বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

এখন থেকে তোমার শরীর বেঁচে আমাদের চলতে হবে

ডিসেম্বর ২৮, ২০১৪ 71 views 0

প্রথম নিউজ, জেলা প্রতিনিধি (সাতক্ষীরা) : খাদিজা (২১) ছিলেন কলেজ ছাত্রী।
তাকে ফুসলিয়ে বিয়ে করে ভারতের বম্বে শহরে নিয়ে দেড় বছর দেহ ব্যবসা করিয়ে তাকে বিক্রি করে দিয়ে দেশে চলে আসে তার স্বামী মনিরুল।
কপর্যায়ে খাদিজা পালিয়ে রোববার দেশে ফেরে। দেশে ফিরে মনিরুলের বাড়িতে স্ত্রীর দাবী নিয়ে গেলে মনিরুলের পিতা ও প্রথম স্ত্রী মিলে তাকে বে-ধড়ক মারধর করে। এসময় প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে খাদিজাকে উদ্ধার করে। তবে মনিরুল ঘটনার পরে পালিয়ে যায়।
খাদিজা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জের নছিরুদ্দিন সরদারের কন্যা। সে জানায়, ২০১১ সালে শ্যামনগর মহিলা মহাবিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন পরিচয় হয় উপজেলার মাহামুদপুর গ্রামের রুহুল কুদ্দুসের পুত্র মনিরুলের সঙ্গে। একপর্যায়ে মনিরুল অবিবাহিত বলে তাকে ফুসলিয়ে বিয়ে করে বাসা ভাড়া করে রাখে। তিন মাস পরে তাকে বেনাপোল স্থলবন্দরের পাশে এক বাসায় নিয়ে রাখে মাস দেড়েক। তারপর মনিরুল খাদিজাকে বলে, পরিবারের অমতে বিয়ে করায় কোন পরিবার আমাদের মেনে নেবে না। চলো আমরা ভারতের বম্বে শহরে যাই। সেখানে ভাল বেতনে দু’জনের দুইটা চাকুরী পাওয়া গেছে। আমরা সুখে থাকব। এই বলে আমাকে বেনাপোল বর্ডার দিয়ে বিনা পাসপোর্টে পার করে বম্বের নালাসুপার নামক এক জায়গায় আগে থেকে ঠিক করা একটি ঘরে নিয়ে তোলে। সেখানে যাওয়ার কয়েকদিন পর আমাদের ঘরে অপরিচিত এক লোক আসে। তখন মনিরুল বলে এখন থেকে তোমার শরীর বেঁচে আমাদের চলতে হবে। এটাই তোমার কাজ। তখন আমি একাজ করতে না চাইলে আমাকে মারধর করে। মারধরে চিহ্ন শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এখনও আছে। তখন বাধ্য হয়ে আমাকে তার কথা মত চলতে হতো। এভাবে আমাকে দিয়ে মনিরুল মাসে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করেছে। এরমধ্যে মনিরুলের বন্ধু আবাদচন্ডীপুর গ্রামের শওকত আলীর পুত্র জামাল (৩১) আবিদা সুলতানা নামের এক অবিবাহিত মেয়েকে বিয়ে করার কথা বলে আমাদের ঘরে নিয়ে রাখে দুই দিন। সেখান তাকেও বিক্রি করে দেয় পতিতালয়ে। এভাবে দেড় বছর যাওয়ার পর হঠাৎ মনিরুল আমাকে পতিতালয়ে এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেশে ফেরে। এরপর আমার উপর চলতে থাকে নির্যাতন। একপর্যায়ে আমি পালিয়ে কলকাতায় আসি। সেখান থেকে গত রোজার সময় দেশে ফিরে আমার বাবার বাড়িতে যাই। কিন্তু আমার ঘটনা জানতে পেরে তারা আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। আমি বাড়ী ফিরে শ্যামনগরে মনিরুলকে খোঁজ করছি এ খবর মনিরুল জানতে পেরে আমাকে বলে আমি বিবাহিত, আমার সন্তান আছে, যা ঘটে গেছে তা কাউকে কিছু বলো না। আমার সাথে বম্বে চলো আর খারাপ কাজ করতে হবে না। আমি যেতে অস্বিকার করে তার বাড়ীর ঠিকানা নিয়ে তাদের বাড়িতে গেলে মনিরুল, তার বৌ ও পিতা আমাকে পিটাতে থাকে। এসময় প্রতিবেশী মহিলা মেম্বর ছফুরাসহ কয়েকজন আমাকে উদ্ধার করে থানায় পাঠায়।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ