শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ইউকে বিএনপির দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

জুন ১৪, ২০১৫ 171 views 0
ইউকে বিএনপির দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রথম নিউজ প্রতিনিধি, লন্ডন : যুক্তরাজ্য বিএনপি ঘোষিত চারদিনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার (১৩ জুন) লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হোটেলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেন্ট্রাল লন্ডনের পার্কলেনের হিলটন হোটেলের সামনে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৮ টা পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ও মাথায় কালো কাপড় বেঁধে শেখ হাসিনার লন্ডন সফরের প্রতিবাদ জানায়। এ সময় নেতাকর্মীদের সরকারবিরোধী নানা স্লোগানে গোটা এলাকা মূখরিত হয়।

 

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি আলহাজ্ব এম এ মালেক। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ৫ জানুয়ারীর ভোটার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অবৈধ শেখ হাসিনা বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা, খুন, গুম অব্যাহত রেখেছেন। ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের অত্যাচারের স্টীম রোলার চালাচ্ছেন। তাই এই সরকারকে জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

 

সমাবেশে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এম এ মালেক বলেন, গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করে দখলদার শেখ হাসিনা বিরোধী বিরোধী মতের ওপর যে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন তা ইতিহাসের সকল কালো অধ্যায়কে অতিক্রম করেছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে তার তিনি ব্রিটেনের মতো গণতান্ত্রিক দেশে বেড়াতে এসেছেন, তাই তাকে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।

 

এম এ মালেক বলেন, বাংলাদেশে একদলীয় রাষ্ট্র, একদলীয় জাতীয় সংসদ, একদলীয় নির্বাচন, একদলীয় জনপ্রশাসন এবং একদলীয় বিচার ব্যবস্থা বিরাজমান। সুতরাং সমগ্র রাষ্ট্রটিকেই আওয়ামীকরণ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় আইনী প্রক্রিয়ার অর্থ হচ্ছে-প্রধানমন্ত্রীর জারিকৃত ফরমানের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন।

 

কিন্তু জনগণও যে বিচারক আওয়ামী লীগ যেন সেটা ভুলে না যায়। আওয়ামী নেতারা ভুলে গেছেন যে দেশের মালিক জনগণ, কোনো ভোটারবিহীন সরকার বা সংসদ নয়।

 

তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের দুর্নীতি, অন্যায় এবং অত্যাচার এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যেসব বাহিনী রয়েছে তাদেরকে বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মীদের দমনের জন্য ব্যবহার করছেন শেখ হাসিনা। দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্র এখন ভয়াল ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

 

সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা দখল করে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন শেখ হাসিনা। তাই গণতন্ত্রের পাদপীঠ ব্রিটেনে তার বিরুদ্ধে আমরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছি।

 

তিনি বলেন,দূর্নীতিবাজ রংহেডেড হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের বোন, ভাই, মা বাবা, সন্তান পরিবার আত্মীয় স্বজনকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা ও গুম করা হচ্ছে। শত শত মায়ের বুক খালি করা হচ্ছে। শেখ মুজিবের শাসনামলের মতো শেখ হাসিনাও বাংলাদেশে গুম খুন অপহরণের রাজনীতি শুরু করেছেন।

 

বাকশালের জনক শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে দেশে যে ক্রসফায়ারের রাজনীতি শুরু করেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে মৃত্যুউপত্যকায় পরিণত করেছেন।

 

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন বাংলাদেশের জনগণ ঘরে বসে আর এসব দেখবে না। মনে রাখবেন জনগণ রুখে দাঁড়ালে কোথাও লুকিয়ে বাঁচতে পারবেন না। অত্যাচার আর নির্যাতন করে হিটলারও টিকে থাকতে পারেনি, আপনিও পারবেন না। যেভাবে প্রতিটি রাজনৈতিক ইস্যুতে শেখ হাসিনা অবৈধভাবে নিজের হীন স্বার্থ হাসিল করছেন এটি শেখ হাসিনাকে ইতিহাসে তার পিতার মতোই তাকেও জনগণের কাছে নিন্দিত ও ঘৃনিত ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত করবে।

 

যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, মুফতি শাহ সদরুদ্দিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধূরী, সাবেক সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, তৈমুছ আলী, আখতার হোসেন, মুজিবুর রহমান মুজিব, মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরী, মোঃ আনা মিয়া, গোলাম রাব্বানী, শরীফ উদ্দিন, শরীফুজ্জামান চৌধুরী তপন, শেখ শামসুদ্দিন শামীম, হেলাল উদ্দিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম মামুন, এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, তাজ উদ্দিন, করিম উদ্দিন, ব্যারিষ্টার হামিদুল হক আফিন্দি লিটন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সেলিম, ড. মুজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান ময়না,আবেদ রাজা, কামাল উদ্দিন, আব্দুস শহীদ, জাসাসের যথাক্রমে- জাসাস সভাপতি এম,এ সালাম, যুগ্ম সম্পাদক তাশবির চৌধুরী শিমুল, সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জনা আলম, জাসাস নেতা রাশেল চৌধুরী, আরিফ আল মাহফুজ, আসিফ আহমেদ, আনোয়ার ইসলাম, তাসফিক চৌধুরী, আতিক আহমেদ, হেলাল আহমেদ, লুনা সাবেরিয়া, সুমি, তাসলিমা নাসরিন, বহ্নি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাসির আহমেদ শাহীন, সদস্য সচিব আব্দুল হোসেন, আসাদুজ্জামান আক্তার, যুবদল কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক লিটন, যুবদলের আহ্বায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম হোসেন নিয়াজ, আব্দুল বাছিত বাদশা, , কামাল চৌধুরী, রহিম উদ্দিন, টিপু আহমেদ, আফজল হোসেন, সাব্বির আহমেদ ময়না, মোঃ খিজির, ওয়াসিম উদ্দিন মানিক, এ জে লিমন, বাবর চৌধুরী, রাসেল আলী, হাবিবুর রহমান হাবিব, নুরুল আলী রিপন, শরীফ মোঃ করিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আবুল হাসনাত রিপন, সোলায়মান খান, জুনেদ আহমেদ, চৌধুরী আকমল হোসেন, জিয়াউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম শিমু, মিছবা এস চৌধুরী, রুবেল আহমেদ, আতাউর রহমান, হেলাল আহমেদ, আব্দুল গফফার, সেলিম আহমেদ সাজন, ইউসুফ আহমেদ, আবুল কালাম, মাহবুব আহমেদ, জাসাস নেতা কামরুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা আবু নাসের শেখ, মাসুদুর রহমান. সফিউল আলম মুরাদ, সাইফুল ইসলাম মিরাজ, মিলহানুর রহমান নমি।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য সফরের দ্বিতীয় দিনে তার জন্য নির্ধারিত চোখের ডাক্তার দেখান এবং লন্ডনে অবস্থানরত তার ছোটবোন শেখ রেহেনা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে স্বাক্ষাৎ দেন।

 

প্রধান মন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারী জানিয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে আগামী ১৪ জুন লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীকে পার্ক লেন হোটেলে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

 

আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দেশে ফিরে যাবে তিনি ঢাকায় নাগিয়ে সরাররি সিলেট যাবেন এবং ঐদিন সিলেটে অবস্থান করবেন ১৮ জুন সিলেট থেকে ঢাকায় যাবেন।

 

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ