রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

খুলনা বিভাগে ঘটে যাওয়া কিছু খবর

জানুয়ারি ১০, ২০১৫ 167 views 0

প্রথম নিউজ ডেস্কঃ

খুলনায় জাসদের সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী ইনু
খালেদা জঙ্গিবাদ ও রাজাকার গণতন্ত্রের পথে নতুন বাধা
খোকন-খালিদ নগর, মোর্ত্তজা-রেজাউল জেলা কমিটির দায়িত্ব পেলেন

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, এদেশের এগিয়ে যাওয়ার পথে ’৭১ এ বাধা ছিল পাকিস্তান, ’৭৫ এ সামরিকতন্ত্র এবং ’৯০-এ স্বৈরতন্ত্র নতুন বাধা হলেও তা’ টেকেনি। সে বাধা নির্মূল করা হয়েছে। এখন খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-রাজাকারদের নিয়ে গণতন্ত্রের পথে নতুন বাধা। খালেদা জিয়া-জঙ্গিবাদ ও রাজাকারদের নাশকতার বাধা উপড়ে ফেলতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী শুক্রবার খুলনা জাসদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন। মহানগরীর শহীদ হাদিস পার্কের নবনির্মিত শহীদ মিনারের সভামঞ্চে সম্মেলনের এই উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধ মেনে নেয়া যায় না। নাশকতা হয় না। গণতন্ত্রে আন্দোলন আছে। অঞ্চল বিচ্ছিন্নকরণের হুংকার নেই। আগুনের বোমা নিক্ষেপকারী জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করলে গণতন্ত্র আটকায় না। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে খালেদা জিয়া জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি অমানবিক নেত্রী। ইজতেমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
খালেদা জিয়ার সাত দফার সমালোচনা করে হাসানুল হক ইনু বলেন, খালেদা জিয়ার সাত দফার মধ্য নতুন কিছুই নেই। সবই পুরনো, অবাস্তব প্রস্তাব। সাত দফায় সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দাবি করে তিনিও সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি খালেদা জিয়াকে অন্তর্ঘাত ও নাশকতার উস্কানিদাতা আখ্যা দিয়ে বলেন,অবরোধের নামে বিএনপি নেত্রী বাস পোড়ানো, মানুষ খুন ও অরাজকতা সৃষ্টি করে চলেছেন। কিন্তু সরকার জনগণের জান-মালের ক্ষতি বরদাস্ত করবে না।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বন্দী বা  গ্রেফতার নন, তাকে উস্কানি দেয়া থেকে নিবৃত্ত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, কর্মীদের বাদ দিয়ে আন্দোলনে ব্যর্থ ও হতাশ হয়ে বেগম জিয়া এখন জনগণের ওপর রাগ ঝাড়ছেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থী, অসুস্থ  মানুষ এমনকি ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লি কারোরই ধার তিনি ধারছেন না। জঙ্গী মৌলবাদীদের নিয়ে যে কোন উপায়ে ক্ষমতায় যেতে তিনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর সকলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল। বিগত সময়ে ইয়াজ উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে সকলেই অবগত আছেন। ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। এছাড়া বিচার বিভাগ তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নিয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সুতরাং তত্ত্ব¡বধায়ক সরকারে ফিরে যাওয়ার আর কোন সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচন সংবিধানের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হবে। তথ্যমন্ত্রী জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদমুক্ত দেশ গড়তে সকলকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি সম্মেলনে তিনি ১০ দফা প্রস্তাব উপস্থান করেন। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে সামরিক, জঙ্গি আর রাজাকার সরকার কখনও ক্ষমতায় আসতে না দেয়া, চক্রান্তকারীদের দমন করা, দেশকে আর রক্তাক্ত হতে না দেয়া, নাশকতা করতে না দেয়া, ধর্মের নামের অশান্তি হতে না দেয়া, জঞ্জাল  ঝেড়ে ফেলা, মহাজোটের ছাতায় ঐক্যবদ্ধ থাকা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জোরদার করা, ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করা, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি চলতে না দেয়া, শ্রমিক, কৃষক ও নারীর অর্থনৈতিক ন্যায্য হিস্যা আদায় করা। এ ১০ দফা বাস্তবায়নে জাসদসহ মহাজোটের কর্মীদের মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহবান জানান তিনি।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাসদ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি রফিকুল হক খোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চুন্নু।
শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক  শেখ হারুনুর রশীদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি। স্বাগত বক্তৃতা দেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক শেখ গোলাম মোর্তুজা। সম্মেলন পরিচালনা করেন জাসদ খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন।
সম্মেলন শুরুর আগে জাতীয় সংগীত, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। রফিকুল হক খোকনের সভাপতিত্বে বিকেল ৪ টায় সার্কিট হাউজে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ গোলাম মোর্ত্তজাকে সভাপতি ও স.ম রেজাউল করিমকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা এবং রফিকুল হক খোকনকে সভাপতি ও মো: খালিদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে সংগঠনের নগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। আগামী ৭ দিনের মধ্যে গঠিত কমিটি বৈঠক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ চার বছর পর জেলা ও মহানগর জাসদের এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশীয় সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে হবে
——সিটি মেয়র

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বিদেশী প্রভাব মোকাবেলায় দেশীয় সংস্কৃতির ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে। অন্যদিকে বাংলা ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে হবে। 
সিটি মেয়র গতকাল শুক্রবার সকাল সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর উমেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে দেশাত্ববোধক সঙ্গীত প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলা সংস্কৃতি এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সিটি মেয়র আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান। 
সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এম এ সাঈদ-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সদস্য রেজাউল কবির দুলাল, উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সঙ্গীতজ্ঞ মাজেদ জাহাঙ্গীর, হাফিজুর রহমান ও অশোক কুমার দে।

বিএনপির জরুরী সভায় বক্তারা
সরকারের পতন না হওয়া  পর্যন্ত রাজপথ দখলে রাখার আহবান

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সরকার ও তার পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর সকল দমন পীড়ন উপেক্ষা করে রাজপথে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের জন্য ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিএনপি খুলনা মহানগর ও জেলা কমিটির নেতারা। শুক্রবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশ শেষে পার্টি অফিসে অনুষ্ঠিত বিএনপির মহানগর ও জেলা কমিটির যৌথ জরুরী সভায় এ আহবান জানান সভার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং আন্দোলনকে মহাসড়ক, রেলপথ, নৌপথ ছাড়িয়ে পাড়ায় মহল্লায় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার আহবান জানান তিনি। 
সভা থেকে বাস-ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক চালক ও শ্রমিকদের প্রতি জনগণের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে অবরোধ কর্মসূচিকালে যানবাহন না চালানোর আহবান জানানো হয়। সভা থেকে ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে ১৬ কোটি মানুষের দাবির সাথে ঐক্যমত প্রকাশ করার আহবান জানানো হয়। 
সভা থেকে মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে দমন করতে পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত না হওয়ার আহবান জানানো হয়। মিথ্যা মামলা দায়ের, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, গণগ্রেফতার, গণহয়রানি না করে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি আহবান জানানো হয়। 
জরুরী এ সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলম, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আমির এজাজ খান, মহানগর যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলামসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।-খবরঃ বিজ্ঞপ্তির।

খুলনা বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি নেতৃবৃন্দ
জনগণ  রাজপথে নেমে এসে সরকারকে অনাস্থা জানিয়েছে

অবরোধের চতুর্থ দিন খুলনায় ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। এ দিন বিএনপিকে রাজপথে মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ। দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেই কর্মসূচি শেষ করেছেন বিএনপি   নেতারা।
সকাল ১০ টায় কে ডি ঘোষ রোডে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান শাসন ব্যবস্থাকে ফেরাউনের দুঃশাসনের সাথে তুলনা করেন। তারা বলেন, পবিত্র জুম্মার দিনেও খুলনার জনগণ রাজপথে নেমে এসে অবরোধ কর্মসূচি সফল করে তাদের অনাস্থা প্রকাশ করেছে। জালিম শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া প্রতিটি মুসলমানের জন্য ঈমানী দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তারা। 
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, খুলনা মহানগর সভাপতি ও জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বক্তব্য রাখেন  এ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা, ডাঃ গাজী আব্দুল হক, শেখ খায়রুজ্জামান খোকা, এ্যাড. এস আর ফারুক, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন সেন্টু, জেপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, জামায়াত নেতা এ্যাড. শাহ আলম, খান গোলাম রসুল, বিএনপি নেতা রেহানা ঈসা, স ম আব্দুর রহমান, ফখরুল আলম, আমির এজাজ খান, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান অপু, মনিরুজ্জামান মন্টু,  শেখ আব্দুর রশিদ, মাহবুব কায়সার, আসাদুজ্জামান মুরাদ, জামায়াত নেতা মাওলানা ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা শফিকুল আলম তুহিন, আজিজুল হাসান দুলু, শেখ সাদী, এ্যাড. গোলাম মাওলা, এহতেশামুল হক শাওন, আব্দুর রহিম বক্স দুদু, গিয়াসউদ্দিন বনি, মুজিবর রহমান, নিজাম উর রহমান লালু, হাসিবুল হক বাবলা, জালু মিয়া, ইকবাল হোসেন খোকন, নাজিরউদ্দিন আহমেদ নান্নু, সাদিকুর রহমান সবুজ, ইউসুফ হারুন মজনু, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, কে এম হুমায়ুন কবির, শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, আব্দুল আজিজ সুমন, এ্যাড. মশিউর রহমান নান্নু, আতিকুর রহমান তিতাস, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, আরিফুজ্জামান আরিফ, কামরান হাসান, এবাদুল হক রুবায়েদ, ছাত্রশিবির নেতা মীম মিরাজ হোসেন, তারেক রহমান, বিএনপি নেতা মাওলানা আব্দুল গফফার, আতাউর রহমান রুনু, আবু সাঈদ শেখ, হাফিজুর রহমান মনি, তরিকুল্লাহ খান, মোঃ জামালউদ্দিন, বদরুল আনাম, মীর কবির হোসেন, বাচ্চু মীর, নীরু কাজী, মেজবাহউদ্দিন মিজু, রবিউল ইসলাম রবি, নাসির খান, মাহমদু আলম বাবু মোড়ল, মনিরুল ইসলাম, হেদায়েত হোসেন হেদু, মোল্লা ফিরোজ আহমেদ, শেখ আব্দুল জব্বার, সরদার ইউনুস আলী, হাসনা হেনা, সাব্বির আহমেদ, শাকিল আহমেদ, মেহেদী হাসান সোহাগ, মোস্তফা কামাল, জাফিরুল ইসলাম, মোঃ মইনউদ্দিন, ওহিদুজ্জামান, জাহান আলী, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। 
এর আগে সকাল ৮টার দিকে দৌলতপুর থানা বিএনপির এক মিছিল খুলনা-যশোর মহাসড়কের মহসিন মোড় থেকে বের হয়। বিএনপির থানা সভাপতি শেখ মোশরাফ হোসেন, মহানগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, সিরাজুল হক নান্নু, মুর্শিদ কামাল, সাজ্জাদ হোসেন তোতন প্রমুখ মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

নগরীতে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

নগরীর দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা মুচিপাড়া এলাকা থেকে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে গতকাল শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আব্দুর রহিম (৩০) মুচিপাড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
দৌলতপুর থানার ওসি মোঃ আবু মুছা খন্দকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দেয়ানা থেকে দীপুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মাদক মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট অদালত-৩ এর বিচারক গত বছরের ৫ জুন দীপুর বিরুদ্ধে ৬মাসের সশ্রম কারাদন্ড ১হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে দীপু পলাতক ছিলো।

নগরীর দু’টি স্থানে বোমা বিস্ফোরণ

নগরীর রয়্যাল মোড় ও পিটিআই মোড়ে গতকাল শুক্রবার রাতে দু’টি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিস্ফোরিত বোমার প্রচন্ড শব্দে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা আতংকে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে দু’টি ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
খুলনা সদর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, রয়্যাল ও পিটিআই মোড়ে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। অবরোধকারীরা আতংক সৃষ্টির জন্য এ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খালিশপুরে ইজিবাইক চালককে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম

নগরীর খালিশপুর প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলের শ্রমিক মোশাররফ হোসেনের ছেলে ইজিবাইক চালক দীপুকে (১৮) হত্যার উদ্দেশ্যে কপিয়ে গুরুতর জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। 
খালিশপুর থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান জানান, পূর্ব শত্রতার জের ধরে খালিশপুরের সন্ত্রাসী ছোট্ট, তার ভাই মিন্টু ও আল আমিনসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে দীপুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। দীপুর  মেরুদন্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আশংকাজনক অবস্থায় দীপুকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খুলনায় তথ্যমন্ত্রীর সাথে কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

গতকাল শুক্রবার সকালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সাথে খুলনা সার্কিট হাউজে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ টেলিভিশন খুলনা  কেন্দ্র চালুর বিষয়ে খোঁজ নেন। এ সময় তিনি জানান, এ বছর জুনের পরপরই কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং আগামী বছরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারের কাজ শুরুর হবে। তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার প্রতিটি জেলায় তথ্যভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। তথ্যভবনে তথ্যমন্ত্রণালয়ের সকল বিভাগের দপ্তরসহ, মিডিয়া সেন্টার, হলরুম, আইসিটি কেন্দ্র, মিডিয়া কর্নারসহ অন্যান্য অবকাঠামো থাকবে।
মতবিনিময়কালে খুলনা বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ বশির উদ্দিন, পিআইডি’র সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা জিনাত আরা আহমেদ, বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, খুলনা বিটিভির উপকেন্দ্র প্রধান ও রক্ষণ প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন, খুলনা বেতারের উপ-বার্তা নিয়ন্ত্রক মোঃ নূরুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার শেখ শাহনওয়াজ করিম ও পিআইডি’র সিনিয়র ফটোগ্রাফার মোঃ আব্দুস সাত্তারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।-তথ্য বিবরণী।

তথ্যমন্ত্রীর সাথে চেম্বার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

গতকাল শুক্রবার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র সাথে মতবিনিময় করেন খুলন চেম্বার অব কর্মাস এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি কাজি আমিনুল হক। মতবিনিময়কালে খুলনার ব্যবসায়িদের বিভিন্ন সমস্যা  নিয়ে আলোচনা হয়। এসময়ে চেম্বার নেতৃবৃন্দ মংলা বন্দর এবং বন্দরের সাথে সংযুক্ত সকল নদীর নাব্যতা নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী সকল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। 
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন চেম্বার অব কর্মাস এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সহ সভাপতি শরীফ আতিয়ার রহমান, এ্যাড. সাইফুল ইসলাম, গোপী কৃষাণ মুন্ধড়া, এস.এম ওবায়দুল্লাহ, এস. এম আজিজুরর হমান, ফকির মোঃ সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বাদল ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা
—-ছাত্রলীগ সভাপতি

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ মনিরুজ্জামান বাদলের ২৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত হয়। দিনটি পালন উপলক্ষে  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সকাল ৯টায় শামসুন্নাহার হলের সামনে শহীদ মনিরুজ্জামান বাদলের স্মৃতি স্তম্ভের পাদদেশে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ঢা.বি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান এম.পি। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য মমতাজ উদ্দিন মেহেদী,  সুজিত রায় নন্দী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ.এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহে আলম, সাবেক সহ-সভাপতি অসিত বরণ বিশ্বাস, সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এড.  মোল্লা মোঃ আবু কাওসার, সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এম.পি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক সুভাষ সিংহ ও শহীদ মনিরুজ্জামান বাদলের সহধর্মিনী শামীমা আরা বাদল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশে শহীদ মনিরুজ্জামান বাদলদের জন্ম হয় প্রগতির পতাকাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনিমার্ণের এক অকুতোভয় সৈনিক। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ.এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যখন সুসংগঠিত হচ্ছিল, ছাত্র রাজনীতি যখন একটি পরিশীলিত অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখন তিনি তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর রোষানলের শিকার হন এবং অত্যন্ত নির্মমভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ শহীদ মনিরুজ্জামান বাদলের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

শার্শার রুদ্রপুর সীমান্ত দিয়ে শ’শ’ নারী-শিশু ও পুরুষ ভারতে পাচার হচ্ছে 

যশোরের শার্শার রুদ্রপুর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন প্রকাশ্যে বিজিবি ক্যাম্পের সামনে দিয়ে শ’ শ’ নারী-পুরুষ ও শিশু অবৈধপথে ভারতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজ্স্ব আয় থেকে।  
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাগআঁচড়া হয়ে রুদ্রপুর সীমান্ত দিয়ে ধুড় নামে এসব নারী, পুরুষ ও শিশুরা অবৈধ পথে ভারতে যাচ্ছে। আর এসব ধুড় পাচারের জন্য গড়ে উঠেছে নারী শিশু পাচার সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের প্রধান রুদ্রপুর গ্রামের আসমত আলীর ছেলে কুতুবউদ্দীন (৩৫)। তার সাথে রয়েছে ফজের আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৩০) ও আমীর চাঁদের ছেলে কিতাব আলী (৩৫)সহ আরো ১৫-২০ জন সদস্য। এরা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিজিবি ও বিএসএফ’র সাথে অর্থের বিনিময়ে যোগাযোগ করে ধুড় নামের এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের পাচার করছে। স্থানীয় গ্রামবাসিরা জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি অল্প বয়সি মেয়ে ও যুবক ছেলেরা বেশি পারাপার হচ্ছে। পারাপারের সময় তাদের কাছে অনেক বড় বড় ব্যাগ থাকে বলে তারা জানান। 
সূত্রে জানা গেছে, রুদ্রপুর সীমান্তে কতুব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নারী-পুরুষ ও শিশু পাচারের পাশাপাশি সোনাও পাচার হচ্ছে। বিনিময়ে এদের হাতে আসছে মরণ নেশা হেরোইন ও ফেন্সিডিল। 
রুদ্রপুর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আজিজুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-বিএসএফ’র যৌথ অভিযানের কারণে কোন চোরাচালান হচ্ছে না। যাচ্ছে না কোন ধুড় নামের নারী-পুরুষ ও শিশু।

নারী পাচারকারী সংঘবদ্ধ দল খুলনার খানজাহান আলী থানার মামলায় ৪ আসামীর বাড়ি ডুমুরিয়ায়

নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে খুলনার খাজাহান আলী থানায় দায়ের করা মামলার আসামীর ৪ জনের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। এলাকায় খোঁজ খরব নিয়ে জানা গেছে ওরা নারী পাচারকারী সংঘবদ্ধ একটি দল। 
ভূক্তভোগী ও মামলার এজাহর সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ দল দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে দরিদ্র ও অল্প শিক্ষিত প্রহসনমূলক বিয়ে অথবা চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয় দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিজ দেশের তরুণী ও মহিলাদের মাদ্রাজ বা বোম্বে পাচার করছে।
সম্প্রতি ওই সংঘবদ্ধ দলটি খুলনার খানজাহান আলী থানার শিরোমনি এলাকার বাসিন্দা দিন মজুর সুফিয়া বেগমকে (৩০) মোটা বেতনের চাকুরী প্রলোভন  দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় অনেক টাকা। তাছাড়া তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতনও করা হয় বলে তিনি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন। ওই মামলায় ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের উলা চরআলী গ্রামের মৃত মোজাহার আলী খাঁ’র ছেলে বখাটে মোঃ আঃ হাকিম (৪০), উপজেলার কুখিয়া গ্রামের মৃত আলম শেখের ছেলে এলাকার ত্রাস মোঃ হামিদুল্লাহ শেখ (৩৫), কুখিয়া গ্রামের মোঃ মোন্তাজ আলী শেখের ছেলে বখাটে মোঃ এয়াকুব আলী শেখ (৪৫) ও মালতিয়া গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে মোঃ শাহীনুর রহমান মাসুমকে (৩৫) আসামী করা হয়।  
সব কিছু হারিয়ে সুফিয়া বেগম নিজে বাদী হয়ে গত ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মিস পিটিশন নম্বর-৬৯৫/১৪ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওসি খানজাহান আলী থানাকে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে খানজাহান আলী থানায় গত ১০ ডিসেম্বর ওই ৪ জনকে আসামী করে ৫ নম্বর মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়। বাদী সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, আসামীরা তাদের নিজ এলাকায় বহল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

পাইকগাছা পৌর শহরের সর্বত্র’ই অস্বাস্থ্যকর-নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা পাইকগাছা পৌর শহরের সর্বত্র’ই এক অস্বাস্থ্যকর-নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে। জনসচেতনতার অভাবে যথেচ্ছা ভবন নির্মাণ ও যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পৌর শহরে বসবাস অযোগ্য হয়ে উঠেছে। অথচ বিষয়টি যাদের দেখার কথা তারা কেউ না দেখায় সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।  
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শিববাড়ি ব্রীজ সংযোগ সড়ক জিরোপয়েন্ট (পৌর বাসষ্ট্যান্ডের উঃ পাশ) থেকে পৌরবাজার মূলত পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র। পৌর ও উপজেলা পরিষদের যাবতীয় অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব কিছুই এ সীমানার মধ্যেই অবস্থিত। শিবসা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ছোট এ শহরের প্রধান (এক সময়ের পাইকগাছা-কয়রা সড়ক) সড়কটি ভেঙ্গেচুরে যানবাহন তো দূরে থাক পায়ে হেটে চলাও মুশকিল। তার ওপর রাস্তার দু’ধারে বাস পার্কিং এবং দোকানীরা ইচ্ছেমত মালামাল রেখে রাস্তার ফুটপাত দখল করে রেখেছে। গ্রীলের ওয়ার্কশপ, কাঠের ফার্নিচার ও মটরসাইকেল, ভ্যান-রিক্সা-বাইসাইকেল মেকানিকরা এক প্রকার রাস্তার উপরই যন্ত্রাংশ রেখে মেরামতের কাজ সারছেন।  পৌরবাজারের সন্নিকটে (ডাকবাংলোর উঃ পাশে) বটতলা এলাকায় রাস্তার উপর ট্রাক-পিকাপ রেখে রড-সিমেন্ট লোড-আনলোড করা হচ্ছে। অথচ পৌর কর্তৃপক্ষ স্রেফ দায়সারাভাবে মাইকিং করে রাস্তার উপর গাড়ি রেখে মালামাল লোড-আনলোড না করার জন্য নির্দেশ দিয়েই ক্ষ্যান্ত রয়েছে। 
স্থানীয় বসীন্দারা জানান, ৪নং ওয়ার্ডস্থ টেলিফোন অফিসের সামনে ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে রাস্তার উপর। উক্ত রাস্তায় হাটতে গেলে দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক আটকে ধরতে হয়। মাসের পর মাস শহরের ডাস্টবিন ও ড্রেনগুলো পরিস্কার করা হয় না। পৌর শহরের বৃষ্টির পানি নিঃস্কাশনের একমাত্র পথ সরকারী খাস খালগুলিতে বাঁধ দিয়ে যার যার ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাজার এলাকার বেশিরভাগ দোকানীরা বিভিন্ন মালামাল ও সাইনবোর্ড রাখছে ঠিক রাস্তার উপর। বাজার খেয়াঘাট সংলগ্ন (মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের পিছনে) নদীর বাঁধের উপর বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ভীষন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পৌর শহরে যথেচ্ছাভাবে ভবন নির্মাণের কারণে এক ঘিঞ্জি অবস্থা বিরাজ করছে। পৌর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ ধরনের সমস্যা দিন দিন শুধু বেড়েই চলেছে। শহরের অভ্যন্তরীন বেশিরভাগ রাস্তার মাঝ বরাবর বিদ্যুতের খুঁটি দন্ডায়মান। শব্দ দূষণ পৌর শহরের একটা বড় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এ ধরনের নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত পাইকগাছা পৌরবাসী।

আশাশুনির পুঁইজালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চরম নাজুক অবস্থা

উপজেলার পুঁইজালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটির চরম নাজুক অবস্থা। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ক্লাশ পরিচালনা করছেন। 
১৯৪০ সালে উপজেলার একটি চরম অবহেলিত প্রত্যন্ত পল্লী পুঁইজালায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে স্কুলে ২৩২ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক আছেন ৬ জন। ২০০৬ সালে পিডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং নির্মান করা হয়। সেই থেকে দু’টি বিল্ডিং এর ৬টি কক্ষে ক্লাশ পরিচালনা করা হত। বেশ ভালভাবে চলছিল স্কুলটি। কিন্তু ২০১২ সালে পুরাতন বিল্ডিংটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। যদিও আরও বহু আগেই বিল্ডিংটি ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছিল। সেই থেকে মাত্র দু’টি কক্ষকে অফিস ও ক্লাশ রুম হিসেবে একসাথে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্কুলের সময় গেলে মনে হবে বাজারের মধ্যে হৈ-চৈ চলছে। ক্লাশ পরিচালনা করা শিক্ষকদের পক্ষে যেমন বিব্রতকর, তেমনি বেশী কষ্টকর ক্লাশের পাঠ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বুঝতে পারা। তবুও ক্লাশ চালানো হচ্ছে স্কুলটিতে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ১০০% শিক্ষার্থী কৃতকার্য হওয়ার গৌরব রয়েছে এ বিদ্যালয়ের। প্রধান শিক্ষক ইউনুছ আলি জানান, তারা ক্লাশ পরিচালনার ক্ষেত্রে যে অসহনীয় ভোগান্তিতে রয়েছেন তা বর্ণনা করার ভাষা তাদের জানা নেই। পরিত্যক্ত ভবনটি নিয়েও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দরগাহপুরে চেয়ারম্যানের অস্থায়ী কার্যালয় ও ইউনিয়ন আ’লীগ কার্যালয়ে আগুন

উপজেলার দরগাহপুর ইউপি চেয়ারম্যানের অস্থায়ী কার্যালয় ও ইউনিয়ন আ’লীগের কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে আগুন দিয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকা সন্দেহে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা  গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান স এ এম জমির উদ্দিন তার নিজ গ্রাম খরিয়াটি বাজারে জনৈক আব্দুল্লাহ গাজীর একটি পাকা ঘরের কক্ষ ভাড়া নিয়ে নিজের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গ্রাম পুলিশ উজ্জল ঘরের শার্টারে তালা লাগিয়ে বাড়িতে চলে যায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উজ্জল বাজারে অফিসের পাশে সেলুনে  গেলে দেখতে পায় শার্টারের নীচের দিকে পোড়ানোর দৃশ্য। লোকজন নিয়ে শার্টার খুলে দেখা যায়, শার্টারের তলা দিয়ে চটের বস্তা জাতীয় কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে তাতে পেট্রোল  ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। আগুনে অফিসের ২টি প্লাষ্টিকের চেয়ার ও ১টি কাঠের বেঞ্চের অংশ বিশেষ পুড়ে গেছে। একই রাতে শ্রীধরপুর বাজারে সাবেক ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম আক্তারুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে থাকা আ’লীগ কার্যালয়ের বারান্দায় রাখা ১টি বেঞ্চে আগুন দেয়া হয়েছে। এতে দু’স্থানে ৪/৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজমল হুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত  সন্দেহে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জি.এম নজরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত মেম্বর নজরুল ইসলাম জানান, গত ৭ জানুয়ারি তিনিসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে ইউএনও বরাবর একটি আবেদন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা অভিযোগে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

মহেশপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার সামন্তা লালপুর গ্রামে এক পাষন্ড স্বামী তার স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে প্রকাশ, উপজেলা সামন্তা লালপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রুহুল আমিন এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছে ধার দেনায় জড়িয়ে পড়ে।  শুক্রবার সকালে সে তার স্ত্রী গোলেহার খাতুন (২৪) কে তার পিতার বাড়ি থেকে ধার দেনা পরিশোধের জন্য টাকা আনতে বললে গোলেহার খাতুন টাকা আনতে পারবো না বলে জানিয়ে দেয়। এসময় তার স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো কাস্তে ও বোতল দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। থানা অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত হোসেন ঘটনার সত্যাতা স্বীকার করে বলেন লাশ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর ভেলকিবাজি 
কালিয়ায় তিন লাখ টাকার দু’টি চান্দিনা ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি

নড়াইলের কালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী আনন্দ কুমার ঘোষের ভেলকিবাজিতে এলাকাবাসি হতবাক হয়ে গেছে। তিন লক্ষাধিক টাকা মূল্যের দ’ুটি বাজারের চান্দিনা (সেড)নিলামের নামে মাত্র ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। সরকারি চান্দিনা পানির দরে বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী বলে অভিযোগ উঠেছে। কালিয়ার ইউএনও ওই বিতর্কিত নিলাম স্থগিত করেছেন। 
কালিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলার যোগানিয়া হাটে গ্রোথসেন্টারের পুরাতন ২টি চান্দিনা(সেড) নিলামে বিক্রির জন্য উপজেলা পরিষদ উপজেলা প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। সে কারণে প্রকৌশল বিভাগ ওই চান্দিনা ২টির সরকারি মূল্য ২২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। এবং গত ২৯ ডিসেম্বর নিলাম কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকৌশলী নিলাম বিঞ্জপ্তি জারি করেন।   বিজ্ঞপ্তিটি শুধুমাত্র নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডি নড়াইল, চেয়ারম্যান কালিয়া উপজেলা পরিষদ, ইউএনও কালিয়া ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে অনুলিপি প্রদানের করে জেলা প্রশাসক ও ভূমি কর্মকর্তাদের না জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগসাজশে  গত ৫ জানুয়ারী তড়িঘড়ি নিলামের আনুষ্ঠানিকতা করে যোগানিয়া গ্রামের শহিদ মোল্যার নিকট ২২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন। কাগজ কলমে বিজ্ঞপ্তি জারি দেখিয়ে বিতর্কিত ওই নিলামে ৩ লাখ টাকার চান্দিনা পানির দরে বিক্রিতে অভিযোগ উঠলে ইউএনও বৃহস্পতিবার ওই নিলাম স্থগিত করার নির্দেশ দেন। বাঐসোনা ইউনিয়ন উপসহকারি ভূমি কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ বলেছেন, তিনি ওই নিলাম বিজ্ঞপ্তির কোন কপি পাননি। সরকারি সম্পদ পানির দরে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা প্রকৌশলী আনন্দ কুমার ঘোষ বলেছেন, উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই নিলাম বিক্রি করা হয়েছে। তবে ওইসব অভিযোগের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। উপজেলা প্রকৌশলীর অফিসের একটি সূত্র ওই নিলাম স্থগিত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। কালিয়ার ইউএনও মোঃ শাহীন হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, কিভাবে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ২টি চান্দিনার মূল্য ২২ হাজার টাকা নির্ধারণ করলো তা’ তার বোধগম্য নয়। বিতর্কিত ওই নিলাম তিনি স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। এবং নতুন করে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছেন।

বিএনপি-জামায়াতসহ ৪৩জন আটক যশোরে   

যশোরে বিএনপি-জামায়াতের ছয় নেতাকর্মীসহ ৪৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। 
যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র এএসপি রেশমা শারমীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটকদের মধ্যে বিএনপির পাঁচ জন ও  জামায়াতের এক কর্মী রয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন মামলার আসামি।  
আটকদের গতকাল বিকেলে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

যশোরের তিন ব্যবসায়ী ইজতেমায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন 

বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে লাখো মুসল্লীর সাথে এক কাতারে জুমার নামাজ আদায়ের নিয়ত করেছিলেন তারা। কিন্তু ইজতেমা স্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
এরা হলেন যশোর শহরের বকচর হুশতলা এলাকার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী হাজী নাজিমউদ্দিন (৩৫), হাজী হাফেজ মোহাম্মদ রইসউদ্দিন (৩২), হাজী নাসিরউদ্দিন (৪৫) ও প্রাইভেটকার চালক সদর উপজেলার সাড়াপোল রূপদিয়া এলাকার রেজোয়ান (২৭)।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার ধামরাইয়ের জয়পুরা এলাকায় মাটিবাহি ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে বিশ্ব ইজতেমাগামী প্রাইভেটকারটি দুর্ঘটনায় পড়ে তারা নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আহত দু’জন হলেন পিংকি মোটরসের মালিক রহিম ও মোহনা মোটরসের মালিক মুরাদ। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হাজী নাজিমউদ্দিনের ভাই কবিরুল ইসলাম নিহত ও আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান। ওই সময় গুরুতর আহত হয়েছিলেন গাড়িচালক রেজোয়ান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  মারা যান।’
যশোর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক দুপুর পর্যন্ত দুর্ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।
হাজী নাজিমউদ্দিনের স্ত্রী নাজমা খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে তার স্বামী নিজস্ব প্রাইভেটকার নিয়ে অপর সঙ্গীদের সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে রওনা হন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা খবর পান, দুর্ঘটনায় তার স্বামীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
নিহত হাজী হাফেজ মোহাম্মদ রইসউদ্দিনের ছোট ভাই রেজাউল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ভাই স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার জন্য ফয়জুল উলুম বাগে জান্নাত মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে অনেকেই পড়াশোনা করছে।
তার প্রতিবেশীরা জানান, নিহত তিনজনই ছিলেন সদালাপী, সৎ ও মানবদরদী। ব্যবসায়ের পাশাপাশি তারা সাধারণ মানুষের কল্যাণে নানামুখী কাজ করেছেন।
তিন হাজীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের সবার বাড়িতে শুভাকাক্সক্ষীদের ভিড় বাড়ছে। এদিকে শেষ খবরে জানা গেছে, দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রতিবেশী কবিরুল ইসলাম নিহতদের মরদেহ নিয়ে যশোরের দিকে রওনা হয়েছেন। আহত দু’জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানান তিনি।

মণিরামপুরে ইট ভাটার নৈশ প্রহরীকে হত্যার চেষ্টা   

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সুন্দলপুর বাজারের নিকটে দীপ্র ব্রিকস্-এর নৈশ প্রহরী আমজাদ হোসেন খোকন (৪২) কে ৫/৬ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্র মতে, ইট ভাটার সামনে ডাকাতির জন্য জড়ো হওয়া সন্ত্রাসীদের দিকে এই নৈশ প্রহরী টর্স লাইট মারলে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আহত নৈশ প্রহরী সুন্দলপুর গ্রামের মক্কেল আলীর পুত্র। উল্লেখ্য, এই ইট ভাটার সামনে ইতোপূর্বে কয়েকবার সড়ক ডাকাতি হয়েছে।

কুলটিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র কার্যালয়ে আগুন    

অবরোধের তৃতীয়দিনে মণিরামপুরের কুলটিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে এসে পেট্রোল ঢেলে কার্যালয় কক্ষে আগুন ধরিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। স্থানীয়রা আগুন জ্বলতে দেখে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা জিয়াউর রহমানের ছবিসহ বেশকিছু আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি নাজমুল হোসেন লিটনের সাথে আলাপকালে জানান, অফিস পোড়ানোর ঘটনায় মণিরামপুর থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।

নওয়াপাড়া-নেহালপুর সড়কে বাসে আগুন, আটক ৫     

মণিরামপুরে অবরোধের তৃতীয়দিনে নেহালপুর-নওয়াপাড়া সড়কে শ্রমিকদের একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ফুলতলার সুপার জুট মিলের শ্রমিক পরিবহনকারী ওই বাস বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নেহালপুর-কালিবাড়ি বাজারে শ্রমিকদের নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে নেহালপুর ইউনিয়নের পাঁচাকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে  বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাস থামিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা বাসের টায়ার ও সীটের উপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। স্থানীয়রা আগুন জ্বলতে দেখে মণিরামপুর ও অভয়নগর থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিভে গেলে ওই রাতেই সুপার জুট মিল মালিক কর্তৃপক্ষ বাসটি তাদের জিম্মায় নিয়ে যান। এদিকে ঘটনার পরে ওই এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করে মণিরামপুর থানা পুলিশ। এরা হলেন পাঁচাকড়ি গ্রামের খোকন গাজীর ছেলে মোস্তফা গাজী(২২) ও তুহিন গাজী(২০), কুতুব আলী সরদারের ছেলে সাদ্দাম সরদার(২১) এবং লিটন ও হুমায়ুন। ঘটনার ব্যাপারে ওসি মোল্লা খবির আহম্মেদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, গাড়ী পোড়ানো ঘটনায় নাশকতামূলক মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন
আ’লীগ নেতাকে জামায়াত-বিএনপি নেতা প্রচার দিয়ে গ্রেপ্তার   

জমি-জমা সংত্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাতক্ষীরা পৌর ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগের রইচপুর আঞ্চলিক কমিটির উপদেষ্টা ইয়াকুব সরদারকে জামায়াত-বিএনপি নেতা বানিয়ে মামলায় জড়ানোর অভিযোগে তার স্ত্রী সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন। ইয়াকুব সরদারের স্ত্রী রোকেয়া বেগম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার স্বামী ইয়াকুব আলী একজন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা। অথচ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সম্প্রতি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা একটি হয়রানিমূলক মামলায় জড়িয়ে দেয়ায় তার স্বামী এখন কারাগারে। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত ছাড়াই পুলিশ অর্থের বিনিময়ে বিএনপি নেতা শহরের ইটাগাছা এলাকার মাহবুব আলমের কথায় সত্য ঘটনা আড়াল করে এই মামলা রেকর্ড করে আ’লীগ নেতা ইয়াকুব আলীকে গ্রেপ্তার করে। উক্ত মামলায় পৌর ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগের রইচপুর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক আবুল হাসানকেও ১নং আসামী, উপদেষ্টা ইয়াকুবকে ২নং আসামী, সহ-সভাপতি গোলাম হোসেন, সবুজ ও জসীমকে আসামী করা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে মামলার বাদী মাহাবুব আলমের নিজস্ব কোন মৎস্য ঘের নেই। মাহবুব আলম তাদের এলাকায় জোরপূর্বক একটি মৎস্য ঘের দখল করে আছে। মাহবুব আলমের অপর দুই সহযোগী মান্নান, হাফিজুল ও মনিরুল এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে এবং প্রচার দেয় যে, আমাদের ক্ষয়-ক্ষতি করবে। তিনি বলেন, তার স্বামী গ্রেপ্তার হওয়ার পরে তাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মামলার ১নং স্বাক্ষী মনিরুল ইসলাম ভ্যাদল এলাকার চিহ্নিত চোর। মাহবুব আলমের সহযোগী হাফিজুল মাদকের ব্যবসা করে। তিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার দ্বারা করা মিথ্যা মামলা থেকে অব্যহতি পেতে জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে মামলার ২নং স্বাক্ষী রইচপুর এলাকার কাশেমের পুত্র নাসির ও ৩নং স্বাক্ষী একই এলাকার মৃত হাতেম আলীর পুত্র আঙ্গুর উপস্থিত ছিলেন। তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ