প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
গাজীপুরে হাসপাতালে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন হাসিনা-রেহানা
গাজীপুরে হাসপাতালে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন হাসিনা-রেহানা

প্রথম নিউজ প্রতিবেদক : গাজীপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে গতকাল শনিবার ‘নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা।

 

একজন সাধারণ রোগীর মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে পাঁচ টাকা করে দুই বোন দুটি টিকিট কেনেন এবং কাউন্টারে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষার ফি জমা দেন।

 

গতকাল সকাল ৮টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের তেঁতুইবাড়িতে অবস্থিত মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে পৌঁছলে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে স্বাগত জানান হাসপাতালের সিইও জাইতুন বিনতি সুলাইমান।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর চোখ-কানসহ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে রক্ত, আলট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে করা হয়। খালি পেটে রক্ত দিয়ে তিনি হাসপাতালেই নাশতা করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবস্থানের সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

 

এ সময় হাসপাতালের খণ্ডকালীন চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হক, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ, হাসপাতালের সিইও জাইতুন বিনতি সুলাইমান, মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. রাজীব হাসান ও কনসালট্যান্টরা উপস্থিত ছিলেন।

 

জানতে চাইলে ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘যে পরীক্ষাগুলো করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর কোনো অসুস্থতা নেই, তিনি ভালো আছেন।’

 

২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান কেপিজের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয়।

 

বিশ্বমানের এই হাসপাতালে রয়েছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতিসহ স্বনামধন্য ডাক্তাররা, মালয়েশিয়ার নার্স, রয়েছে মেডিসিন বিভাগ, নিউরোমেডিসিন, স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি, জেনারেল অ্যান্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি, শিশু রোগ, চক্ষু বিভাগ, নাক কান গলা বিভাগ, মাইক্রোবায়োলজি, রেডিওলজি ও ইমেজিং; চর্ম, অ্যালার্জি, হাড় ও আঘাতজনিত রোগ; হৃদরোগ, অ্যানেস্থেসিয়া, গেস্টোএন্টালজি ও হেপাটলজি, ডায়ালিসিস, কিডনি রোগ, ইউরোলজি ও প্যাথলজি বিভাগ।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষায়িত এই হাসপাতালটি এ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যান্য নামি-দামি হাসপাতালের মতো আইএমএস (ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে, যা রোগীদের কাছে আরো অধিকতর আস্থাভাজন করে তুলবে।

 

হাসপাতালটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য এখানে দেশখ্যাত বিভিন্ন ডাক্তার নিয়মিত রোগী দেখেন। এমনকি মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ডাক্তাররাও রোগী দেখেন। রয়েছে ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ, ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স সেবা, ৪ ডি আলট্রাসাউন্ড এমআর আই (১.৫ টেসলা), সিটি স্ক্যান (১৬০ স্লাইস), বিএমডি, আইসিইউ, সিসিইউ, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার, ক্যাথ ল্যাব, ২৪ ঘণ্টা প্রাইমারি এনজিওপাস্টি, হেমোডায়ালিসিস, ২৪ ঘণ্টা ফার্মেসি, ফিজিওথেরাপি, কনসালট্যান্ট অপিডি ক্লিনিক, ২৪ ঘণ্টা ল্যাবরেটরি সার্ভিস, ২৪ ঘণ্টা ব্লাড ব্যাংক সার্ভিস, ডায়টারি, রোগীর অতিথি ভবন ও ক্যাফেটেরিয়া।

 

দেড় বছর আগেও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি কখনো অসুস্থ হয়ে পড়ি, তাহলে আমাকে বিদেশে নেবেন না। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ওঠাবেন না। আমি দেশের মাটিতেই চিকিৎসা নেব। এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেব। ’