প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
নড়াইলে সুলতানের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নৌকা বাইচ দেখতে চিত্রা পাড়ে লাখো মানুষের ঢল
নড়াইলে সুলতানের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নৌকা বাইচ দেখতে চিত্রা পাড়ে লাখো মানুষের ঢল

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি : বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে নড়াইলের চিত্রানদীতে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বিস্তারিত আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে, শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে তিনটায় নড়াইল পুরাতন ফেরিঘাটে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার এমপি।

 

এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক ও সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, নড়াইল জেলা পরিষদ প্রশাসক  এডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, এডভোকেট নজরুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান হাসান, মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান হিলু ও সুলতান ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু ।

 

এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে প্রানআপের পৃষ্ঠপোষকতায় এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

 

চিত্রা নদীর পুরাতন ফেরিঘাট থেকে এসএম সুলতান সেতু (চিত্রা ব্রীজ) পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় নারীদের ৫টি ও পুরুষদের ১২টি নৌকা অংশগ্রহণ করে।

 

নৌকা বাইচে প্রথমে অংশ নেয় নারী প্রতিযোগিরা। পরে শুরু হয় পুরুষদের প্রতিযোগিতা।  চিত্রা নদীর দু’ধারে অবস্থিত বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ছাদে এবং গাছপালার ডালে বসে বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু আকর্ষনীয় এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।মহিলা ও পুরুষদের ঐহিত্যবাহী এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে আসা হাজারো শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলন মেলায় চিত্রা নদীর দু’পাড় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

 

নৌকা বাইচ চলাকালে শহরে লোকের ভিড়ে তিল ধরণের ঠাঁই ছিল না কোথাও। জেলার পাশ্ববর্তী গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাগুরা, যশোর, খুলনা এবং নড়াইলের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার সুলতান ভক্তরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নৌকাবাইচ দেখতে আসেন।

 

ঢাক-ঢোলের শব্দ, বাঁশির সুর ও কাঁসা-পিতলের ঘণ্টা বাজানোর ঝংকার এবং হেইয়্যা হেইয়্যা হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে নড়াইলের চিত্রানদীতে ঐহিত্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলন মেলায় চিত্রা নদীর দু’পাড় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নড়াইল সেজেছিল বর্ণিল সাজে।

 

নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ফাহিম শাহরিয়ার খান ও সরকারি লোহাগড়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র রেজওয়ান জানায়, ’সুলতান উৎসব ও নৌকা বাইচ’ আমাদের বাৎসরিক একটা আনন্দ উৎসব। সারা বছর ধরে আমরা অপেক্ষায় থাকি এ উৎসবের জন্য।

 

উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরাও ব্যস্ততম দিন কাটান।

 

একাধিক দশনার্থী এ প্রতিনিধিকে  জানান, নৌকা বাইচ আমাদের ভাল লাগে তাই প্রতিবছর দেখতে আসি। প্রতিবছর আমরা এদিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি। নারী-পুরুষ ও শিশু-বৃদ্ধের আগমনে এ নৌকা বাইচ  যেন পরিণত হয় মিলন মেলায়।

 

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ দেখতে চিত্রা নদীর দুই পাড়ে , বাড়ির ছাদে, গাছের ডালে বসে যে যেখান থেকে যে ভাবে পেরেছে সেভাবেই সবাই উপভোগ করেছে । এ আনন্দ উপভোগ করতে সবাই সারা বছর যেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিল।

 

আয়োজকরা জানান, সুলতান সবসময় গ্রামীণ বাংলার সাংস্কৃতিকে লালন পালন করতেন। তার চিত্রকর্মে গ্রামীন জীবন, জনপদ ও সংস্কৃতিকে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। আর তার সেই আজিবনের লালিত স্বপ্নকে ধরে রাখতেই প্রতিবছর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

 

এছাড়া গত বুধবার থেকে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চারদিন ব্যাপী সুলতান উৎসব উপলক্ষে সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠের সুলতান মঞ্চ চত্বরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আর্টক্যাম্প, চিত্রপ্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

এ উপলক্ষে নড়াইল সুলতান মঞ্চ চত্বরে বসেছে গ্রামীণ কুঠির শিল্পসহ বিভিন্ন পণ্যের ২৫টি ষ্টল। শেষদিনে এসব ষ্টলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভীড় ছিল লক্ষ্যণীয় ।