প্রকাশ : সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
নার্সকে মারধর ও অশ্লীল আচরণ;
রাজশাহীতে ছাত্রলীগ নেতা ও তাঁর বাবা আটক
<span style='color:red;font-size:25px;'>নার্সকে মারধর ও অশ্লীল আচরণ;</span><br> রাজশাহীতে ছাত্রলীগ নেতা ও তাঁর বাবা আটক

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের এক নার্সের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ ও তাঁকে মারধরের অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতা ও তাঁর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক ছাত্রলীগ নেতার নাম হিমেল এবং তাঁর বাবার নাম জাহাঙ্গীর আলম। হিমেল রাজশাহীর মতিহার থানার হরিয়ান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং তাঁর বাবা সাবেক সেনা সদস্য। তাঁদের বাড়ি মতিহারের মহেন্দ্রা এলাকায়।

 

এদিকে সহকর্মীকে মারধর ও তাঁর সঙ্গে অশ্লীল আচরণের ঘটনার জের ধরে হাসপাতালের প্রায় এক হাজার ১০০ সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা প্রায় এক ঘণ্টা ধর্মঘটও করেন হাসপাতালে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাপ-ছেলেকে আটকের পর হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

তবে হিমেলের বাবা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, নার্স ফেরদৌসি খাতুন আগে তাঁর ছেলেকে চড় মেরেছেন। এতে তিনি রাগ সামাল দিতে না পেরে ওই নার্সকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। নার্সকে মারধর এবং তাঁর সঙ্গে অশ্লীল আচরণের কথা অস্বীকার করেন জাহাঙ্গীর আলম।

 

হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা করাতে এসে আটক হওয়ায় তিনি ব্যাপক ক্ষোভও প্রকাশ করেন এ সময়।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে ছেলে হিমেলকে সঙ্গে নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তাঁর মেয়ে ফারজানা খাতুনকে (১৩) দেখতে যান। ফারজানা ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুক্রবার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। রাত ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকালে হাসপাতালে এসেই ছাত্রলীগ নেতা হিমেল দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্সদের কাছে বোনের চিকিৎসা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে যান।

 

এ সময় দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসি খাতুন হিমেলকে জানান, ওষুধ যা যা দরকার ছিল সবই তাঁরা রোগীকে দিয়েছেন এবং ইনজেকশনও পুশ করে দিয়েছেন। নতুন কিছু প্রয়োজন হলে চিকিৎসকরাই ভালো বলতে পারবেন। এ কথা শোনার পর হিমেল সেখান থেকে তাঁর বোনের কাছে চলে যান।

 

প্রত্যক্ষদর্শী অন্য রোগীর স্বজনরা জানায়, কিছুক্ষণ পরে হিমেল আবার ফিরে এসে নার্স ফেরদৌসির কাছে জানতে চান, ‘চিকিৎসক কোথায় আছেন?’ উত্তরে নার্স বলেন, ‘চিকিৎসক তাঁর কক্ষে আছেন। ’ নার্স ফেরদৌসি দাঁড়িয়ে থেকে তখন অন্য রোগীর শরীরে ইনজেকশন পুশ করছিলেন। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে ওই কথা শোনার পরে ফেরদৌসিকে সরে যেতে বলেন হিমেল। এ সময় হিমেল আরো উত্তেজিত হয়ে নার্স ফেরদৌসিকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন।

 

নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘নার্সকে মারধর এবং তাঁর সঙ্গে অশ্লীল আচরণের অভিযোগে বাপ-ছেলে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।