বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

নিরীহ লোকজনকে মানব পাচারকারী বানানো হচ্ছে

জুন ১৪, ২০১৫ 32 views 0
নিরীহ লোকজনকে মানব পাচারকারী বানানো হচ্ছে

প্রথম নিউজ প্রতিবেদক : নাটকের পর নাটক, টাকার বিনিময়ে লাল সাদা, আর সাদা লাল। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানব পাচার বিরোধী অভিযানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুরনো শত্রুতা উদ্ধারে নেমেছে অসাধু লোকেরা। তারা নিরীহ মানুষকে মানব পাচারকারী বানিয়ে তুলে দিচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। এমন একটি অভিযোগ ওঠেছে কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে।

 

সেখানকার নিরীহ এক পরিবারকে মানব পাচারকারী হিসাবে অভিযুক্ত করে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে চক্রান্তকারীরা। পরিবারটি বর্তমানে পুলিশী আতঙ্কে রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এ নিয়ে ১৩ জুন শনিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের পক্ষ থেকে সাজেদা বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের ধনখালীর নুর আহমদ ও তার চাচাতো ভাই ছুরত আলমের ছেলেসহ একই ইউনিয়নের ৭ জন যুবক সবার অজান্তে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়ে। দালালের খপ্পরে পড়ে এরা এই দুর্গম যাত্রায় পা বাড়ায়।

 

এর মধ্যে নুর আহমদের ছেলেসহ ৭ জন মালয়েশিয়ার বোটে উঠে বলে স্ব স্ব পরিবারকে জানায়। তার জন্য টাকা পাঠানো জন্য প্রত্যেকই তাদের পরিবারকে বলে।

 

দালালরাও বলে একই কথা।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নুর আহমদ জানান, বোটে উঠার কথা বলে ৭ জনের পরিবার স্ব স্ব ইচ্ছায় দালালদের দাবীকৃত টাকা নুর আহমদের হাতে দেয়।

 

শেষ সময়ে ৪ জনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে তাদের টাকা দালালদের দেয়া ঠিকানায় পৌঁছে দেয় নুর আহমদ। বাকী ৩ জন বোটে উঠতে না পারায় তাদের জন্য জমা নেয়া টাকা স্থানীয় মেম্বার আব্বাস্ আলী, সাবেক মেম্বার মনজুর আলম ও মাস্টার ফয়েজ আলমসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ফেরত দেন নুর আহমদ।

 

এরপর পূর্বশত্রুতার জের ও ঈর্ষান্বিত হয়ে ছুরত আলম নুর আহমদ এবং তার দু’স্ত্রী সাজেদা বেগম ও জাহেদা বেগমকে অভিযুক্ত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ করে। আর এতে কুপ্ররোচনা দেন পিএমখালী মানবপাচারের দালাল জুলেখা নামে মহিলা। মানব পাচার বর্তমানে সিরিয়াস বিষয় হওয়ায় চাপে পড়ে দু’স্ত্রীসহ ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নুর আহমদ। এই অভিযোগ মাথায় নিয়ে সহায়-সম্বলহীন নুর আহমদ দু’স্ত্রী নিয়ে পালিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

 

নুর আহমদের দাবী, আমি আদৌ মানব পাচারকারী কিনা বা মানব পাচারের সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখুক। যদি তিনি মানব পাচারের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ হয় তাহলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিক। না হলে তার ব্যাপারে একটু সহানুভূতি প্রকাশ করার আকুতি জানান। এসময় তার স্ত্রী জাহেদা বেগমসহ স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, প্রশাসন মানব পাচারের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স ভুমিকায়। মানব পাচার শুন্যের কোটায় না আসা পর্যন্ত অভিযান চলবে।

 

তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগে কোন মানুষকে হয়রানি করার প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ