বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

এবার `খুলনা-কলকাতা মৈত্রী ২’

জুন ১৫, ২০১৫ 49 views 0
এবার `খুলনা-কলকাতা মৈত্রী ২’

প্রথম নিউজ প্রতিবেদক : অচিরেই চালু হতে যাচ্ছে খুলনা-কলকাতার মধ্যে সরাসরি  মৈত্রী-২ রেল।

সদ্য সমাপ্ত দিল্লি বৈঠকে অংশ নেওয়া রেলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রথম নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, তিনদিন ধরে বাংলাদেশের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি ভারতীয় ১৩ রেল কর্মকর্তার সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেছেন।

ফলপ্রসূ এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হতে চলেছে। কেননা এ এলাকার অধিকাংশ মানুষের স্বজনরা পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করেন। বিয়ে-শাদী থেকে শুরু করে নানা কাজে আপনজনের কাছে তাদের প্রায়ই ছুটতে হয়। তাদের বাদুরঝোলা হয়ে বাস-রিকশা করে বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছাতে হয়।

বেনাপোল-হরিদাসপুর সীমান্তে ইমিগ্রেশন-কাস্টমসের  সিএনজি(অটো) বা রিকশা ধরে বনগাঁও রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরেন। অনেক ঝক্কিঝামেলার পর সেই ট্রেনে করে অনেকটা আয়েশে কলকাতা বা গন্তব্যে পৌঁছানো।

বৃটিশ শাসনামলে রেলপথ স্থাপনের পর বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মানুষ খুলনা থেকে ট্রেনে করে কলকাতা যেতেন। বরিশাল বিভাগের লোকেরা স্টিমারে করে খুলনা যেতেন। এরপর ট্রেন ধরে সটান কলকাতা।

স্টিমার টিকিটের সঙ্গে রেলের ভাড়াও নেওয়া হত তাদের কাছ থেকে। ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পরও ওই এলাকার মানুষ রেলে করে একইভাবে কলকাতা যেতেন। ট্রেনের মধ্যেই সারা হতো ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস।

কিন্তু ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যায় খুলনা ও কলকাতার মধ্যে রেল চলাচল। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ কলকাতার সঙ্গে সরাসরি রেল চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন।

কিন্তু এ এলাকার মানুষ এরুটে রেল চলাচলের আলোর মুখ দেখেননি। অবশ্য ১৯৯৯ সালের শেষার্ধে খুলনা ও কলকাতার মধ্যে রেলে পণ্য পরিবহন চুক্তি হয়। ওই বছরে রেলে ট্রয়াল পণ্যপরিবহন ব্যবস্থা দেখতে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন তদানীন্তন যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং ভারতের রেলমন্ত্রী (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী) মমতা বন্দোপাধ্যায়।

এবার দিল্লিতে ২৫ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত দুই দেশের রেল কর্মকর্তারা মূলতঃ খুলনা-কলকাতা রেল (মৈত্রী) চালু নিয়ে আলোচনা করেন। অবশ্য ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী রেল আশাতীত লাভের মুখ দেখায় দু’পক্ষকে পুরানো রুটটি চালু করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী রেল থেকে বাংলাদেশের বছরে নিট লাভ থাকছে ছয় কোটি টাকা।

ভারত এই মুহূর্তে খুলনা-কলকাতা মৈত্রী-২ চালু করতে চাইলেও বেনাপোল-পেট্রাপোলের পরিবর্তে দর্শনা-গেদে রুটে চালাতে চায়। তারা বলছেন, পেট্রাপোলের সার্বিক অবকাঠামো আশাপ্রদ নয়। কেননা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে পেট্রাপোলের রেলস্টেশনটি। সেখানে তাদের ভূমি অধিগ্রহণ করে অবকাঠামো‘র উন্নয়ন করতে হবে। এতে সময়ের প্রয়োজন।

বাড়াতে হবে কাস্টমস-ইমিগ্রেশনের মতো জনবল। তদুপরি হরিদাসপুর থেকে আট কিলোমিটার দূরে প্রান্তিক রেলস্টেশন বনগাঁও থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৩/৪টি করে ট্রেন কলকাতার শিয়ালদহ, মাঝেরহাট, ডানকুনি, গঙ্গারপাড়ে চক্ররেল, দক্ষিণ চব্বিশপরগণার ক্যানিং-এ চলাচল করে।

ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়- বনগাঁও থেকে শিয়ালদহে যেতে ২৩টি রেলস্টেশন পড়ে। এই ২৩টি রেলস্টেশন থেকে আবার অফিসটাইম ও যাত্রীদের ফিরতির জন্য ২/১টি করে লোকাল ট্রেন চলাচল করে। বনগাঁও-শিয়ালদহ রেলের ডবল লাইন হলেও ব্যস্ত থাকে রেল চলাচলে।

পক্ষান্তরে চিৎপুর থেকে রানাঘাট অবধি ৪/৫টি করে রেলপথ রয়েছে। কেবল রানাঘাট থেকে গেদে (এপারে দশনা) অবধি ডবল লাইন। তবে রানাঘাট-গেদে পথে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে রেল চলে।

কিন্তু বাংলাদেশের যুক্তি হলো খুলনা থেকে কলকাতার যে দূরত্ব তার থেকে অতিরিক্ত ৭৩ কিলোমিটার ঘুরতে হবে। যা কিনা যাত্রী পাওয়াই দুরুহ হবে। খুলনা থেকে দর্শনা-গেদে পৌঁছানোর সেই যাত্রী কলকাতা পৌঁছে যাবেন। দর্শনা-গেদে থেকে কলকাতার দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার।

দিল্লি বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ছিলেন রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান, রেল মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি মুহম্মদ আকবর হোসেন, যুগ্ম মহাপরিচালক (অর্থ) মনোয়ারা হাবীব, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাউন্সিলর এএফএম জাহিদ-উল-ইসলাম, কাস্টমস-এর জয়েন্ট কমিশনার মিয়া আবুওবায়দা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি (সাউথ এশিয়া-১) মোরশেদুর রহমান তালুকদার এবং রেলের অ্যাসিসট্যান্ট ডাইরেক্টর (ইন্টারচার্জ ট্রাফিক) কালীকান্ত ঘোষ।

ভারতের ১৩ সদস্যের মধ্যে ছিলেন- টিম লিডার রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সদস্য (ট্রাফিক) কুন্দন সিনহা, ইস্টার্ন রেলের (চিফ অপারেশন ম্যানেজার) এসকে দাস, নির্বাহী পরিচালক (ট্রাফিক) মনোজকৃষ্ণ আখুড়ি, নির্বাহী পরিচালক (কোচিং) পুরুষোত্তম গুহ, নির্বাহী পরিচালক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (কোচিং) শৈলজানেন্দ্র সিং, নির্বাহী পরিচালক (প্যাসেঞ্জার মার্কেটিং) বি প্রসান্ত, নির্বাহী পরিচালক (ফ্রাইট) অজয় নন্দন, পরিচালক ফাইনান্স (অ্যাকাউন্টস) ভিবেক পি ত্রিপাঠি, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের রেলওয়ে অ্যাডভাইজর দিবাঞ্জন রায়, গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার (আইএম, কনকর) সঞ্জয় স্বরুপ, জাতীয় রাজস্ব বিভাগের পরিচালক (আইসিডি)  সত্যজিৎ মোহান্তি, ইমিগ্রেশন ব্যুরোর জয়েন্ট ডেপুটি ডাইরেক্টর এ কে শর্মা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মিনি কুমারী।

এরআগে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় মৈত্রীর বর্তমান চালু থাকা তিনটিতে আরও বগি সংযোজন, আরও একটি রেল বৃদ্ধি ও মৈত্রী-২ চালু নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ