছে। এক্ষেত্রে বিয়ে হচ্ছে একটা চুক্তির মাধ্যমে। চার সপ্তাহের সেই চুক্তি মিটতেই স্ত্রীকে তালাকও দিয়ে দেয়া হচ্ছে।

 

এক আরব শেখের বিয়ে, সন্তান ও বিলাসী প্রতারনার জীবন

সাঈদের বয়স ৬ বছর। কিন্তু আজো পিতার চোখের দিকে তাকানোর সৌভাগ্য হয়নি তার। কারণ তার মা-বাবার বিয়ে হয়েছিল গোপনে এবং তার জন্মের পর তার পিতা তাকে সন্তানের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে।

 

সাঈদের পিতা বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন। তার নাম শেখ আহমেদ বিন সাঈদী আল মাখতুম। বিশ্বের অন্যতম এ ধনকুবের দুবাই আমিরের একজন চাচা। আর সাঈদের মা নিভিন এল গামাল। তার বাড়ি মিশর। আর সেও মিশরের একটি ফ্যাশনঅ্যাবল ধনী পরিবারের মেয়ে।

 

শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাখতুমের বয়স এখন ৫৬ আর নিভিন এল গামালের ৩৮। কিভাবে তাদের দুজনের পরিচয় এবং গোপন বিয়ে হয়েছিল সে বিষয়ে নিভিন এল গামাল বলেন, তিনি ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০০৪ সালে একদিন এমিরেটস টাওয়ার হোটেলে তার এক বান্ধবীর সাথে লাঞ্চ করছিলেন।

 

এসময় পাশের টেবিলে বসা ছিলেন শেখ আহমেদ। তার সাথেও অনেক বন্ধুবান্ধব ছিল। পাশপাশি টেবিলে বসে লাঞ্চ করার এক পর্যায়ে শেখ আহমেদের সাথে তার কথা হয়। শেখ আহমেদ তাকে জানান সে একজন ব্যবসায়ী। এসময় আহমেদ তার কাছ থেকে ফোন নম্বর নেয়। এর ২০ মিনিট পর শেখ আহমেদ তাকে ফোন করে রাতে ডিনারের আমন্ত্রণ জানায় । সে তাতে সাড়া দিয়ে তার বান্ধবীদের ডিনারে যোগ দেয়।

 

নিভিন বলেন, আমি যেহেতু ব্যবসা করছিলাম এবং শেখ আহমেদও যেহেতু ব্যবসায়ী তাই সে আমার একজন ভাল ক্লায়েন্ট হতে পারে এ আশা ছিল। এছাড়া তার আর কোন পরিচায় আমার জানা ছিলনা।

 

নিভিন বলেন, এর একমাস পরে আমি লন্ডনে যাই এবং সেখানে একটি প্রাইভেট জেটে করে আসেন শেখ আহমেদ। সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।

 

নিভিনের মতে সেও তখন আহমেদের প্রেমে পড়ে যায়। সে শেখ আহমেদের প্রতি খুবই দুর্বলতা অনুভব করে যা সে আগে কখনো অন্য কোন পুরুষের প্রতি করেনি। এরপর তারা দুজনে একসাথে বসবাস শুরু করে। কখনো আহমেদের নাইটসব্রিজ ফ্লাটে আর কখনো দুবাইর বিলাসবহুল ইয়টে (ব্যক্তিগত প্রমোদ তরী)।

 

ধনকুবের শেখ আহমেদ কর্তৃক একের পর এক দামী গিফটে ভেসে যেতে লাগল নিভিন এল গামেল। সোনা, হিরার দামী গহনা, মূল্যবান সব পোশাক, ব্যগ, জুতা, শোপিস আসতে লাগল বানের মত। শেখ আহমেদের বিলাসবহুল জীবন যাপনে বিমোহিত হতে লাগল নিভিন। দামী উপহার দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি আহমেদ, কমতি ছিলনা নিভিনের প্রতি ভালোবাসায়ও। তার প্রতি বেশ যত্নশীল ছিল সে। সকালে নিভিন ঘুম থেকে ওঠার আগেই তার ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে তার দিকে এগিয়ে দিত সে।

 

এভাবে চলার পর ২০০৭ সালে তাদের বিয়ে হয় খুবই গোপনে। দুজন মাত্র অপিরিচিত পুরুষকে নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষী মানা হয় এবং একজন ইমাম তাদের বিয়ে পড়ান।

 

নিভিন জানান, রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্য হিসেবে বিদেশী কোন মেয়েকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ ছিল আহমেদের জন্য। সে কারনে সে এটা মেনে নিয়েছিল। আহমেদ তাকে জানিয়েছিল বিয়ের পর শিঘ্রই সে এটা প্রকাশ করবে।

 

কিন্তু নিভিনের মতে সব পাল্টে গেল যখন সে তাকে জানাল তার গর্ভবতী হবার খবর। এরপর আহমেদ তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরই মধ্যে শেখ আহমেদ তার চাচাত বোনকে বিয়ে করে।

 

সাঈদ জন্মের আগে নিভিন চলে যায় লসঅ্যাঞ্জেলস। সেখানেই ২০০৮ সালে জন্ম হয় সাঈদের। আহমেদ তাকে পিতার পরিচয় দিতে অস্বীকার করে।

 

এরপর নিভিন লন্ডনে ফিরে এসে দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ে নামে। অবশেষে পিতৃত্ব পরীক্ষা শেষে লন্ডনের আদালত রায় দেয় শেখ আহমেদ বিন সাঈদী আল মাখতুমই হল সাঈদের পিতা। আদালত তাকে বাধ্য করে ২১ বছর পর্যন্ত খরচ বহন করার জন্য। এ বাবদ মাসিক ১৫ হাজার পাউন্ড করে প্রদানের জন্য আহমেদের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত। শেখ আহমেদ তা করে যাচ্ছেন। কিন্তু সন্তানের মুখোমুখি তিনি হননি আজো।

 

এরই মধ্যে নিভিনের ওপর আবার বিপর্যয় নেমে এসেছে। যুক্তরাজ্য সরকার তাকে লন্ডন ত্যাগরে নির্দেশ দেয়। তাই আবার নিভিন আদালতের দ্বারস্থ হন লন্ডনে তার অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য। কারণ লন্ডনে থাকতে না পারলে তিনি তার প্রাক্তন স্বামী শেখ আহমেদের কাছ থেকে কোন ভরনপোষন পাবেননা। মিশন ফিরে গেলে আবার নতুন করে তাকে আইনী লড়াইয়ে নামতে হবে। নতুন আদেশ পেতে হবে।

 

সর্বশেষ লন্ডন ত্যাগের সরকারি আদেশে বিপর্যন্ত নিভিন জানান, তার নিজের জন্য সে যতটা না দু:খিত তার চেয়ে বেশি অনুশোচনা ভোগ করেন তার ছয় বছর বয়সী সন্তান সাঈদের জন্য। কারণ সে আজো তার পিতার চোখের দিকে তাকানোর সুযোগ পায়নি। সে তার পিতা সম্পর্কে সব সময় জিজ্ঞাসা করে। আমি তাকে শুধু মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছি একের পর এক।

 

লন্ডন ত্যাগের সরকারি নির্দেশ বিষয়ে নিভিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি যুক্তরাজ্যে কোন বোঝা নেই। আমার যথেষ্ট সম্পদ আছে। সাঈদের পিতা আমাদের প্রতি মাসে ১৫ হাজার পাউন্ড দিচ্ছে। আমাদের স্বাস্থ্য সেবাও যুক্তরাজ্য সরকারকে ফ্রি বহন করতে হয়না।

সূত্র : ডেইলি মেইল অনলাইন

 

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ