শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

কেমন আছি মালয়শিয়া?

জুন ১১, ২০১৫ 401 views 0
কেমন আছি মালয়শিয়া?

আয়াজ উর রাহমান, প্রথম নিউজ : বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকের পাশাপাশি পড়াশুনার জন্য অনেক ছাত্র প্রতি বছর মালয়শিয়াতে যাচ্ছে। মালয়শিয়াতে বর্তমানে প্রচুর প্রাইভেট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেসব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গুলো আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউনাইটেড কিংডম ও ইউরোপিয়ান দেশ গুলোর থেকে এসে মালয়শিয়াতে তাদের শাখা খুলেছে।

 

এছাড়া মালয়শিয়াতে বর্তমানে ছাত্রদের জন্য পড়াশুনার পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিট সুবিধা দেয়ার কারণে ও প্রচুর বাংলাদেশি ছাত্র মালয়শিয়া যেতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মালয়শিয়ার তিতিওয়াংসা শহরে বসবাসকারী লিংকন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র মোঃ মাসুদ আহমেদ কেমন আছেন মালয়শিয়াতে জানতে চাইলে নিজের কিছু অনুভূতির কথা প্রথম নিউজের কাছে প্রকাশ করেন।

ms1

প্রশ্ন : আপনি মালয়েশিয়াতে কয়দিন হল এসেছেন?

উত্তরঃ মালয়শিয়াতে এসেছি প্রায় ছয় মাসের মত হয়েছে।

 

প্রশ্ন : আপনি মালয়েশিয়াতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন এবং কোন বিষয়ে পড়াশুনা করছেন?

উত্তরঃ আমি এখানে লিংকন কলেজ ইউনিভার্সিটি নামে একটি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করছি যেটি আমেরিকার ইউনিভার্সিটির শাখা। আমি এখানে ব্যাচেলর অফ সাইন্স অফ হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে অনার্স করছি।

 

প্রশ্ন : এখানে আপনার পড়াশুনার খরচ কেমন তা কী আপনি নিজেই চালাচ্ছেন?

উত্তরঃ এখানে আমার বছরে ১১৫০০ মালয়শিয়ান রিঙ্গিত যা বাংলাদেশি টাকায় ২ লাখ ৩০ হাজারের মত খরচ পরছে। এ খরচটি সম্পূর্ণ আমি নিজেই চালাচ্ছি।

 

আপনি আপনার পড়াশুনার খরচ এবং বাকবাকি খরচ কীভাবে চালাচ্ছেন?

উত্তরঃ এখানে আমি প্রতিদিন ১০ ঘন্টা করে কাজ করি এবং কাজ করে আমার মাসে ১৩০০ রিঙ্গিত এর মত ইনকাম হয়। এই ইনকাম দিয়েই আমার পড়াশুনা হতে শুরু করে থাকা খাওয়া সব চালাতে হয়।

 

প্রশ্ন : আপনার থাকা খাওয়াতে কত খরচ যায় আনুমানিক?

উত্তরঃ আমার থাকা খাওয়ার খরচ প্রায় ৪০০ রিঙ্গিতের মত খরচ হয়। আর বাকি রিঙ্গিত আমার পড়াশুনার জন্য লাগে।

 

প্রশ্ন : এভাবে কাজ করে আবার পড়াশুনা করা কষ্ট হয়না?

উত্তরঃ একটু কষ্ট তো হয় যেমন জব করছি আবার ইউনিভার্সিটিতে ক্লাসের জন্য যেতে হচ্ছে আরেকদিকে রান্না হতে শুরু করে নিজের যাবতীয় সব কাজ নিজেরই করতে হয়।

 

প্রশ্ন : নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের দেশে নতুন জায়গায় থাকছেন খারাপ লাগে না?

উত্তরঃ একটু খারাপ লাগে বাবা-মা সবাইকে ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন জায়গা যেখানে কাউকে চিনি না থাকছি। তবু ভাল আছি খারাপ নেই। অন্তত নিজের কাজ নিজে করছি, নিজের দায়িত্ব নিজেরই।

 

প্রশ্ন : বাংলাদেশের থেকে কোন দিকটি আপনার এখানে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে?

উত্তরঃ এখানে সময়ের অনেক মূল্য দেয়া হয়। প্রতিটি মুহূর্ত সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। আপনি দেখবেন এখানে যদি আপনি সময়ের মূল্য দেন তাহলে আপনি অনেক ভাল থাকতে পারবেন। সময়কে যদি মূল্যায়ন না করেন তবে এখানে কিছুই করা সম্ভব না। আর এ বিষয়টাই আমার এখানে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে।

আজ বাংলাদেশের মানুষ যদি সময়ের মূল্য দিত তবে আমাদের দেশটাও অনেক এগিয়ে যেত। শুধু মানুষই নয় আজ যদি বাংলাদেশের যানযট সমস্যার সমাধান হত তাহলে চিন্তা করা যায়কি মানুষের সময় কতটুকু রক্ষা পেত।

 

প্রশ্ন: বাংলাদেশের পড়াশুনার সাথে মালয়শিয়ার পড়াশুনার কতটুকু তফাৎ আছে বলে আপনি মনে করেন?

উত্তরঃ বাংলাদেশের পড়াশুনার সাথে এখানকার পড়াশুনা যে অনেক বেশি উন্নত তা কিন্তু একদমই ভুল। বলা চলে অনেকটাই মিল আছে।

 

প্রশ্ন : দেশ ছেড়ে বিদেশে এসে পড়াশুনা করার মূল কারণ কী?

উত্তর : দেখুন আমি বাংলাদেশে থেকে আজ নিজে ইনকাম করে ছাত্র জীবনে নিজের সব খরচ চালাতে পারছিনা যা আমি মালয়শিয়াতে পারছি। এছাড়া আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটা সৎ পথে আজ আমি একটা ছোট কাজ করি সমাজে দশটা কথা শুনতে হয় কিন্তু অসৎ পথে আপনি কোটি টাকা ইনকাম করুন কেউ কিছুই বলার নেই।

 

প্রশ্ন : দেশের উদ্দেশে কী বলতে চাইবেন?

উত্তরঃ আমি হয়ত দেশ ছেড়ে দূরে আছি কিন্তু এর মানে এই নয় আমি আমার দেশকে ভালবাসি না। আমি আমার দেশটাকে অনেক বেশি ভালবাসি। আর যদি কখনও সুযোগ পাই তবে অবশ্যই দেশের জন্য কিছু করতে চাই।

 

প্রশ্ন : বাবা-মা কে ছেড়ে দূরে আছেন খারাপ লাগে না?

উত্তরঃ বাবা-মা কে তো অনেক বেশি মিস করি। অনেক খারাপ লাগে তবু সব কষ্ট বুকে নিয়ে এই ভেবেই আছি আমি যদি বড় কিছু করতে পারি তবে মাথা উঁচু সবার প্রথম আমার বাবা-মায়েরই হবে।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ