প্রকাশ : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
২৫শে মার্চের গনহত্যা সম্পর্কে আরো বেশী আলোচনা হওয়া দরকার : তারেক রহমান
২৫শে মার্চের গনহত্যা সম্পর্কে আরো বেশী আলোচনা হওয়া দরকার : তারেক রহমান

ওএনবি, লন্ডন : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গনহত্যা সম্পর্কে আরো বেশী আলোচনা হওয়া দরকার। এ সম্পর্কে যত বেশী আলোচনা হবে ততই ইতিহাসের কঠিন সত্য বেরিয়ে আসবে।

 

তিনি বলেন, শেখ মজিব ৭ই মার্চ কিংবা ২৬ মার্চ কখনোই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পাকিস্তান থেকে জেনারেল পিরজাদার ফোন কলের অপেক্ষায় না থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা দিলে ২৫ মার্চের গনহত্যা সংঘটিত হতে পারতোনা।

 

তারেক রহমান প্রশ্ন করে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ২৭ মার্চ ঢাকায় হরতাল ডেকেছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষনা দিলে হরতাল ডাকা হলো কেন? কার বিরুদ্ধে?  বাংলাদেশের ৪৭ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার (২৭ মার্চ ) ইস্ট লন্ডনের রয়্যাল রিজেন্সী অডিটরিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সভাপতি এম এ মালিক। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ।

 

তারেক রহমান বলেন, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখো স্বাধীনতাকামী মানুষ জড়ো হয়েছিলো। সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লে বাংলাদেশে এত ক্ষয়ক্ষতি হতোনা। কারণ ৭ মার্চ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের লক্ষ কোটি স্বাধীনতাকামী জনগনের সামনে সব মিলিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের ১০- ১৫ হাজারের বেশী সেনা-পুলিশ ছিলো না। তাই লক্ষ কোটি স্বাধীনতাকামী মানুষের বিপরীতে এত অল্প সংখ্যক সেনা-পুলিশ দাঁড়াতে ও পারতোনা।

 

তিনি বলেন, শেখ মুজিবের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় সংঘটিত হয় বর্বরোচিত গনহত্যা। অপরদিকে ২০০৯ সালে বিডিআরের তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের কথা তাৎক্ষনিক ভাবে জানালেও শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তহীনতায় ২৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় সংঘটিত হয় বর্বরোচিত সেনা হত্যা।

 

বাংলাদেশের ৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে “২৫ মার্চ হত্যা: শেখ মুজিবের রাজনৈতিক ব্যর্থতার দলীল“ নামে একটি বই প্রকাশক করে যুক্তরাজ্য বিএনপি। অনুষ্ঠানে বইয়ের একটি কপি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি এম এ মালিক।

 

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও অপপচারের বিরুদ্ধে এভাবে তথ্য প্রমানসহ রুখে দাঁড়ানো একটি শুভ উদ্যোগ।

 

তিনি দেশে বিদেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ইতিহাস সচেতন হওয়ার আহবান জানান। আগামী দিনে দলের সর্বস্তরে নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভুমিকা, বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচী সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রয়েছে কিনা সেটি বিবেচনায় নেয়া হবে বলে জানান তারেক রহমান।

 

তারেক রহমান বলেন, ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে সর্ব প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজবপন করেন মাওলানা ভাষানী। এরপর দীর্ঘ আন্দোলণ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায়  ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

 

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান  মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার লেঃ কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী“ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম“ বই থেকে উদ্বৃতি দেন। আবু ওসমান চৌধুরী লিখেন..“ভাবতে বিস্ময় লাগে যে, পাকিস্তানী শাসক চক্রের গণহত্যার প্রস্তুতির সর্বশেষ সংবাদ অবগত হবার পরও শেখ মুজিব শেষ পর্যন্ত কেন সমঝোতার র্ব্যথ প্রয়াস চালালেন। সেদিন বাংলার গুটি কতক অফিসার ও সৈন্যরা যদি প্রতিরোধে রুখেনা দাঁড়াতো তাহলে বাংলার মানুষকে অন্তত পক্ষে বিশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানীদের গোলামী করতে হতো “।

 

তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্ত প্রমান করে, সেদিন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সংগঠিত ভাবে সশস্র প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ক্ষয়-ক্ষতি আরো বেশী হতো।

 

তারেক রহমান বলেন, তিনি বছর দুয়েক আগে দলীল প্রমান দিয়ে বলেছিলেন শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। এখন শেখ হাসিনা সেটি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ৭ মার্চ শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষনা দিতে কারা পীড়া-পীড়ি করছিলেন তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে ও প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা।

 

তারেক রহমান বলেন, এভাবেই ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসবে শেখ মুজিব কিংবা আওয়ামী লীগ সেই সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। কারন শেখ মুজিব ৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান রক্ষায় এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত শাসনের জন্য। এ প্রসঙ্গে ৭০ সালের নির্বাচনী মেনিফেস্টোর একটি কপি তুলে ধরেন তারেক রহমান। সেখানে ৭০ সালে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে লেখাছিলো, “আসন্ন নির্বাচন হবে বাংলাদেশের স্বায়ত্ব শাসন প্রশ্নে গণভোট।

 

তারেক রহমান আরো বলেন, বন্দুকের জোরে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে কিংবা আদালত দিয়ে ইতিহাসের সত্যকে আটকে রাখা যায় না। ঐতিহাসিক দলীল পত্র প্রমান করে শেখ মুজিব সেই সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি তাই স্বাধীতার ঘোষণাও দেননি। বরং এটি এখন প্রমানিত সত্য জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক।

 

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, পাকিস্তানীরা যেভাবে জনগনের উপর জুলুম নির্যাতন করতো ঠিক একই ভাবে শেখ হাসিনা ও জুলুম নির্যাতন করছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদারদের ভয়ে মানুষ যেমন ঘরবাড়ী ছেড়ে পালাতো ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনার র‌্যাব-পুলিশের ভয়ে এখন স্বাধীন দেশেও ভিটে-মাটি ছাড়া হাজার হাজার মানুষ। পাকিস্তানী হানাদাররা যেভাবে স্বাধীনতাকামী জনগণকে হত্যা করে লাশ ফেলে দিতো বনে-জঙ্গলে খালে-বিলে-নদীতে ঠিক এখনও তেমনি ভাবে দেশীয় হানাদাররা গনতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করে তাদের লাশ ফেলে রাখে নদীতে খালে-বিলে।

 

তিনি বলেন, সমাজের সম্মানিত মানুষেরা এখন আওয়ামী হানাদারদের ভয়ে আতংকিত। দেশে অর্থনৈতিক দুর্বত্তায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান পহেলা মার্চ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত “মূলধনও খেয়ে ফেলেছে দেশের ৭ ব্যাংক“ রিপোর্টেও অংশ বিশেষ উল্লেখ করে বলেন, যেদিন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন রিজার্ভের আট শতাধিক কোটি টাকার লুটেরারা ব্যাংকের ভেতরেরই লোক সেদিন রাতেই কেন ওই শাখায়ই আগুন লাগলো। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শতশত কোটি টাকা লুটপাটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের স্বাক্ষাতকারের একটি উদ্বৃতি তুলে ধরেন। সেখানে অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘রাজনৈতিক ব্যাপার-স্যাপার সব আলাপ করা যায়না“।

 

তারেক রহমান বলেন, বাস্তবতা হলো জনগণের অর্থ সম্পদ লুটপাট করাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি।

 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ডক্টর কে এম মালেক,  বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান ও ব্যারিস্টার নাসিরুদ্দিন অসীমসহ অনেকে।

 

তারেক রহমান আরো বলেন, শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা এরা কেউ গনতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা। ৪০ বছর রাজনীতি করে শেখ মুজিব গনতন্ত্র হত্যা করে কায়েম করেছিলো একদলীয় বাকশাল আর এখন শেখ হাসিনা তথাকথিত শ্লোগান গনতন্ত্র নয় উন্নয়ন।

 

তারেক রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত গনতন্ত্র। তারেক রহমান আরো বলেন, বিএনপিই পারে ব্যালটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।

 

তিনি বলেন, তবে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব বিএনপির একার নয় এবং দেশটা শুধু বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের ও নয়। দেশটি সকলের। তিনি গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সবাইকে শরীক হওয়ার আহবান জানান।

 

অনুষ্ঠান শেষে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাসবীর চৌধূরী শিমুল এবং হাবীব।