প্রকাশ : সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বলি হলেন ১১ বাংলাদেশি
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বলি হলেন ১১ বাংলাদেশি

প্রথম নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বলি হলেন ১১ বাংলাদেশি। বুধবার (১১ অক্টোবর) ভোরে ১১ জনকে আটক করে অ্যারিজোনার দুর্গম ডিপোর্টেশন কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশগামী বিশেষ ফ্লাইটে জোর করে তুলে দেয়া হয়। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’র মিডিয়া দপ্তর এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে  জানান, ‘এটি চলিত কার্যক্রমেরই একটি অংশ।

 

একদিকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, অপরদিকে নানাবিধ অপকর্মে লিপ্তদের আমেরিকা থেকে বহিষ্কারের যে কার্যক্রম চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় এদের গ্রেপ্তার করে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হলো।’

 

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দৈনিক গড়ে প্রায় ৪০০ অবৈধ অভিবাসীকে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে তা ৪০% বেশি।

 

বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন, মোজাম্মেল হক, সেলিম আহমেদ, করিম চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, বাবলু শরিফ, মোহাম্মদ বাদল রনি, মোহাম্মদ ফরিদুল মওলা, মনিরুল ইসলাম, নাসরিন চৌধুরী, মোহাম্মদ আম্বিয়া ও খায়রুল আম্বিয়া।

 

এই ১১ বাংলাদেশির মুক্তির ব্যাপারে মার্কিন সিনেট ও কংগ্রেসে আবেদনকারী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান মাজেদা এ উদ্দিন প্রচণ্ড ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘শুধুমাত্র গুরুতর অপরাধীদের ধরে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’-এমন দাবি করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

 

অথচ এই ১১ বাংলাদেশির একজনও কোন ধরনের অপরাধে লিপ্ত ছিলেন না। তাদের অপরাধ একটাই, আর তা হচ্ছে অভিবাসনের মর্যাদা নেই। তারা সকলেই ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা দোকানের বিক্রেতা অথবা ট্যাক্সি ড্রাইভিং করে দিনাতিপাত করছিলেন।

 

ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ডে রেস্টুরেন্টে কর্মরত অবস্থায় মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তারের সময় তার স্ত্রী (একই রেস্টুরেন্টের কর্মী) বাধা দিয়ে ফেঁসে গেছেন। কারণ, তিনিও অবৈধভাবে এদেশে বাস করছিলেন। এ দম্পতির ৩টি শিশু সন্তান রয়েছে। সকলেরই জন্ম আমেরিকায়। অপর বাংলাদেশিদেরও রয়েছে ২৫ শিশু-সন্তান। বাবার অনুপস্থিতিতে এই শিশুদের কী অবস্থা হবে, সেটি উল্লেখ করে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের মুক্তি প্রদানে সর্বাত্মক সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছিলাম ইউএস সিনেট ও ইউএস হাউজে। কিন্তু কোন সাড়া পাইনি।’

 

মাজেদা উদ্দিন বুধবার রাতে আরো জানান, ‘নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো কিছুক্ষণ আগে এক বার্তায় আমাকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জামিনে মুক্তির ব্যাপারে তিনি চেষ্টা করবেন।’

 

এদিকে, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্যাঙ্কচুয়ারি সিটিতে অভিযান চালিয়ে গত মাসের শেষ সপ্তাহের ৪ দিনে বাংলাদেশিসহ ৪২ দেশের ৪৮৯ অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে গ্রেপ্তার করেছে আইস (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা। এরা নানা অপকর্মে জড়িত ছিল এবং ইমিগ্রেশনের আইন লঙ্ঘন করে বসবাস করছিল।

 

কর্মকর্তারা আরো জানান, যে সব সিটি প্রশাসন অবৈধ এবং ক্রিমিনাল ইমিগ্র্যান্টদের ধর-পাকড়ে আইসকে সহায়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে সেগুলোতে এ ধরনের অভিযান মাঝেমধ্যেই চালানো হবে।

 

নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়া, জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিন এলাকায় এ অভিযানে কমপক্ষে ৯ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার ঘটেছে।

 

যদিও যারা কোন অপরাধে লিপ্ত নন বা ছিলেন না, তাদের ভয়ের কোন কারণ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। এমন অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে সকলকে পরিচয়পত্র সাথে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যাদের পরিচয়পত্র নেই, তারা যেন এমন কিছু সঙ্গে রাখেন যা দিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানো সম্ভব হয়।

 

বিশেষ করে যাদের স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্ট অথবা অন্য কোন কর্মসূচিতে আবেদন পেন্ডিং রয়েছে, তারা যেন এটর্নির পরামর্শ অনুযায়ী চলাচল করেন। এটর্নি মঈন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ধর-পাকড় চলছে, তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’