সোমবার, ২১ আগষ্ট, ২০১৭

একজন গনতন্ত্রের প্রতীককে আর কত লাঞ্চনা ? আর কত বঞ্চনা?

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭ 54219 views 0
একজন গনতন্ত্রের প্রতীককে আর কত লাঞ্চনা ? আর কত বঞ্চনা?

সায়েক এম রহমান :

যে নেত্রীকে দুটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় প্রতি সপ্তাহে দুইবার করে বকশী বাজার বিশেষ জর্জ আদালতে জীবনের শেষ বয়সে এসে হাজিরা দিতে হয়, লেফ্ট রাইট করতে হয়।

 

যার পরিবার থাকা সত্বেও পরিবার নেই, বাড়ী থাকা সত্বেও বাড়ী নেই, ছেলে, পুত্র বধূ, নাতনি থাকা সত্বেও ছেলে-পুত্র বধূ-নাতনি নেই। যার আছে শুধু লাঞ্চনা আর বঞ্চনা। তিনি আর কেহ নন। তিনি হলেন, এদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, একজন গনতন্ত্রের প্রতীক, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

 

গত ৩০শে জানুয়ারী বকশী বাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড ময়দানে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জর্জ আদালতে ষড়যন্ত্রমুলক জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে হাজির হয়েছিলেন।

 

পাঠক, শাসক দল আজ তার ও তাদের নিজের নামের সব মামলা কোর্ট থেকে গুম করে, ৭৩ বৎসর বয়স্ক আর্থাইটিসে সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। যিনি আজ উপমহাদেশের গনতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া। সেই মানুষটিকে মিথ্যা মামলার ফাঁকে রেখে বিশেষ আদালতে পাঁচ ঘন্টা বসিয়ে রাখেন শুধু এককাপ চা দিয়ে। হায়রে নির্মমতা, হায়রে বর্বরতা!

 

নির্মমতা ও বর্বরাতার একটা সীমা থাকে। আজ যেন সবই অতিক্রম হয়ে গেছে। একজন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আর কত লাঞ্চনা, আর কত বঞ্চনা পোহাতে হবে।

 

যে মানুষটি ৩৪ বৎসর যাবৎ বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং গনতন্ত্রের জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। যিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে বুকে ধারন করে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে আপোষহীন নেত্রীতে পরিনত হয়েছেন। বারবার গনতন্ত্রের জন্য আন্দোলন  করে আজ ”গনতন্ত্রের প্রতীক” হয়েছেন।

 

যেই মানুষটি কারান্তরীন জীবনে হারিয়েছেন তাহার মমতাময়ী মাকে এবং তাহার স্নেহাশীষ প্রিয় ভাইবোনকে। অবরুদ্ধ থেকে খুইয়েছেন নারী ছেঁড়া ধন, প্রাণাধিক পূত্র আরাফাত রহমান কোকোকে। প্রতিহিংসার কারনে পঙ্গু বানিয়ে বড় সন্তান চিকিৎসার জন্য আজ দুরদেশী। যিনি আজ এতিম নাতনির কাঁধে ভর করে হাজির হন ক্যাঙ্গারু কোর্টে।

 

আজ ভাবতেই অবাক লাগে এত সব লাঞ্চনা, বঞ্চনা, নীপিড়ন, নির্যাতন কেন হচ্ছে? কারণটি এখানে পরিস্কার! অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করা এবং সেই বাকশাল ও সেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

 

বাধা শুধু একটাই বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান অর্থাৎ জিয়া পরিবার। যার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাম্বিত হয়েই জিয়া পরিবার ও দলকে নিঃশেষ করার একটা অভিপ্রায়। কিন্তু ইতিহাস বলে দিয়ে গেছে এই জাতীয় হীন চক্রান্ত কখনও সফল হয় নাই বরং যারাই এই পথে পা বাড়িয়েছে তারাই নস্যাৎ হয়েছে।

 

পাঠক অবশ্য অবগত, যে দল এবং দলের নেতারা এদেশের মানুষের জন্য, গনতন্ত্রের জন্য বারবার সংগ্রাম করে গনতন্ত্র প্রবর্তন করেছে। গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

ইতিহাস স্বাক্ষী, ১/১১ এর জরুরী সরকার আপোষহীন নেত্রীকে প্রশ্ন করেছিলো আপনার কাছে সন্তান বড় নাকি দেশ? তখন গনতন্ত্রের প্রতীক কেঁদেছেন। চোখের পানি ফেলতে ফেলতেই বলেছেন- দেশ।

 

দৃঢ় কন্ঠে আরও বলেছিলেন, এই দেশ আমার মা। এই দেশ আমার স্বামী। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন। আমি আমার মায়ের কাছেই থাকবো। আমার স্বামীর স্বপ্নের দেশেই থাকবো। আমি আমার দুই সন্তানকে আল্লাহর কাছে শুপে (সঁপে) দিয়েছি। আমি বেঁচে থাকবো আমার ১৬ কোটি সন্তানদের মাঝে।’

 

অশ্রু ভেজা কন্ঠে আরও বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের বাহিরে আমার কোন ঠিকানা নাই’।

 

অতঃপর তাহার সন্তান দ্বয়ের উপর শুরু হয়েছিল পৃথিবীর নিকৃষ্টতম নির্যাতন। জরুরী সরকার তাকে বাইফোর্সে বিমানে তোলার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছিল। সেই দিন আপোষহীন নেত্রী, গণতনন্ত্রের প্রতীক বাংলার চির সবুজের মাটিকে আঁকড়িয়ে ধরে ছিলেন আর বলেছিলেন, আমি আমার মায়ের কাছেই থাকবো, আমার দেশ আমি ছেড়ে যাব না। আমি আমার ১৬ কোটি মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। আমি আমার দুই সন্তানকে মহান আল্লাহর কাছে সঁপে দিলাম।

 

পাঠক আজ এক সন্তান শাসক দলের ষ্টীম রোলারের যন্ত্রনায় কাতরাতে কারতাতে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। আরেক সন্তান পঙ্গুত্ব নিয়ে চিকিৎসার জন্য দুর পরবাসী হয়ে আছেন।

 

আজ গনতন্ত্রের প্রতীককে এতিম নাতনির কাঁধে হাত রেখে আদালতে এসে পাঁচ ঘন্টা বসিয়ে থাকতে হয়, এক কাপ চা নিয়ে। এই হলো বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রীর বাস্তব দৃশ্য। এই হলো আজকের ক্যাঙ্গারু কোর্টের বাংলাদেশ।

 

আর অপর দিকে শাসক দলের নেতা নিজ নামের সব মামলা মোকাদ্দমা গুম করে, তাহার বোনের ছেলে ও নাতি-পুতি লইয়ে ভ্যানে করে রাজ্যে আনন্দ ভ্রমনে বের হন এবং ঘুরানো সেই ভ্যান চালকের উদারতার জন্য পুরস্কার দিয়ে বিমান বাহিনীতে পাঠান। কি আজব খেলা ? কি আজব তামাশা ? মানুষ কত নির্মম, নিষ্ঠুর ও প্রতিহিংসা পরায়ন।

 

আমাদের জানা উচিত অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, ক্ষমতার বাহাদুরী ও প্রতিহিংসা পরায়নের দায় কিন্তু শোধ করতেই হয় এবং তার জন্য মানসিক প্রস্তুতিও রাখতে হয়।

 

কারন মহান বিচারের মালিক, মহান সৃষ্টিকর্তা। শ্রষ্টার সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব হলো মানুষ। আর এই প্রতিটি মানুষই একদিন এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে।

 

তাই প্রতিটি মানুষই চায় জীবনের শেষ অংশটুকু প্রাণাধিক স্ত্রী-পুত্র-কন্যা পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাতে। এটাই থাকে শেষ জীবনের প্রতিটি মানুষের বড় সাধ।

 

কিন্তু শাসক দলের প্রতিহিংসার অনলে পুড়ে, সেই সাধ বুঝি পুরন হলো না গনতন্ত্রের প্রতীক এদেশের তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার।

 

যিনি ৩৪ টা বৎসর একাধারে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, দেশের সার্বভৌমত্ব ও গনতন্ত্রের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। আজ এদেশের মানুষ বিশ্বাস করে ইতিহাসের পাতায় তিনি থাকবেন ”গনতন্ত্রের প্রতীক” হয়ে এ দেশের মানুষের অন্তর আত্মায়।

 

বিধাতার কাছে আরজ করি এই পৃথিবীর মানুষের জীবনের শেষ অংশটুকু যেন হয় তাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা, পরিবার-পরিজন নিয়ে। সাথে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন নেত্রী, গনতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট আরজ করি- তাহারও জীবনের শেষ অংশটুকু যেন হয় তাহার প্রাণাধিক পরিবার-পরিজন নিয়ে ভরপুর।

 

 

Sayek M Rahman new

লেখক : সায়েক এম রহমান

লেখক :
সায়েক এম রহমান
লেখক, কলামিস্ট ও গবেষক

sayakurrahman@hotmail.com

.

.

***এখানে প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব, প্রথম নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।***

 

 

 

 

 

 

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • সবচেয়ে পঠিত

জনমত জরিপ

অং সাং সু চির নোভেল পুরুষ্কার প্রত্যাহার করার জন্য আপনারা কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
ব্রেকিং নিউজ