শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

নিজেদের ভবিষ্যৎও রাজনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জামায়াত

জুন ১০, ২০১৫ 32 views 0
নিজেদের ভবিষ্যৎও রাজনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জামায়াত

প্রথম নিউজ প্রতিবেদক :বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের অবস্থা খুবই নাজুক। তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এখন নানা ভাবে নানা স্থানে  ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তো আছেই সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, কামাই-রোজগার  থেকে দূরে রয়েছেন তারা।

 

দলের সাংগঠনিক কাজকর্মতো দূরের কথা নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিয়েই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। এ অবস্থায় দলের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের এ দলটি।

 

যদিও নানা ইস্যু নিয়ে বিএনপির সঙ্গে চলছে তাদের ঠাণ্ডা লড়াই। এ মুহূর্তে জোট নয়, দলের ভবিষ্যৎ চিন্তায় বড় হয়ে দেখা দিয়েছে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সামনে।

 

কেননা গত পাঁচ বছর ধরে দলটির কেন্দ্রীয়সহ সারা দেশের কার্যালয় বন্ধ। একই অবস্থা দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের।

 

মামলায় বিপর্যস্ত দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সভা-সমাবেশ দূরে থাক-প্রকাশ্যে বেরই হতে পারেন না তারা। জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদসহ শীর্ষপর্যায়ের প্রায় সব নেতা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অবস্থায় হয় কারা অন্তরালে নয়তো পলাতক রয়েছেন।

 

ইতিমধ্যে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। নিজামীসহ অনেকের ফাঁসির রায় হয়েছে।

 

এ ছাড়াও রয়েছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা। এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী বহু মামলার খড়গ।

 

সবমিলিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও রাজনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্ব। সর্বশেষ জামায়াতের দুশ্চিন্তা আরেক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর।

 

ঢাকা সফরের সময় ২০-দলীয় জোটপ্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধি দল হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠক করে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকও হয় খালেদা জিয়ার।

 

মোদির সঙ্গে বৈঠকের পরে বিএনপির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি নিয়েও কোনো আপত্তি জানায়নি বিএনপি।

 

তবে সে সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, ১৯টি চুক্তি-সমঝোতা-স্মারক সবই হয়েছে ভারতের প্রয়োজনে।

 

এতে বিএনপি-জামায়াতের দূরত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে নতুন করে। এ ছাড়া সাম্প্রতিককালে বিএনপির সঙ্গে টানাপড়েন চলছে জামায়াতের।

 

জামায়াতকে ত্যাগ করার জন্য দেশের ভিতরে-বাইরে, এমনকি খোদ বিএনপি নেতাদেরও চাপ রয়েছে হাইকমান্ডের ওপর।

জানুয়ারির ব্যর্থ আন্দোলনের পর অনেকটা অকার্যকর হয়ে গেছে ২০-দলীয় জোট।সর্বশেষ তিন সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে টানাপড়েন সৃষ্টি হয় বিএনপি-জামায়াতের।
এই নির্বাচনের দিন ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি সিটি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি জামায়াত।
জামায়াতের একটি সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে যোগাযোগ বর্তমানে গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিু পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির ওপর জামায়াতের অভিযোগও কম নয়।
জামায়াতের একের পর এক বিপদ যাচ্ছে জোটপ্রধান হিসেবে বিএনপি একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেয় না। এ অবস্থায় জামায়াতের সিদ্ধান্ত হচ্ছে দলটি ২০-দলীয় জোট ত্যাগের কোনো ঘোষণা দেবে না।
তবে বিএনপি তাদের জোট থেকে বাদ দিলে তাদের আপত্তি থাকবে না।

 

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ