শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ঠাকুরগাঁওয়ে বন্যপ্রাণীর কামড়ে ৩ সহস্রাধিক মানুষ আহত; নেই কোন প্রতিষেধক ভেকসিন

অক্টোবর ৪, ২০১৭ 179 views 0
ঠাকুরগাঁওয়ে বন্যপ্রাণীর কামড়ে ৩ সহস্রাধিক মানুষ আহত; নেই কোন প্রতিষেধক ভেকসিন

মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : প্রায় প্রতিদিন ঠাকুরগাঁওয়ে কুকুর-বিড়াল ও বানর সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আক্রমনের  শিকার হচেছ নানা বয়সের মানুষ। উপজেলায় চিকিৎসা না পেয়ে আসছে জেলা সদরে । কুকুর ও শিয়ালের কামড়ে রক্ষা পাচেছ না শত শত গৃহপালিত  প্রাণী। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষ ।

 

জেল স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে,গত ৯ মাসে হরিপুর, রাণীশংকৈল, পীরগঞ্জ সদর ও বালিয়াডাঙ্গীসহ পাশবর্তী বীরগঞ্জ, দেবীগঞ্জও আটোয়ারী উপজেলার ৩ হাজার ১৯০জন নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর কুকুর-বিড়াল সহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়েছে। অন্য হিংস্র প্রাণীর জলাতংক রোগ প্রতিষেধক ভেকসিন সরবরাহ থাকলেও কুকুরের কামড়ে আক্রান্তদের ওই রোগ প্রতিষেধক ওষুধ সরবরাহ অপ্রতুল।

 

এদিকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহিম বলেন, গবাদি পশুদের জলাতংকরোগ প্রতিষেধক ভেকসিন সরবরাহ নেই এ জেলায়। তিনি জানান ক্ষতিগ্রস্তরা দোকান থেকে কিনে তাদের আক্রান্ত গরু-ছাগলের চিকিৎসা করছে।

 

পীরগঞ্জ উপজেলার জগথা গ্রামের আয়েশা বেগমের ৬ বছরের ছেলে জুরাইন বাড়ির বাইরে খেলছিল। খেলার সময় একটি বেওয়ারিশ কুকুর কামড় দেয় জুরাইনকে। ঐ উপজেলায় ছেলের চিকিৎসা না পেয়ে সোমবার (২অক্টোবর) তিনি ছেলেকে নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই শাখায় এসেছিলেন।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা হাসপাতালে জলাতংক রোগের কোন চিকিৎসা নেই । অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এবং টাকা খরচ করে জেলা শহরে আসতে হয়েছে ছেলেকে নিয়ে । একই অভিযোগ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী গ্রামের নুর ইসলামের ।

 

সিভিল সার্জন অফিসের হেলথ সুপারেন্টডেন্ড  মাহফুজা পারভিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর জলাতংক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ।

 

তিনি বলেন, প্রতিদিন নতুন ও পুরাতন মিলে ৫০-৬০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর জলাতংক রোগের প্রতিষেক ভেকসিন নিতে আসছে। তবে রোগীর ক্রমাগত সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে ।

 

হরিপুর উপজেলার টেংরিয়া গ্রামের শাহাবুদ্দিন বলেন, কুকুরের কামড়ে তার ৫টি ছাগল মারা গেছে। তিনি সময় মত চিকিৎসা করাতে পারেননি।

 

জেলাপ্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে  অতিরিক্ত বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করত: সিটি করপোরেশন। এখন তা বন্ধ রয়েছে । ফলে এই প্রাণীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে প্রতিবছর ছাগল-গরু ও হাঁস- মুরগি মারা যাচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, কুকুর-বিড়ালও বানর সহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর খাবারের সংকট দেখা দেয়ায় তারা লোকালয়ে চলে আসছে। আর এদের বিরক্ত করলে করতে গেলে মানুষ আক্রমনের শিকার হয়।

 

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, উপজেলা পর্যায়ে জলাতংক রোগ প্রতিষেধক ভেকসিন সরবরাহ দেয়না সংশ্লিষ্ট দফতর। তবে তিনি এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠাবেন ।

 

 

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ