রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

ক্ষমতায় থাকার জন্য অথবা যাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা:বিশিষ্ট ৪০৮ জন ব্যক্তি

মে ১০, ২০১৭ 731 views 0
ক্ষমতায় থাকার জন্য অথবা যাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা:বিশিষ্ট ৪০৮ জন ব্যক্তি

প্রথম নিউজ প্রতিবেদক: ক্ষমতায় থাকার জন্য অথবা যাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা এবং মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে সঙ্গে রাখার যে অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তা দেশকে এক ভয়াল অন্ধকারে নিয়ে যাবে। দেশের বিশিষ্ট ৪০৮ জন ব্যক্তির এক যৌথ বিবৃতিতে এ শঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

 

‘পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ, পয়লা বৈশাখের ওপর আক্রমণ, অপপ্রচার, ভাস্কর্য অপসারণ, কওমি মাদ্রাসাকে অন্যায্য মর্যাদা দানসহ উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কাছে সরকারের আত্মসমর্পণের প্রতিবাদ জানিয়ে’ এই বিবৃতি দিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা।

 

তারা বলেছেন, ‘আমরা সরকারের এই আত্মঘাতী খেলা থেকে বের হয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি এবং এই অশুভ তত্পরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সব দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’ সোমবার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

 

৪০৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির এ যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দেশের বেশ কিছু ঘটনা তাদের উত্কণ্ঠিত করেছে। পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিজাত পরিবর্তন, নববর্ষ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে আক্রমণ, পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান সংকুচিত করা, ভাস্কর্য অপসারণের দাবি,

 

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের আপস ও আত্মসমর্পণের ঘটনায় দেশের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক মানুষ ব্যথিত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ বছর প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে যে পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে, তা স্বাভাবিক নিয়ম মেনে হয়নি। পাঠ্যপুস্তকের ১৩ জন সম্পাদক গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন- এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে তাঁদর অজান্তে।

 

পাঠ্যপুস্তকের এই সাম্প্রদায়িকীকরণের ঘটনা বছরের প্রথম দিনেই বিনা মূল্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য ম্লান করে দিয়েছে।

 

ছাপার ভুল, বানান-তথ্য-ইতিহাসের বিকৃতির ঘটনাগুলোকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হলেও ধীরে ধীরে বের হয়ে এসেছে এসব বিকৃতির পেছনের অভিসন্ধি। পশ্চাত্পদ ও মৌলবাদের তোষণনীতির কারণেই পাঠ্যপুস্তকে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।

 

এর পেছনে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে ভয়ানক বিস্তার রয়েছে, তা গত কয়েক বছর ধরেই স্পষ্ট। এ বছরের পাঠ্যপুস্তকের এই পরিবর্তন সেই সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতির সঙ্গে সরকারের আপস রফারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।’

 

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘হেফাজতে ইসলাম শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ছবি আঁকার পাঠ তুলে দিতে চায়। তারা দাবি তুলেছে, পঞ্চম শ্রেণির পর ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে ক্লাস করা নিষিদ্ধ করতে হবে। হেফাজতের দাবি মেনে নিয়ে পাঠ্যপুস্তকের ব্যাপক পরিবর্তনের পর এরই মধ্যে নারীশিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার রচনা সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পাঠ্যপুস্তকে এই ঘৃণ্য বিকৃতির বিরুদ্ধে আমাদের যেমন কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা আবশ্যক, তেমনি সরকারেরও উচিত রাষ্ট্রযন্ত্রের নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা মুখোশধারী মৌলবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী ভাবাদর্শের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি প্রদান করা।’

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সুপ্রিম কোর্টের সামনে নির্মিত ভাস্কর্যটি মানসম্পন্ন হয়নি। এ কথা স্বীকার করেও প্রশ্ন করা যায়, ঢাকাসহ সারা দেশে নির্মিত ভাস্কর্যগুলোর সব কটি কি মানসম্পন্ন হয়েছে?

 

যদি মানসম্পন্ন না হয়ে থাকে, শিল্পমানের ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে দেশের প্রতিভাবান শিল্পীদের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে এর মানোন্নয়নের জন্য; কিন্তু হেফাজতের দাবির সঙ্গে সুর মিলানো কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভাস্কর্য হলো সমাজের ভাবনা ও মননশীলতার প্রতীক। হেফাজতে ইসলাম দেশের সব অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও মুক্তিসংগ্রামের সব স্মারক ও সৌধসমূহকেই মূর্তি আখ্যা দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে।

 

তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, অপরাজেয় বাংলা, শিখা চিরন্তন ইত্যাদি।’

 

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন আহমদ রফিক, কামাল লোহানী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, যতীন সরকার, সৈয়দ হাসান ইমাম, হাসান আজিজুল হক, সনত্ কুমার সাহা, অজয় রায়, অনুপম সেন, কবি নির্মলেন্দু গুণ, আবুল মোমেন, শিল্পী আনোয়ার হোসেন, দ্বিজেন শর্মা,

 

বেগম মুশতারী শফি, রশিদ ই মাহবুব, লায়লা হাসান, মামুনুর রশিদ, ইনামুল হক, চলচ্চিত্রকার মসিউদ্দিন শাকের, লাকী ইনাম, এ এন রাশেদা, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আবেদ খান, চিত্রশিল্পী আবুল বারক্? আলভী, অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।

 

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ