শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

প্রধান বিচারপতিকে অসুস্থ বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে : রুহুল কবির রিজভী

অক্টোবর ৭, ২০১৭ 54 views 0
প্রধান বিচারপতিকে অসুস্থ বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে : রুহুল কবির রিজভী

প্রথম নিউজ প্রতিবেদক : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে জোরপূর্বক এক মাসের ছুটি দিয়ে গোটা বিচার ব্যবস্থাকে সরকার নিজেদের আয়ত্বে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে অসুস্থ বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাকে জোর করে ছুটিতে পাঠিয়ে এখন দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এজন্য গত দুই দিন ধরে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা দেখা করে তার ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করছেন। আসলে প্রধান বিচারপতিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার এটি প্রথম পদক্ষেপ।

 

শনিবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

 

রিজভী বলেন, মানুষের বিচার প্রার্থনার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু আর থাকল না। এর ফলে আগামী দিনের সকল রায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই নিয়ন্ত্রণ হবে বলে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেভাবে তাকে নাজেহাল করা হয়েছে, যেভাবে বিচার বিভাগের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি নস্যাৎ হয়েছে তাতে বিচার বিভাগের সম্মান ও ভাবমূর্তি বলে কিছু অবশিষ্ট রইল না।

 

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের নিষ্ঠুর প্রতিহিংসার শিকার হবে সরকার-বিরোধীরা। দেশকে স্থায়ী দুঃশাসনের বজ্র আঁটুনিতে বেঁধে ফেলা হলো। বিচার বিভাগের ওপর আরও নগ্ন হস্তক্ষেপ করে ন্যাবিচারের পথকে চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়া হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

রিজভী আহমেদ বলেন, গত পরশু তিনি (এসকে সিনহা) যখন মন্দিরে গেছেন তখন তার সঙ্গে যাদের দেখা হয়েছিল তারা পরিষ্কার করে বলেছেন প্রধান বিচারপতিকে দেখে অসুস্থ মনে হয়নি।

 

সুপ্রীম কোর্টের কর্মকর্তারা তাঁর বাসভবনে দেখা করে গণমাধ্যমকে বলেছেন প্রধান বিচারপতিকে দেখে অসুস্থ মনে হয়নি। বন্ধুরা, তাঁকে জোর করে ছুটিতে পাঠিয়ে এখন দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এজন্য গত দু’দিন ধরে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা দেখা করে তাঁর ওপর প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করছেন। অথচ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বারবার প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করার চেষ্টা করলেও পুলিশী বাধায় দেখা করতে পারেনি।

 

তিনি বলেন, একজন সুস্থ ব্যক্তিকে অসুস্থ বানিয়ে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ইতিহাস আওয়ামী লীগের অনেক পুরনো। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হককে পাগল বানানো হয়েছিল।

 

এরপর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকেই অসুস্থ বানিয়ে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন ‘কোন সমস্যাই দেশের অগ্রগতি থামাতে পারবেনা’। এ কথাতো তিনি বলবেনই, কারন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী দলের চিন্তা ও বিশ্বাসসহ গণতন্ত্রই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মনঃপীড়া ও তাঁর ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র সমস্যা।

 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ রাষ্ট্রের স্বাধীন স্তম্ভগুলিকে কঠিন কুঠারাঘাতে উপড়ে ফেলে এখন প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতার আধিপত্যের রঙ্গিন অগ্রগতি ও ক্ষমতাসীনদের লোভ লালসার অগ্রগতিতে জাতীয় সম্পদ লোপাট হতে আর কোন বাধা থাকার তো কথা নয়।

 

তিনি আরও বলেন, নানা শর্তের বেড়াজালে ভারতের সঙ্গে তৃতীয় ঋণের ৪৫০ কোটি ডলারের (৩৬ হাজার কোটি টাকা) চৃক্তি করেছে সরকার। ভারত থেকে লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় নেয়া আগের দুটি ঋণের (তিনশ’ কোটি ডলার) সার্বিক কার্যক্রম সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে থাকলে পুনরায় একই ধরনের ঋণ নেয়ার প্রয়োজন ছিল না।

 

কারণ আগের দুটি প্রকল্প এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ২০১৬ সালে চুক্তি হওয়া দ্বিতীয় ঋণের ২০০ কোটি ডলার এখনও ছাড় হয়নি। আর প্রথম ঋণের ১০০ কোটি ডলারের মধ্যে সাত বছরে ছাড় হয়েছে মাত্র ৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সুতরাং ভারতের সঙ্গে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আবারও কঠিন শর্তে যে ঋণ চুক্তি করা হয়েছে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।

 

তিনি আরও বলেন, অতীতে ভারতের সাথে ঋণ চুক্তিতে কঠিন শর্ত আরোপ করায় প্রকল্পগুলো এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ঋণের শর্তে বলা হয়েছে বাস্তবায়িতব্য সরবরাহ প্রকল্পের ৭৫ ভাগ পণ্য অবশ্যই ভারত থেকে আমদানি করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ হতে হবে সেই দেশ থেকে। এছাড়া ভৌত অবকাঠামো প্রকল্পের ৬৫ ভাগ পণ্য কিনতে হবে ভারত থেকে।

 

এছাড়া বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পে ভারতের ঠিকাদার নিয়োগের শর্ত রয়েছে। আর প্রকল্পগুলোর জন্য জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র প্রণয়ন, প্রকল্পের নকশা তৈরি এবং দরপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে নিতে হবে। বিভিন্ন দেশের ঋণের তুলনায় এ ঋণে শর্ত বেশি এবং পরিশোধের সময়সীমাও কম। পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে এটি স্বস্তিকরও নয়। এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘস্থায়ী হবে। বাস্তবায়িতব্য প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নও হবে বিলম্বিত।

 

শুধু তা-ই নয়, পরোক্ষভাবে ঋণের সুদের হার আরো অনেক বেড়ে যাবে। এ বিষয়ে একটি প্রবাদ মনে পড়ে যায়-‘যার শিল তারই নোড়া, তারই ভাঙ্গি দাঁতের গোড়া’।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান ঢালী, খায়রুল কবির খোকন, বিলকিস জাহান শিরিন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

 

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ