রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

‘শেখ হাসিনা ও স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া একসঙ্গে রাত কাটাতেন না’

জুন ১১, ২০১৫ 2634 views 0
‘শেখ হাসিনা ও স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া একসঙ্গে রাত কাটাতেন না’

মরহুম মতিউর রহমান রিন্টু :

১৯৯৪ সালের ২৮শে ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসা ত্যাগ করে ধানমন্ডি পাঁচ নম্বর রোডের ৫৪ নম্বর বাড়িতে উঠলেন। ধানমন্ডি ০৫ নম্বর রোডের ৫৪ নম্বর বাড়িটি প্রথম ও দ্বিতীয় তলা শেখ হাসিনার পরিত্যাক্ত স্বামী ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার নামে। আর তৃতীয় তলা শেখ হাসিনার নিজের নামে।

 

শেখ হাসিনার অবহেলিত ও পরিত্যক্ত স্বামী বৈজ্ঞানিক ডঃ ওয়াজেদ মিয়া এই বাড়িটি করার সময় দ্বিতীয় তলা করার পর টাকা ফুরিয়ে গেলে শেখ হাসিনার কাছে ধারচান। তখন শেখ হাসিনা তৃতীয় তলা তার নিজের নামে লিখে নিয়ে তারপর ডঃ ওয়াজেদকে টাকা দেন। অবশ্য এই বাড়িতে ডঃ ওয়াজেদ মিয়া আর শেখ হাসিনা একসঙ্গে একটি রাতও কাটাননি।

 

শুধু এই বাড়িতে কেন, ১৯৮১ সালের ১৭ই মে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসার পর থেকেই ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (এর পরের অবস্থা জানা নেই। যদিও তথাপি বোঝা যায়, পাঠক যেই দিন পড়বেন, সেই দিন পর্যন্ত ধরে নিতে পারেন) এই ১৬/১৭ বছর এক সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে রাত কাটানো তো দূরের কথা, এক বাড়িতেই কখনো থাকেননি।

 

১৯৮১ সালে ১৭ই মে বাংলাদেশে আসার পর মাত্র কিছু দিন শেখ হাসিনা ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার মহাখালী সরকারি কোয়াটারে ছিলেন। শেখ হাসিনা যতদিন ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার সরকারি কোয়াটারে থেকেছেন। ততদিন ডঃ ওয়াজেদ মিয়া তাঁর কোয়াটারে না থেকে সরকারি রেস্ট হাউসে থাকতেন।এরপর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে তাঁর পিত্রালয় বঙ্গবন্ধু ভবনে চলে আসেন। বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে যান বিরোধী দলীয় নেত্রীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে।

 

তখন শেখ হাসিনা এবং তার স্বামী ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার ধানমন্ডি ০৫ নম্বর রোডের ৫৪ নম্বর বাড়িটি ভাড়া দেয়া ছিল। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ধানমন্ডি ০৫ নম্বর রোডের ৫৪ নম্বর বাড়িটির ভাড়াটিয়াদের এক প্রকার জোর করে তাড়িয়ে দিয়ে খালি করা হয় এবং তারপর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এই বাড়িতে আসেন।

 

এই বাড়িতে থেকেই নানা আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নির্বাচনের পর জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করোতোয়া, বর্তমানে গণভবন এ গিয়ে ওঠেন। শেখ হাসিনার এই দীর্ঘ ১৬/১৭ বছরের জীবনে ডঃ ওয়াজেদ মিয়া একটি রাতও শেখ হাসিনার সাথে কাটাননি।

 

এমনকি এই ১৬/১৭ বছরের জীবনে শেখ হাসিনা আর ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার ১৬/১৭ বারও দেখা পর্যন্ত হয়নি। তবে হঠাৎ মাঝে মধ্যে কদাচিৎ উদভ্রান্তের মতো ডঃ ওয়াজেদ মিয়া এসে হাজির হতেন।

 

কিন্তু‘ তিনি (ডঃ ওয়াজেদ মিয়া) শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো প্রকার আদর-আপ্যায়ণ পেতেন না। এমন কি সাধারণ সৌজন্য টুকুও শেখ হাসিনা ডঃ ১২৭ ১২৮ ওয়াজেদ মিয়াকে দেখাতেন না।

 

শেখ হাসিনা যখন বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসায় থাকতেন। তখন এক ঈদের দিনে সাধারণ দর্শনার্থীদের মাঝে সাধারণ দর্শনার্থীদের মতোই ডঃ ওয়াজেদ মিয়া শেখ হাসিনার সঙ্গে ঈদ মোবারক জানাতে এলেন।

 

কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আগত সকলের সাথে কুশলাদী বিনিময় করলেও তার স্বামী ডঃ ওয়াজেদের সাথে কোনো প্রকার কুশলাদী বিনিময় দূরে থাক, ভ্রুক্ষেপই করলেন না।

 

এমনকি তাকে (ডঃ ওয়াজেদ মিয়াকে) বসতে পর্যন্ত কেউ বললেন না। ডঃ ওয়াজেদ মিয়া কিছুক্ষণ করুণভাবে ফ্যাল ফ্যাল করে শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেড়িয়ে লনে, লন থেকে অসহায়ের মতো হাঁটতে হাঁটতে গেটের বাইরে চলে গেলেন।

 

একমাত্র শেখ হাসিনা আর তার খুবই ঘনিষ্ট কয়েকজন ছাড়া কেউ জানল না, বুঝল না এই ব্যক্তিটি কে। অনেক বার অসুস্থ হয়ে সোরওয়ার্দী হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে মাসাধিক কাল পড়ে থাকলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একটি বারের জন্যও তার স্বামী ডঃ ওয়াজেদ মিয়াকে দেখতে যেতেন না।

 

তথ্য সুত্র : আমার ফাঁসী চাই থেকে নেয়া।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ