বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

“একজন আপোষহীন দেশনেত্রী, দেশমাতা খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ”

জুন ৯, ২০১৫ 241 views 0
“একজন আপোষহীন দেশনেত্রী, দেশমাতা খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ”

এম এ সালাম :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ায় ভারতীয় উপমহাদেশের অবিভক্ত বাংলার জনগণ যখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে এবং বিশ্বের সর্বত্র যখন শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে। ঠিক সেই বিরল মুহূর্তে ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়িতে এক আভিজাত্যে ভরা শান্তির নীড় মুজমদার পরিবারে প্রচণ্ড খুশির বার্তা বয়ে জনাব এস্কান্দার মজুমদারের ঔরস্যে ও বেগম তৈয়বা মুজমদারের গর্ভে আজকের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম হয় ।

 

বৈবাহিক জীবন :

 

১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে উনার বিবাহ সম্পন্ন হয়।

 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তখন ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডি এফ আই এর অফিসার হিসাবে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন।

 

রাজনীতিতে প্রবেশ :

 

অন্য কোন রাজনীতিবিদের মত হুট করেই তিনি রাজনীতিতে আসেন নি । শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যার পর ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল।

 

যখন জেনারেল এরশাদ তত্কালীন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করেন, জনগনের অধিকার কেড়ে নেন।

 

জাতি যখন ছিল এক বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়ে ঠিক তখন জনগণের কেড়ে নেয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে শহীদ জিয়ার জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রের রাজনীতির পতাকাকে উড্ডীন করে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া রাজনৈতিক মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ভাবে উপস্থিত হয়েছিলেন।

 

তখন জাতির সঙ্কটময় মুহূর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮২-এর ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। সেই থেকেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে ।

 

১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন।

 

১৯৮৩ সালের বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। একই সময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। বেগম খালেদা জিয়া প্রথমে বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।

 

একই সময় তার নেতৃত্বে সাত দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন পনের দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচী শুরু করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে।

 

কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাঁধার সৃষ্টি হয়। ১৫ দল ভেঙ্গে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়।

 

এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট আন্দোলন চালায় এবং নির্বাচন প্রত্যাখান করে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া “এরশাদ হটাও” এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলে এরশাদ সংসদ ভেঙ্গে দেন। পুনরায় শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।

 

অবশেষে দীর্ঘ আট বছর একটানা নিরলস ও আপোষহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া মোট পাঁচটি আসনে অংশ নিয়ে পাঁচটিতেই জয়লাভ করেন।

 

দীর্ঘ ৯ বছরের সামরিক শাসনবিরোধী নিরবিচ্ছিন্ন আন্দোলনে স্বৈরাচারকে পরাজিত করে তিনি দেশে সাংবিধানিক গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

 

তিনি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নিরলস পরিশ্রম করে তার শাসনামলে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত করেন। রাজনীতিতে প্রবেশ করার পর থেকেই তিনি এই দেশে সব অগণতান্ত্রিক দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই অব্যাহত রেখেছেন।

 

আর সেজন্যেই জনগণ তাকে আপোষহীন নেত্রীর অভিধায় অভিষিক্ত করেছে। উক্ত ৯ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিনবার গ্রেপ্তার করা হয় বিনা অপরাধে। ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি গ্রেফতার হন।

 

পরবর্তীতে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুই দুইবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি সংসদ গঠন করে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সর্বমোট তিনবারের মতো প্রধানমন্ত্রীত্ব অর্জন করেন যা আজ ও অব্দি বাংলাদেশের কোন দলীয় প্রধান অর্জন করতে পারেন নি ।

 

একটানা ৩৭২ দিন কারাবাস :

 

দেশী- বিদেশী চক্রান্তকারীরা আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপায়ে স্বার্থ উদ্ধারের প্রস্তাব রেখেছিল যা দেশ ও জাতির কল্যানে এই দেশনেত্রী প্রত্যখ্যান করেছিলেন ।

 

দেশনেত্রীর কাছ থেকে স্বার্থ আদায় করতে না পেরে আবারো নতুন করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিলো সেই চক্রান্তকারীরা । ১১ জানুয়ারি ২০০৭ সনে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় ক্ষমতা দখলকারীরা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য খেলায় মেতে উঠেছিল।

 

এরই অংশ হিসেবে ওই বছরে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাব  গ্রেফতার করে। সংসদ ভবন এলাকার একটি বাড়িকে সাব জেল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানে রাখা হয়। এবং ষড়যন্ত্রকারীরা এই প্রানের নেত্রীকে তার স্বজনের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার আপ্রান চেষ্টা চালায়। সপরিবারে দেশত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টাও চালানো হয়।

 

কিন্তু তিনি দেশত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। মাইনাস টু তত্ত্বসহ নানাবিধ অপকৌশল অবলম্বন করে ও অপপ্রচার চালিয়ে খালেদা জিয়াকে তার স্বদেশ ও জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়।

 

তার আপোষহীনতায় এবং জনগণের চাপে পিছু হটেছিল সেই সরকার এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দেশনেত্রীর দৃঢ় কমিটমেন্টে ষড়যন্ত্রকারীদের কূটকৌশল ব্যর্থ হয়ে যায় এবং এক বছর পরে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

 

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে মুক্তি, কারাবন্ধি থেকে মুক্তি দেওয়া হয় । আজ ১১ ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ আপোষহীন নেত্রী জনগনের নেত্রী দেশ মাটি ও মানুষের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭ম কারামুক্তি দিবস ।

 

আজ একটি অর্ডারের অপেক্ষায় সাড়া বাংলাদেশ :

বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর স্বাধীনতা বিরোধীরা মুক্তি যুদ্ধাদের হটিয়ে ৭২ সালে ক্ষমতা কেড়ে নেয় এবং ৭৫ সাল পর্যন্ত তারা দেশে চক্রান্ত করে দেশের সাধারন জনগনের অধিকার কেড়ে নেয়। সারাদেশে লুটপাট ও ডাকাতি শুরু করে সেই সময়ের সরকার । কায়েম করে একদলীয় শাসন, কায়েম করে বাকশাল ।

 

পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বাংলাদেশের কিছু চৌকস সেনা অফিসার দের বৈপ্লবিক অভ্যুথানের ফলে দেশ ও জাতি বাকশাল থেকে মুক্তি পায় ।

 

বর্তমানে আজ আবার সেই বাকশালের বংশধরেরা সাড়া বাংলায় জেগে উঠেছে। আবার ও চালাচ্ছে নির্মম ভাবে কিলিং মিশন ও হত্যাকাণ্ড। গুম ও খুন করে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের । দেশের মানুষ আজ অতিষ্ঠ হয়ে আছে এই হায়েনা সরকারের অত্যচারে । দেশের মানুষ মুক্তি চায় বর্তমান ফেরাউন সরকারের হাত থেকে। আর এই মুক্তি ফিরিয়ে আনার জন্যে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ একজনের দিকেই তাকিয়ে আছে।

 

একটি অনুমতি পেতে তীর্থের কাকের মত তাকিয়ে আছে একজনের দিকে হয়তোবা অনুমতি পেলে আজকের এই হায়েনা ফেরাউন সরকারকে কুত্তার মত মারবে যে মৃত্যু ইতিহাস হয়ে থাকবে সাড়া বিশ্বের মাঝে ।

 

যার দিকে দেশের ১৮ কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে শুধুমাত্র একটি পারমিশন এর জন্যে তিনি আর কেউ নন – তিনি হলেন দেশ মাটি ও মানুষের মা – আপোষহীন জননেত্রি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর স্ত্রী এবং তিনবার নির্বাচিত বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ।

 

আমরা আশা ও বিশ্বাসী ইনশা আল্লাহ এবার ও দেশমাতা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই সরকারের পতন ঘটাবে এই বাংলার স্বাধীনতাকামী জনগন।

 

S-Bhai এম, এ সালাম

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

প্রথম নিউজ

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা ( জাসাস)

সভাপতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা ( জাসাস) যুক্তরাজ্য শাখা)

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ