প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
রোহিঙ্গারা খোলা আকাশের নিচে অপুষ্টি ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগছে
রোহিঙ্গারা খোলা আকাশের নিচে অপুষ্টি ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগছে

প্রথম নিউজ প্রতিনিধি, কক্সবাজার : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা খাদ্য ও পানি সংকট, আবাসন এবং পয়ঃসুবিধার অভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

 

পাহাড়-বন-জঙ্গল-জলাভূমি ও নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা মানুষদের শরীরের ধকল কাটছে না কোনোভাবেই।  প্রতিটি পরিবারে গড়ে অন্তত ৪-৫টি শিশু রয়েছে। এদের অনেকেই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। তাছাড়া, শিশুদের উপযোগী খাবার জুটছে না।

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, কয়েকদিন ধরে দীর্ঘ ভয়ঙ্কর পথ পাড়ি দিয়ে আসা সকলেই কম-বেশী অসুস্থ। এর মাঝে পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব, সঠিক যত্ন না পাওয়া এবং খোলা আকাশের নিচে মাটিতে শুয়ে-বসে থেকে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

 

ক্যাম্পের বাইরেও শত শত রোহিঙ্গা নারী-শিশু খোলা আকাশের নিচে, গাছের ছায়ায়, রাস্তার উপর বা দোকানের সামনেই ক্ষুধা আর ক্লান্তিতে নেতিয়ে থাকছে।

 

স্থানীয় একটি নার্সারির মালিক জাহিদ হোসেন জানান, তার বাগানে প্রথম থেকেই ৪৩ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিচ্ছেন। এই গত এক সপ্তাহে অন্তত ১০ থেকে ১১টি ছোট বাচ্চার ‍মৃত্যু হয়েছে। এদের তারা দাফন দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, খোলা আকাশের নিচে একেকজন মা ৫/৬ জন শিশু নিয়ে প্রায় সপ্তাহজুড়ে সেখানে অবস্থান করছেন। এতে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় চিকিৎসক জয়নুল আবেদিন প্রথম নিউজকে বলেন, ‘বেশিভাগ শিশু জ্বর, ঠাণ্ডা নিয়ে আসছে। এছাড়া ডায়রিয়া ও পানিবাহিত আরও রোগ রয়েছে শিশুদের। কিছু শিশু আঘাত ও আগুনে পোড়া নিয়ে এসেছে। মা ও শিশুদের অবস্থা বেশ ভালো নয়। এই অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। নবজাতক ও তার মায়ের জন্য আশ্রয়, খাবার নিরাপদ পানি ও ঔষধ প্রয়োজন।

 

কক্সবাজারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক নাসিমা ইয়াসমিন জানান, শরণার্থী নারী ও শিশুরা সবচেয়ে সংকটকালীন সময় পার করছেন। শিশুদের অবস্থা খুবই খারাপ। বালুখালী ও পুঁটিবুনিয়ায় দুইটি চিকিৎসা কেন্দ্র খুলেছি। এখানে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার নারী ও শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পের চিকিৎসা কর্মী  মো: মমিনুল হক জানান, ‘রোহিঙ্গা শিশুরা মায়েদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে না। তারা অপুষ্টিতে ভুগছে। এর ওপর এমন দীর্ঘ ভয়ংকর পথ পাড়ি দিয়ে তাদের জীবন সংকটপন্ন। তাদের সবার চিকিৎসা প্রয়োজন।’