সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনার অভাব;
বগুড়ায় শ্রমজীবি ও পেশাজীবিদের সীমাহীন ভোগান্তি

জুন ১, ২০১৭ 217 views 0
<span style='color:red;font-size:25px;'>প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনার অভাব;</span><br> বগুড়ায় শ্রমজীবি ও পেশাজীবিদের সীমাহীন ভোগান্তি

আবদুল ওহাব, বগুড়া প্রতিনিধি : সরকার মহাসড়কে অটো রিকসা-সিএনজি চলাচল নিষিদ্ধ করায় দুর্ঘটনার আশংকা কমিয়ে গেলেও এ বিষয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সমস্যা সমাধানে দিক নির্দেশনার অভাবে বগুড়া মহাসড়কে অংশে তিন চাকার অটোরিকসা-সিএনজি চলাচল কিছুতেই থামছেনা।

 

আবার বগুড়ায় কর্মরত সরকারী কর্মকর্তা,কর্মচারী, শ্রমজীবি, পেশাজীবি  ও শহর কেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহকারী মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে সুন্দর ও সুশৃংখল পদ্ধতি গ্রহন না করায় সরকারের এ জনগুরুত্বপূর্ণ কাজটি বাস্তবায়ন করতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মহাসড়কে মৃত্যৃর মিছিল কিছুতেই থামছেনা।

 

এমন কোন দিন নেই যে বগুড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনায় কেউ মরছেনা। দু’দিন আগেও জাতীসংঘের একজন কর্মকর্তাকে জীবন দিতে হলো বগুড়ার মাটিতে। তথাপি প্রশাসনের ঘুম যেন সীমাহীন।

 

বগুড়া শহরের আশে পাশের শ্রমজীবি, চাকুরীজীবি ও পেশাজীবিরা জানান, প্রতিদিন সকালে তাদের শহরে কর্মস্থলে যেতে হয় এবং বিকেলে বাসায় ফিরতে হয়। এজন্য শহর কেন্দ্রিক মানুষকে পরিবহনের জন্য পুর্বে শাজাহানপুর থেকে ৪ চাকার ম্যান হলার  (লেগুনা) মাঝিড়া নয়মাইল থেকে সাতমাথা হয়ে মাটিডালী বিমান মোড় যেত এবং সেখান থেকে সাতমাথা বনানী হয়ে আবারও মাঝিড়া যেত। পরিবহনটি নিদিষ্ট স্থান ছাড়া না থামায় অনেক সুবিধা ছিল।

 

যেমন একদিকে জনগনের  রিকশা ব্যবহারের পরিমান কমে যাওয়ায় তা ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল। অপরদিকে শহরে যানযটের বালাই ছিলনা এবং অতি সহজে ও কম সময়ে মানুষ তাদের গন্তব্যে পৌছতে পারতো। তেমনি সাবগ্রাম, চেলোপাড়া, বৌবাজার সাতমাধা হয়ে মেডিকেল কলেজ. তিনমাথা রেলগেট ও বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সার্ভিস চালু করলে প্রতিদিন শহর কেন্দ্রিক মানুষের ভোগান্তি ৮০ শতাংশ কমে যেত। শুধু তাই নয়, এতে করে লেগুনা, সিএনজি চালক ও মালিকদের চলমান সমস্যাও দুর হতো।  বেপরোয়াভাবে মহাসড়কে চলতো না সিএনজি।

 

কিন্তু তা না করায় শুধুমাত্র বনানী থেকে শহরে ঢুকতে তিনটি পরিবহন পরিবর্তন করতে হয়। ফলে বাধ্য হয়ে রিকশা নিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয় যাত্রীদের। অপরদিকে অযথা রিকশা জট লাগে শহরে।

 

তারা আরও জানান, প্রশাসন যানযটের অজুহাতে লেগুনা সার্ভিস চালু না করাটা সম্পুর্ণ অযৌক্তিক। কারন ট্রাফিক অব্যাবস্থাপনার কারনে শহরের সকল রোডে রিকশা ভ্যান ও অন্যান্য গাড়ী পার্কিং করে রেখেছে। ফুটপাত গুলোও দখলদারদের কবলে। অনেক সড়কে বাজার বসিয়ে সেগুলো সড়ক বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এমনই পরিবেশ শহরের রাস্তার। অথচ বিবেচনায় নেয়া হচ্ছেনা কর্মজীবি মানুষের চলাচলে ভোগান্তির বিষয়টি।

 

তবে সুশীল সমাজের লোকজন জানিয়েছেন, দুর্ঘটানা এড়াতে জনগনের নিরাপদ সড়ক ব্যাবস্থার দাবী দীর্ঘ দিনের। কিন্তু সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও দিক নির্দেশনার অভাব যেন চিরন্তন। অথচ প্রশাসন অনায়াসে এবং খুব সহজেই শহর কেন্দ্রিক মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এসব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এগুলোকে মোকাবেলা করতে পারে।

 

কিন্তু তা না করার কারনে যাত্রীরা দ্রুত যাকায়াতের জন্য টাকার প্রলোভন দিয়ে সিএনজি ভাড়া করে শহরে যেতে চাইছে। আর সিএনজি চালকরাও অর্থের প্রলোভন পেয়ে আইন অমান্য করে মহাসড়কে যাতায়াত করছে। ফলে আইন শৃংখলা বাহীনির কঠোর নজরদারী সত্বেও মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমছেনা কিছুতেই। তাই প্রতিদিন চাকুরীবি, শ্রমজীবি ও পেশাজীবি মানুষের যাতায়াত সহজতর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করে জনগুরুত্ব সমস্যা সমাধানে প্রশাসন দক্ষতার পরিচয় দিবে এমন প্রত্যাশা সকলের।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ