Wednesday, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

‘বিবিসি’র প্রখ্যাত সাংবাদিক অসুস্থ সিরাজুর রহমানের পাশে তারেক রহমান’

এপ্রিল ৩০, ২০১৫ 195 views 0
‘বিবিসি’র প্রখ্যাত সাংবাদিক অসুস্থ সিরাজুর রহমানের পাশে তারেক রহমান’

প্রথম নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : বিবিসি’র প্রখ্যাত সাংবাদিক সিরাজুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অসুস্থ সিরাজুর রহমানকে দেখতে ছুটে যান বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।

 

স্থানীয় সময় বুধবার চিকিৎসাধীন সিরাজুর রহমানকে দেখতে যান তিনি।

 

সেখানে তিনি দীর্ঘক্ষন সময় কাটান। তিনি অসুস্থ সিরাজুর রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। এসময় তার পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া চাওয়া হয়।

 

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস ও কালের সাক্ষী সিরাজুর রহমান। ‘এক জীবন এক ইতিহাস’ নামে তাঁর আত্মজীবনীমূলক একটি বই আছে। তাঁর লেখা ‘প্রীতি নিন সকলে’ বইটিতে বর্ণনা করেছেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের অনেক ঘটনা। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৭টি। এসব বইয়ে উঠে এসেছে বাংলাদেশের সমাজ সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা বিষয়। বাংলা সাংবাদিকতায় জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি। সমসাময়িক সবাই চলে গেছেন দুনিয়া ছেড়ে।

 

সাংবাদিকতার শুরু স্কুল জীবনে কলকাতায়। ব্রিটিশ আমলের পর ঢাকায় প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতা শুরুর প্রতিকৃতদের অন্যতম একজন তিনি। সর্বশেষ ৩৪ বছর কাটিয়েছেন বিবিসি রিডিওর লন্ডনে প্রধান কার্যালয়ে। ২০ বছর হলো অবসর নিয়েছেন বিবিসি থেকে। তিনি যখন বিলাতে বিবিসি’র হেড অফিসে তখন ঢাকা প্রতিনিধি হিসাবে প্রথম নিয়োগ দেন মরহুম সাংবাদিক এবিএম মূসাকে।

 

১৯৭৩ সালে এবিএম মূসা আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলে এই চাকরি ছেড়ে দেন। তখন ঢাকায় নিয়োগ দেয়া হয় প্রবীণ সাংবাদিক আতিকুল আলমকে। তিনি রয়টার্সে চাকরি নিয়ে বিবিসি ত্যাগ করলে নিয়োগ দেয়া হয় মরহুম সাংবাদিক আতাউস সামাদকে। তারা সকলেই নিজ নিজ অবস্থানে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

 

সাংবাদিকতার সুবাদে ১৯৪৭ সালের আগে থেকে দেশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার বাস্তব সাক্ষীও বটে। অনেক ঘটনা নিজের চোখে দেখে খবরের কাগজে লিখেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা প্রচার করেছেন বিবিসি বাংলা রেডিওতে। ১৯৪৮ সালে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সাহিত্য পত্রিকা জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। মেট্রিকের স্টাইপেনের টাকা দিয়ে বের করেছিলেন মাসিক ‘সংকেত’ নামে সাহিত্য পত্রিকা। এর আগে পূর্ব পাকিস্তানে কোন সাহিত্য পত্রিকা ছিল না।

 

‘সংকেত’ নামের এই সাহিত্য পত্রিকা ৫টি সংখ্যা বের করতে পেরেছিলেন। অর্থের অভাবে ছাত্রজীবনে আর এগিয়ে যেতে পারেননি ‘সংকেত’ নিয়ে। কবি শামসুর রহমান এবং হাসান হাফিজুর রহমানের ছাত্রজীবনে প্রথম কবিতা বের হয়েছিল সংকেত-এ। বিশিষ্ট সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আযাদের প্রথম ছোটগল্প প্রকাশ করেছিল সংকেত। এ নিয়ে গর্ব করতেই পারেন সিরাজুর রহমান।

 

ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ঢাকায় কীভাবে বাংলা পত্রিকা গড়ে উঠে তার বিশদ বর্ণনা রয়েছে তাঁর লেখা ‘প্রীতি নিন সকলে’ বইটিতে। ঢাকার সাংবাদিকতায় দৈনিক, অর্ধ সপ্তাহিক এবং মাসিক পত্রিকা প্রকাশের একটি সরল বর্ণনা তিনি বইটিতে স্মৃতিচারণ করেছেন। বইটি নিঃসন্দেহে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে পাঠ্য হওয়ার দাবি রাখে।

 

তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় হলেও স্কুলজীবন কেটেছে কলকাতায়। সেখানেই যোগ দিয়েছিলেন সাংবাদিকতায়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ঢাকায় ফিরেন পরিবারের সাথে। বাবা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ছিলেন কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সদস্যদের সাথে কলকাতায় বেড়ে উঠেন তিনি। দেশ বিভাগের পর কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসা স্থানান্তর হয় ঢাকায়। ততদিনে মেট্রিকুলেশন (এসএসসি) হয়ে গেছে। ঢাকায় এসে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। মেধাবী ছাত্র হিসাবে ভাষা আন্দোলনে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি।

 

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ