বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সরকার পতনের কার্যকর আন্দোলনের দিকেই এগোচ্ছি : ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু

মে ২৯, ২০১৫ 111 views 0

D

শান্তা ইসলাম রিকু, প্রথম নিউজ : বিএনপি আন্দোলনে আছে। সরকার যদি এ থেকে শুভবুদ্ধির পরিচয় না দেয় তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের জ্যৈষ্ঠ পুত্র ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের প্রান প্রিয় নেতা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু।

 

তিনি বলেন, আন্দোলন বলতে এখানকার মানুষ, সাংবাদিকসহ বুদ্ধিজীবীরা অনেকে মনে করেন রাস্তা উত্তপ্ত না হলে আন্দোলন হয় না। হরতাল- অবরোধ, ঘেরাও এসব না হলে আন্দোলন হয় না। কিন্তু আমি বলব একটি মিছিলও আন্দোলন, একটি সমাবেশও আন্দোলন; একটি বিবৃতিও আন্দোলন। আমরা এখন সেই পর্যায়ে আছি।

 

প্রথম নিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমানে সরকার অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আছে তার অর্থ এই নয় যে এই সরকারই চিরস্থায়ী। ফ্যাসিজমকে বহন করে মানুষ এগিয়ে যাবে সবসময় এমনটি নয়! আমরা একটি কার্যকর আন্দোলনে যাব, যে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে অপসারণ করব ইনশাল্লাহ।

 

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন প্রথম নিউজের সিনিয়র স্ট্যাফ রিপোর্টার শান্তা ইসলাম রিকু ও এস ডি অপু

 

পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো

 

Riku-Bablu

 

প্রথম নিউজ :  বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয়েছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ৫ জানুয়ারির পর আন্দোলন স্থগিত করা ভুল ছিল। এই ভুল স্বীকার থেকে আসলে বিএনপি কি অর্জন করতে চায়?

 

উত্তর :  আসলে ভুল স্বীকার করার পর আমার মনে হয় আমরা কিছু শিখেছি। আমার পার্সোনাল ওপেনিওন মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। ভুলটা স্বীকার করে আমরা আমাদের দোষ ত্রুটি গুলো ধরতে পেরেছি। আন্দোলনে যে ভুল ছিলো সেটি শুধরে আগামীতে নতুন করে আবার জোরালো ভাবে আন্দোলন করবো ।

 

প্রথম নিউজ :  আন্দোলন থেকে সরে আসাটা যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে  দল তো ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই ক্ষতি কিভাবে আপনার পুষিয়ে উঠবেন এবং এর দায় কার ওপর বর্তাবে?

 

উত্তর :  আন্দোলন থেকে সরে আসাটা ভুল হয়েছে এটা অনেকে বলে আর কি? তবে তখনকার পেক্ষাপটে যে টা করনীয় ছিলো সেটাই করা হয়েছে। এটা আন্দোলনের একটা কৌশল ছিল। তবে আমার পার্সোনাল ওপেনিওন অবশ্যই আন্দোলন থেকে সরে আশা আমাদের ভুল ছিলো। তবে এখন যেটা করা উচিৎ সেটা হল আমাদের দল টাকে সুন্দর করে সাজাতে হবে এবং পরবর্তীতে তৃনমুল পর্যায়ের সকল নেতা কর্মীদের নিয়ে জোরালো ভাবে আন্দোলন করতে হবে।

 

প্রথম নিউজ :  আপনারা দল গুছিয়ে নতুন আন্দোলনে যাবেন বলে গত কিছুদিন ধরে বেগম জিয়া বলে আসছেন। প্রশ্ন হচ্ছে- দলে কি তাহলে কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা আছে যে কারণে আপনারা দল গোছানোর কথা বলছেন এবং আন্দোলনে যেতে পারছেন না?

 

উত্তর : দেখুন বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাতো থাকবেই। আর  অভ্যন্তরীন সমস্যা বলতে সব বড় বড় দলেই থাকে। আওয়ামী লীগ বলেন বিএনপি বলেন প্রত্যেকটা দলে অভ্যন্তরীন কোন্দল আছে। এটাকে বলে নেতৃতের প্রতিযোগিতা। সবাই চায় নেতৃত করতে। এই রকম সমস্যা অবশ্যই আছে। এবং আগেও ছিল বিগত সময়ে আমরা এটা কাটিয়ে এসেছি। এখনো পারবো। মুল কথা আমরা আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটাকে গুছাবো।

 

প্রথম নিউজ : আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা আপনার কাছ থেকে জানতে চাইছি যে, কবে নাগাদ আপনাদের আন্দেলন শুরু হতে পারে এবং আন্দোলনের ধরণটা নকি হবে?

 

উত্তর :  আগে আমরা আমাদের দলটাকে তৃণমূল পর্যায়ে গুছাবো। আপাতত আমরা দলটাকে না গুছিয়ে বড় কোন ইস্যূ না থাকলে আমরা কোন আন্দোলনে নামবো না। মুলত আমাদের আন্দোলন হলো জনগণের জন্য, দেশ ও মানুষের জন্য। এ সরকারের আমলে জনগন যে সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের বাস্তব চিত্র যেমন দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব, চাকরি ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম, অত্যচার, মিথ্যা মামলা, বহিঃ বিশ্ব থেকে আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, গুম, খুন্, হত্যা ও বর্তমানে যে ভাবে নারী ধর্ষণ ঘটছে। একটা নির্দিষ্ট দলে বা ক্ষমতাসীন দলে থাকলে তা সাত খুন মাপ। আর যারা নির্দোষ তাদের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এগুলোকে দেশ ও জাতির কাছে তুলে ধরবো। মোট কথা জনগনকে নিয়ে জনমত তৈরি করে আমরা আন্দোলন করবো।

 

প্রথম নিউজ : আগের আন্দোলনে আপনাদের বিরুদ্ধে জ্বালাও-পোড়াওয়ের অভিযোগ ছিল। এ সম্পর্কে কি বলবেন?

 

উত্তর : মানুষ পূর্বের থেকে কিছু শিখে। এই জালাও পোড়াও আন্দোলন কিন্তু তাদের তৈরি। বিগত সরকারের আমলে শেরাটন হোটেলের সামনে তারাই কিন্তু শেখ হাসিনার নেত্রিত্বে ২০/২২ জন কে পুড়িয়ে মারছিলো। সেটা পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আরো অনেক নেতা কর্মীরা স্বীকার করেছে। এর অর্থ এই নয় যে তাদের কে দেখে আমরাও এটা করবো। জালাও পোড়াও আন্দোলনে মুলতো নামটা হয়েছে বিএনপির কিন্তু কাজটা করেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগরা এই সরকারের মদতে। বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে জনগণ এটা দেখেছে। এটা করে এই সরকার বিএনপিকে একটা জঙ্গিবাদী দল হিসাবে দেখাতে চাইছে।

কিন্তু জনগন সেটা বুঝে, তারা জানে যে বিএনপি জালাও পোড়াও আন্দোলনে বিশ্বাসী না। বিএনপি গঠনতান্ত্রিক ভাবে হরতালের মাধ্যমে আন্দোলন করে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রত্যেকটি জালাও পোড়াও ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইছে। কিন্তু এই সরকার সেটা করেনি। অনেক জায়গায় কিন্তু ছাত্রলীগ জড়িত ছিল। যুবলীগ জড়িত ছিল। আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় বোমার কারখানা ছিলো। আমাদের মাননীয় চেয়ারপারসন বলেছেন। আমরাও বার বার বলেছি। বিএনপি জালাও পোড়াও আন্দোলনের বিপক্ষে। আন্দোলন সংগ্রামে যেটা গঠনতান্তিক আন্দোলনের প্রতিবাদ করা হবে হরতালে। হরতাল আমাদের মৌলিক অধিকার।

পৃথীবির সব দেশেই হরতাল নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আর আমরা সেই মৌলিক অধিকারে বিশ্বাসী। আমরা জ্বালাও পোড়াও তে বিশ্বাসী না। আমরা বাসে আগুন দেয়া পেট্রোল দিয়ে মানুষ পোড়ানো এগুলো থেকে সব সময় বিপক্ষে ছিলাম। এগুলো সরকারী দল করে আর সমস্ত দায় বিরোধী দলের উপর চাপানোর চেষ্টা করে। তারা যেটা চেষ্টা করছে যে বিএনপি একটা জঙ্গি সংগঠন এটা জনগনের কাছে তুলে ধরতে। কিন্তু জনগন সেটা বুঝে যে জ্বালাও পোড়াও এর সাথে বিএনপি জড়িত নয়। ২০ দলীয় ঐক্যেজোট জড়িত ছিলনা। আমার মনে হয় যে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনে বিএনপি জড়িত নয়। বিছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটতে পারে যে এতে দু-এক জন জড়িত ছিল কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে আমি বলবো এটা সরকারী দল করে দোষটা বিরোধী দলের উপর চাপিয়ে দেয়।

 

প্রথম নিউজ : অনেক দিন ধরে আপনারা আন্দোলনের কথা বলছেন এবং ঈদের পর তীব্র আন্দোলন হবে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু দুই ঈদ চলে গেলেও আপনাদের আন্দোলন দেখা যায় নি। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা হাসাহাসি করেন। আপনি কি একটু আমাদেরকে বলবেন- বার বার ঘোষণা দিয়েও আপনার কেন আন্দোলনে যেতে পারছেন না?

 

উত্তর :  প্রথমেই এখন আগে আমরা আমাদের দলটাকে তৃণমূল পর্যায়ে গোছাবো ,আপাতত আমরা দলটাকে না গুছিয়ে বড় কোন ইসু না থাকলে আমরা কোন আন্দোলোনে নামবো না। মুলত আমাদের আন্দোলোন হল জনগণের জন্য দেশ ও মানুষের জন্য। এ সরকারের আমলে জনগন যে সব সুভিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের বাস্তবচিত্র যেমন দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি বেকারত্ব,চাকরিক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম, অত্যচার, মিথ্যামামলা বহিঃ বিশ্ব থেকে আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা ,গুম ,খুন্ ,হত্যা ও বর্তমানে যে ভাবে নারী ধর্ষণ ঘঠছে একটা নির্দিষ্ট দলে বা ক্ষমতাসীন দলে থাকলে তা সাতখোর মাপ আর যারা নির্দোষ তাদের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে । আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এগুলোকে দেশ ও জাতির কাছে তুলে ধরবো। মোটকথা জনগনকে নিয়ে জনমত তৈরি করে আমরা আন্দোলন করবো ।

 

প্রথম নিউজ : আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হচ্ছে প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে। তো যদি সেরকম ঘটনা ঘটে তাহলে সে পরিস্থিতি বিএনপি কিভাবে মোকাবেলা করবে?

 

উত্তর : বাংলাদেশের সব থেকে জনপ্রিয় নেত্রী হলেন বেগম খালেদা জিয়া আর তাকে যদি সরকার গ্রেফতার করে ।তাহলে এর প্রতিকার জনগনেই করবে।জনগনেই তার জবাব দিবে।

 

 

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ